Deepfake AI Video: এআই: আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? - Bengali News | Deepfake AI Video: Artificial Intelligence: Blessing or Curse? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Deepfake AI Video: এআই: আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ? – Bengali News | Deepfake AI Video: Artificial Intelligence: Blessing or Curse?

Spread the love

এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্রমাগত বদলে দিচ্ছে আমাদের জীবনের গতিপথ। রান্নার রেসিপি থেকে অফিসের পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন, সবই এখন বলে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এমনকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে চলে আসবে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা, যে কি না মানুষের মতোই কথা বলতে পারবে আপনার সঙ্গে। তাকে আলাদা করে প্রশ্ন করার আগেই আপনার সামনে হাজির করবে সেই সব প্রশ্নের উত্তর। কিন্তু এই আলোকবর্তিকার ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে নিকষ অন্ধকার। ঠিক ছোটবেলায় আমরা যেমন রচনা পড়তাম, বিজ্ঞান আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ। ঠিক একই ভাবে আমরা প্রশ্ন তুলতে পারি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ?

ছবি থেকে মুহূর্তে ভিডিয়ো!

কয়েক বছর আগেও রিয়েলিস্টিক ভিডিয়ো তৈরি করা প্রায় অসম্ভব ছিল। বা সেটা তৈরি হলেও বোঝা যেত যে সেই ভিডিয়ো অ্যানিমেশনের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। আর বর্তমানে সেই ক্ষমতা চলে এসেছে আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষের হাতে। একাধিক এমন এআই প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যারা শুধুমাত্র একটি স্টিল ছবি থেকে একেবারে আসলের মতো ভিডিয়ো বানিয়ে দিচ্ছে। আর এই জায়গাটাই ভয় ধরাচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে বিশেষজ্ঞদের মনে। GrokAI এর মতো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম এই কাজ করতে সিদ্ধহস্ত। গ্রকের প্যারেন্ট সংস্থা এক্স এআই-এর সিইও ইলন মাস্ক এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ শেষ হওয়ার আগে গ্রক এমন সিনেমা বানাবে যা দেখার যোগ্য। এবং ২০২৭ সালের মধ্যে সত্যিই খুব ভাল সিনেমা বানিয়ে ফেলবে গ্রক”। ফলে এই ক্ষমতা এআই-এর জন্য যেমন একদিকে দারুন তেমনই এর অপব্যবহারও হতে পারে দারুণভাবে।

যে কোনও মানুষের মুখ ব্যবহার করে এমন একটি ভিডিয়ো তৈরি হতে পারে। এমন কিছু কথা আপনার মুখে বসানো হতে পারে যা আপনি কখনও বলেননি। আর এই ডিজিটাল প্রতিলিপি এতই নিখুঁত যে সাধারণ মানুষের পক্ষে আসল ও নকলের পার্থক্য বোঝা কার্যত অসম্ভব। আর একেই সহজ ভাষায় বলা হয় ডিপ ফেক।

ডিপফেকের থাবা

সামনেই আসছে নির্বাচনের মরসুম। আর তাই নিয়েই চিন্তায় দেশের আইনপ্রণেতারা। কারণ, এই সময় ডিপফেকের সবথেকে বড় শিকার হতে পারেন রাজনীতিবিদরা। নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে কিন্তু কোনও তথ্য বা প্রমাণের দরকার নেই। একটি জাল ভিডিয়ো তৈরি করে তা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করলে, তা ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগে না। আর এমন হলে প্রভাবিত হবে জনমতও। কোনও প্রার্থীর একটি ভুয়ো স্বীকারোক্তি বা আপত্তিকর মন্তব্যের ভিডিয়ো ভোটের আগে ভাইরাল হলে কেঁপে যেতে পারে সেই রাজনৈতিক দলের ভিত্তিই।

কীভাবে হতে পারে জালিয়াতি?

আচ্ছা ধরুন আপনি কোনও এক রাজনীতিবিদের একটি ছবি নিলেন। তারপর গ্রকের এই ওয়েবসাইট খুলে ইম্যাজিনে গেলেন। সেইখানে ওই রাজনীতিবিদের ছবি আপলোড করে শুধু প্রম্পট দিতে হবে। দেখবেন, আপনি যা চাইছেন সেটাই তাঁকে দিয়ে বলাতে পারছেন। ভাল চাইলে ভাল, খারাপ চাইলে খারাপ। একই ভাবে ধরুন কোনও সেলিব্রিটি, তাঁকে নিয়েও এমন করা হতে পারে। আবার কোনও সাধারণ মানুষকে নিয়েও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এমন করতে করতে পারে যে কেউ।

ফলে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভুল তথ্য বা প্রোপাগান্ডা খুব সহজেই ছড়ানো যাবে। আর সেই তথ্য যাচাই করার আগেই হতে পারে বিরাট ক্ষতি। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ-প্রশাসনও এমন ডিপফেকের শিকার হতে পারে।

সম্মানহানি ও সামাজিক হয়রানি

এই ধরনের ডিপফেকের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতগ্রস্ত হতে পারে দেশের সাধারণ মানুষ। কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্তের এমন ভিডিয়ো কেউ বানিয়ে ভাইরাল করে দিতে কয়েক মুহূর্তও লাগবে না। আর তার ফলে, ওই ব্যক্তি এই ভিডিয়ো যে ডিপফেক তা প্রমাণ করার আগেই তাঁর যা যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে যাবে। সম্মানহানি থেকে শুরু করে মানসিক চাপ, ওই ব্যক্তির জীবন তখন হয়ে উঠতে পারে নরকের চেয়েও ভয়াবহ।

কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

এই পরিস্থিতিতে কী করণীয়? প্রযুক্তিগত, আইনি ও সামাজিক—এই তিন স্তরেই আমাদের রক্ষা কবচ তৈরি করতে হবে। এর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও আইনিভাবে এই ডিপফেককে ঠেকানোর হাতিয়ের রয়েছে দেশের সরকারের হাতেই।

  • ১. প্রযুক্তিগত সমাধান: এআই মোকাবিলা করতে ব্যোবহার করতে হবে এআইকেই। এআই ডিটেকশন টুল ব্যবহার করতে হবে। এআই ভিডিয়োতে ওয়াটারমার্ক করতে হবে ও ক্ষতিকারক কন্টেন্ট দ্রুত মুছে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • ২. আইনি সুরক্ষা: দেশে কঠোর আইন তৈরি করা জরুরি। যা অ-সম্মতিসূচক বা বিদ্বেষপূর্ণ ডিপফেক তৈরির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনগুলিতেও স্বচ্ছতা দরকার।
  • ৩. সামাজিক সচেতনতা: মিডিয়া লিটারেসি বাড়ানো আজ সবচেয়ে জরুরি। প্রতিটি নাগরিককে জানতে হবে, যে কোনও ভিডিয়োই সত্য নয়। ফলে, কোনও কিছু ফরোয়ার্ড করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা আপনার দায়িত্ব।

এআই কোম্পানির সাফাই কী?

এই প্রসঙ্গে Grok-এর মতো এআই কোম্পানিগুলি নিজেদের পক্ষে সওয়াল করেছে। তারা বলছে, তাদের উদ্ভাবনী সরঞ্জামগুলি তৈরি করা হয়েছে সৃজনশীলতা বাড়াতে, কারো ক্ষতি করার জন্য নয়। এই বিষয়ে কী মতামত, জানতে চেয়ে গ্রককে প্রশ্ন করা হয়েছিলও। গ্রক বলল, “তারা তাদের প্ল্যাটফর্মের নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কোনও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা শুধুমাত্র সেই প্রযুক্তির যে নির্মাতা, তার কাজ নয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গোটা সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব”।

আসলে, এআই আমাদের সামনে এক নতুন পৃথিবী নিয়ে এসেছে—যা একদিকে সম্ভাবনাময় আবার অপরদিকে বিপজ্জনক। সৃজনশীলতার এই নতুন যুগে পা রেখে যদি আমরা ডিপফেকের মতো ডিজিটাল জালিয়াতির বিরুদ্ধে সজাগ না হই, তবে আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস দু’টিই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। ফলে, আগামী এই প্রযুক্তির আরও উন্নতি ও এই ধরনের জালিয়াতি ঠেকানো, এই দুই বিষয়ই খেয়াল রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *