ঠাকুর দেখানোর নাম করে নিয়ে গিয়ে বহরমপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ, গ্রেফতার তিন যুবক
দুর্গাপুজোর আনন্দঘন আবহেই লজ্জাজনক ঘটনা। ঠাকুর দেখাতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের সাটুই এলাকায়। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, এবং তাঁদের আদালতে তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: তামিনাড়ুতে নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ! জনগণের সাহায্য চাইল পুলিশ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাটুই থানার পোড়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ওই নাবালিকা নবমীর রাতে প্রতিবেশী এক যুবকের কথায় ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই যুবকের সঙ্গে নাবালিকার পূর্ব পরিচয় থাকায় সন্দেহ জাগেনি। কিন্তু বেরোনোর পর ফাঁদ পাতা ছিল আগেই। এলাকার একটি কার্লভাটে অপেক্ষা করছিল আরও দুই যুবক। তারা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বসেছিল। অভিযোগ, তিনজন মিলে নাবালিকাকে জোর করে টেনে নিয়ে যায় একটি ইটভাটায়। সেখানেই ঘটে গণধর্ষণের ঘটনা। কোনওরকমে বাড়ি ফিরে নির্যাতিতা পরিবারের কাছে গোটা বিষয়টি জানায়। রাতেই সাটুই ফাঁড়িতে অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর পুলিশ সুব্রত ঘোষ, মনোজ ঘোষ এবং সুমন মণ্ডল নামে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
ধৃতদের বিরুদ্ধে পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বহরমপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। বর্তমানে নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্তদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে যাতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উৎসবের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া হওয়া উচিত ছিল। তাঁরা জানান, দুর্গাপুজোর মতো বড় উৎসবে কিশোরী ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত ছিল। ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠেবহরমপুরের সাটুই এলাকা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।