Kalyan Banerjee: ‘আমার সঙ্গে এমন হলে, সাধারণ মানুষের কী হবে?’ বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন কল্যাণ – Bengali News | TMC MP Kalyan Banerjee Gets Stolen 57 Lakhs Back, Says if I Am Duped, then what will Happen to Common People?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।Image Credit: TV9 বাংলা
কলকাতা: আর্থিক প্রতারণার শিকার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল ৫৭ লক্ষ টাকা! অবশেষে সেই টাকা ফেরত পেলেন কল্যাণ। কীভাবে প্রতারণা হল তাঁর সঙ্গে? কীভাবেই বা সেই খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত পেলেন, জানালেন তৃণমূল সাংসদ।
এ দিন, ৮ নভেম্বর তৃণমূল সাংসদ তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া আর্থিক প্রতারণার গোটা ঘটনাটি জানান। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি যখন বিধানসভার সদস্য ছিলাম, তখন আমার একটি অ্যাকাউন্ট ছিল। কলকাতা হাইকোর্ট মেইন ব্রাঞ্চের অধীনে এই সাব ব্রাঞ্চ অ্যাকাউন্ট ছিল। ১০-১২ বছর ধরে ডরম্যান্ট অ্যাকাউন্ট হয়ে যায় যেহেতু দীর্ঘদিন ব্যবহার করছিলাম না। এই অপরাধী কেওয়াইসি করে সেই অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করে। আমার ছবি সুপার ইমপোজ করা হয়েছিল। প্যান কার্ড সহ যাবতীয় নথি নকল দেওয়া হয়েছিল। আমি আমার পার্লামেন্ট অ্যাকাউন্ট যে ব্যাঙ্কে রয়েছে, স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়াকে জানাই। ৬ নভেম্বর পর্যন্ত ৫৭ লক্ষ টাকা তুলে নেয়। ৭ দিনের মধ্যে নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে এই টাকা তুলে নেয়। স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া সেই ৫৭ লক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছে। ওরা বলছে ব্যাঙ্কে প্রশাসনিক অংশে বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ পার্টে কোনও ভুল হয়েছিল।”
তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমার প্রশ্ন হল, আমি সংসদের সদস্য, তাই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষদের কী হবে? ব্যাঙ্ক প্রতারণা হচ্ছে খুব। আর এই সমস্ত ব্যাঙ্ক অর্থ মন্ত্রকের অধীনে। যদি আর্থিক প্রতারণা নিয়ে ইডি তৈরি করতে পারে, যারা রাজনৈতিক নেতাদের পিছনে সারাদিন ছুটছে, তাহলে কেন একটা সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে না? এটা রুখতে হবে।”
তিনি আরও যোগ করে বলেন, “সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক টাকা তোলার নিয়মে অনেক শিথিলতা এনেছে। আগে ৫ লাখের বেশি টাকা তুললেই ফোন আসত। যেভাব সাইবার প্রতারণা হচ্ছে, তাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই নিয়মে শিথিলতা কি গ্রহণযোগ্য?”
কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, “সাধারণ মানুষ ভরসা করে ব্যাঙ্কে টাকা রাখে। যদি এই ভরসা চলে যায়, তাহলে সব চলে যাবে। এখন ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে, অপরাধীরা চুরি করে নেবে, আর বাড়িতে টাকা রাখলে, নরেন্দ্র মোদী-নির্মলা সীতারামন তা নিয়ে নেবে। কোথায় যাব আমরা? ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং প্রতারণার বড় অস্ত্র হয়ে উঠছে।”