Mrima Hill and Forest: ভারত মহাসাগরের তীরের দেশে লক্ষ কোটির গুপ্তধন! পাহাড়-জঙ্গল হাতড়াচ্ছে আমেরিকা-চিন - Bengali News | Why Kenya’s Mrima hill and forest suddenly becomes focal point of global interest - 24 Ghanta Bangla News
Home

Mrima Hill and Forest: ভারত মহাসাগরের তীরের দেশে লক্ষ কোটির গুপ্তধন! পাহাড়-জঙ্গল হাতড়াচ্ছে আমেরিকা-চিন – Bengali News | Why Kenya’s Mrima hill and forest suddenly becomes focal point of global interest

Spread the love

ভারত মহাসাগরের কাছের একটা ছোট্ট জায়গা, নাম কোয়ালে কাউন্টি। আর এখানেই প্রায় ৩৯০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত মৃমা পাহাড়। দেখতে সাধারণ জঙ্গলের মতো হলেও এই এলাকার উপর এখন নজর গোটা বিশ্বের। তাবড় তাবড় রাষ্ট্রনায়করা ভাবছেন কীভাবে হাতে আনবেন এই এলাকাকে! তবে কী এমন হল যে এতদিন লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা সামান্য এক পাহাড় হয়ে উঠল মহামূল্যবান? কেনিয়ার কোস্ট প্রদেশে মোম্বাসার কাছে ঘন অরণ্যে পরিবেষ্টিত একটা পাহাড়। আশপাশে কিছু জনবসতির বাস, তবে আধুনিক প্রযুক্তি এখনও পৌঁছয়নি এই এলাকায়। তবে এই পাহাড় ও বনানীই এখন চিন-আমেরিকার প্রবল আগ্রহের জায়গা। ক্রমবর্ধমান স্থানীয় উত্তেজনার কারণও এই প্রকৃতিই, কিন্তু কেন? কারণ জানলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।

এই সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বর্তমানে তীব্রতর

কেনিয়ার দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলে জঙ্গলে ঘেরা ছোট্ট পাহাড়টির নাম মৃমা। বিজ্ঞানীদের দাবি, ছিমছাম মৃমার ঘন জঙ্গলের ঠিক তলায় লুকিয়ে রয়েছে বিরল খনিজ পদার্থের বিশাল ভান্ডার। সেই ভান্ডার হাতে এলেই স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যানবাহন হোক বা পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবস্থা, সব কিছু তৈরি করা যাবে নিমেষে, আসবে যুগান্তকারী পরিবর্তন! সোনার চেয়েও অধিক মূল্যবান এই খনিজ ভান্ডারের প্রতি ইতিমধ্যেই আকৃষ্ট আমেরিকা, চিন এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ। বিশ্ব উষ্ণায়নের আক্রমণের সামনে ক্ষতবিক্ষত আমাদের প্রকৃতি, আমূল বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে কার্বন নির্গমন আরও কমাতে সচেষ্ট সব দেশই। এক্ষেত্রে দুর্লভ খনিজ এবং নমনীয় রূপান্তর ধাতু নিওবিয়ামের ভান্ডার আরও সহায়ক হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। ফলত এই সম্পদ কুক্ষিগত করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বর্তমানে তীব্রতর হয়ে উঠেছে। দেশগুলোর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে আশপাশের প্রাচীন সম্প্রদায়গুলি তাদের ভূমি, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আজ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার সম্মুখীন। কেনিয়ার উন্নয়নের জন্য একদিকে সুযোগের জোয়ার এনেছে মৃমা, অপরদিকে শক্তিমানের মাত্রাছাড়া শোষণের ক্ষেত্রও তৈরি করছে এই আরণ্যক পাহাড়…

মৃমার গর্ভে থাকা ভান্ডারের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকা

ব্রিটেন এবং কানাডার খ্যাতনামা সংস্থা ‘প্যাসিফিক ওয়াইল্ডক্যাট রিসোর্সেস’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘কর্টেক মাইনিং কেনিয়া’র ২০১৩ সালের এক প্রতিবেদন এই খনিজের ভান্ডার সম্পর্কে বেশ কয়েকটি তথ্য তুলে ধরেছে। অনুমান করা হয়েছে, এই মৃমার গর্ভে থাকা ভান্ডারের মূল্য প্রায় ৬২৪০ কোটি ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকা! এইবার আপনার মনে হচ্ছে, কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজ যে এত দাম? মৃমা পাহাড়ে পাওয়া খনিজের তালিকায় সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য নিওবিয়াম, এই ধাতু শক্তিশালী ইস্পাত তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। পরিবেশের ক্ষতি করে না এমন প্রযুক্তিতেও ব্যবহৃত হয় নিওবিয়াম।

আফ্রিকার খনিজ সম্পদের উপর বেশ নজর রয়েছে ওয়াশিংটনের

এইবার রাজনৈতিক অচলাবস্থাটা দেখুন জাস্ট। মৃমা পাহাড়ের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিদেশি শক্তিগুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। গত জুনে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্ক ডিলার্ড এই মৃমা পাহাড় সংলগ্ন স্থানটি পরিদর্শন করেন, ফলে এটা অন্তত স্পষ্ট যে আফ্রিকার খনিজ সম্পদের উপর বেশ নজর রয়েছে ওয়াশিংটনের! প্রায় একই সময়ে একদল চিনা নাগরিক জঙ্গলে প্রবেশের চেষ্টা করে, স্থানীয় রক্ষীরা তাঁদের বাধা দেন। সম্প্রতি, অস্ট্রেলিয়ার সংস্থা ‘রেয়ারএক্স’ এবং ‘ইলুকা রিসোর্সেস’ও এই অঞ্চলে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছে। একটা ছোট্ট এলাকা ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা যে তীব্র হয়ে উঠছে, এতেই সেটা স্পষ্ট।

বিদেশি সংস্থাগুলি মুনাফা কামাবে, জমি হারাতে হবে মৃমার বাসিন্দাদের?

অন্যদিকে গোটা বিশ্বের নজর একসঙ্গে পড়ায় মৃমার আশপাশের মানুষের মনে আশা এবং উদ্বেগ—দুই-ই তৈরি ধরছে। স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছে মৃমা পাহাড় এবং আশপাশের বনাঞ্চল ভীষণ পবিত্র। আর তাই অরণ্যকে রক্ষা করতে সংগ্রাম চালাচ্ছে ডিগো জনগোষ্ঠীর নাগরিকরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ডিগোদের খাদ্য, ওষুধ এবং আধ্যাত্মিক আশ্রয় দিয়েছে মৃমা পাহাড়ের ঘন জঙ্গল। অরণ্যের গভীরে তাদের আরাধ্য দেবতার মন্দিরও রয়েছে। মৃমার বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বিদেশি সংস্থাগুলি মুনাফা কামাবে, মাঝখান থেকে হয়তো জমি হারাতে হবে তাঁদের। যদিও খনি নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত প্রাচীন এই সম্প্রদায়ের, সবাই কিন্তু খনির বিরোধিতা করছেন না।

কেনিয়ার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

ভারতবর্ষ বা বাংলাদেশ-পাকিস্তান শুধু নয়, দুর্নীতির পোকা যে কেনিয়াকেও কুড়ে কুড়ে খেয়েছে এতদিন! সেই দেশের খনি খাত দীর্ঘ দিন ধরে দুর্নীতি, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতার অভাবের সঙ্গে যুঝছে। ২০১৩ সালে, কেনিয়ার সরকার পরিবেশগত এবং লাইসেন্স সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে ‘কর্টেক মাইনিং কেনিয়া’ সংস্থার লাইসেন্সও বাতিল করে। কেনিয়া সরকার আরও খনি খননের কথা ভাবছে যেখানে, সেখানে বিশেষজ্ঞেরা আগাম সতর্ক করে দিয়েছেন। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ছাড়া খনি খননে কেনিয়ার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য টলে যেতে পারে অচিরেই। ফলে পরিবেশ ধ্বংস না করে স্থানীয়দের ঐতিহ্য রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে প্রাকৃতিক সম্পদের সুবিধাগুলি জনগণের কাছে পৌঁছোনো এখন কেনিয়ার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *