Gold vs Silver: এবার ধনতেরাসে সোনা না রুপো; কোথায় বিনিয়োগে লাভ বেশি? – Bengali News | Gold vs Silver: Gold or silver this Dhanteras; Which investment has more profit?
ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০২৫ সালটা বেশ অদ্ভূত। এই বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রায় ৭ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল নিফটি ৫০। যদিও তারপর এই সুচক রিকভার করে ও মার্চ থেকে অক্টোবরের মধ্যে সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েও যায়। আবার অন্য দিকে জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে লাফিয়ে বেড়েছে সোনা ও রুপোর দাম। বাজারের এই টালমাটাল দৌড়ের মধ্যেও সোনা আর রুপো যে ধারাবাহিক ভাবে বেড়েছে তাতে প্রশ্ন এখানে একটাই। সোনা নাকি রুপো, এই বৃদ্ধির যুদ্ধে কে এগিয়ে? আপনাকে যদি বিনিয়োগ করতে হয় তাহলে কোথায় বিনিয়োগ করা এই মুহূর্তে নিরাপদ?
সোনার দাম বাড়ছে কেন?
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ডলারের নিরিখে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৪৮ শতাংশের কাছাকাছি। ভারতীয় বাজারে এই বৃদ্ধির হার আরও বেশি। কারণ জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ডলারের দামও বেড়েছে প্রায় ৩.৪৫ শতাংশ। আর সেই কারণেই ভারতে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ক্রমাগত সোনা কেনা; এই সবের কারণেই সোনার দাম এতটা বেড়ে গিয়েছে এক বছরের মধ্যে।
সোনাকে বিনিয়োগকারীরা ‘নিরাপদ আশ্রয়’ বা Safe Haven হিসেবে মনে করে। কারণ, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়লেই সাধারণ বিনিয়োগকারী থেকে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো ঝুঁকি এড়াতে সোনা কিনতে থাকেন। আর এই বছর ঠিক সেই প্রবণতাই দেখা গিয়েছে।
রুপোয় বিনিয়োগে কতটা লাভ?
এই বছর দাম বৃদ্ধিতে সোনাকেও টেক্কা দিয়েছে রুপো। আর সেটাতে অনেকে চমকালেও এর কিছু কারণও রয়েছে। ডলারের তুলনায় রুপোর দাম বেড়েছে প্রায় ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, ভারতীয় বাজারে এই বৃদ্ধি প্রায় ৬৮ শতাংশ। কিন্তু রুপোর এই বৃদ্ধি শুধুমাত্র শুধুমাত্র দামি দাতু হিসাবে নয়। একাধিক শিল্পে রুপোর ব্যবহার দেখা যায়। আর সেই কারণেই দাম বাড়ে রুপোর। সোলার প্যানেল, একাধিক ইলেকট্রনিক্স চিপ বা সার্কিট তৈরিতে কাজে লাগে রুপো। আর সেই সব ক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ছে এই ধাতুরও।
সোনা নাকি রুপো; বিশেষজ্ঞদের কী মত?
অঙ্কের বিচারে এই বছর রুপোর দাম বেশি বাড়লেও বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই সোনায় বিনিয়োগের কথা বলছেন। তার একটা বড় কারণ হল ঐতিহাসিক ভাবে সোনা মুদ্রাস্ফীতি প্রতিরোধী হিসাবে পরিচিত। এর তুলনায় রুপো অনেক বেশি অস্থির বা ভোলাটাইল। কারণ, রুপোর দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে রুপোর শিল্পে চাহিদার উপর। যদিও সোনা বা রুপো এই বছরে একটা ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। এর তুলনায় অন্য কোনও অ্যাসেট ক্লাস সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি।
বিনিয়োগের উপায়: ডিজিটাল না ফিজিক্যাল?
সোনার বা রুপো, দুইই ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল, দুই ভাবেই কেনা যায়। ডিজিটাল বলতে বন্ড, ইটিএফ বা ফান্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে। আবার ফিজিক্যাল বলতে দোকান থেকে কেনা গয়না বা বার। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যদি সোনায় বিনিয়োগ করতে চায় তাহলে ইটিএফ, বন্ড বা গোল্ড ফান্ডের পাশাপাশি সোভেরেইন গোল্ড বন্ডেও বিনিয়োগ করা যায়। বর্তমানে সরকার যদিও সোভেরেইন গোল্ড বন্ড আলাদা করে বাজাছে ছাড়ছে না। সেই ক্ষেত্রে সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে বন্ড কেনে অনেকেই।
আগামীতে কী হবে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সোনা বা রুপোর মতো ধাতুগুলোর দাম এই ভাবে হুহু করে বেড়ে যাওয়ার পর এতে একটা হালকা কারেকশন দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে ছবিটা উজ্জ্বল বলেই মনে করছেন তাঁরা। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক চাপ ও ফিউচার মার্কেটে সোনার চাহিদার ফলে দাম কমার সম্ভাবনা বেশ কম। তাই যে কোনও পতনের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসেট কেনার কৌশল ধরে রাখতে বলছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা। আর এই ধরণের বিষয়ে আরও জানতে চাইলে নজর রাখুন টিভি নাইন ডিজিটালে।
কোথাও বিনিয়োগ করতে চাইলে সেই বিষয়ে যথাযথ তথ্যানুসন্ধান ও বিশ্লেষণ করুন। এই লেখা শুধুমাত্র শিক্ষাগত উদ্দেশ্যে। TV9 বাংলা বিনিয়োগের কোনও উপদেশ দেয় না।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যে কোনও বিনিয়োগে বাজারগত ঝুঁকি রয়েছে। ফলে, আগে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত নথি সাবধানে পড়ে নেবেন। তারপর বিনিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।