Explained: ফুঁটো করতে পারবে না রাশিয়া, এমন 'পাঁচিল' বানাচ্ছে EU- NATO - Bengali News | - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: ফুঁটো করতে পারবে না রাশিয়া, এমন ‘পাঁচিল’ বানাচ্ছে EU- NATO – Bengali News |

Spread the love

১. রাশিয়া সীমান্তে উঁচু পাঁচিল তৈরি করছে এস্টোনিয়া। বসাচ্ছে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ডিফেন্স সিস্টেম ও বাঙ্কার।

২. পোল্যান্ড সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৫ লক্ষে নিয়ে যাওয়ার পাকা পরিকল্পনা করে ফেলেছে। দেশের সব যুবদের সেনা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

৩. জার্মানি প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপি-র প্রায় ৪ শতাংশের কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে রুশ আগ্রাসনের মোকাবিলায়।

৪. লিথুয়ানিয়া-র মতো ছোট দেশও সামরিক মহড়া শুরু করেছে।

উপরে চারটি ছোট ছোট উদাহরণ দিলাম মাত্র।

আসলে বাল্টিক থেকে কৃষ্ণসাগরের ধার জুড়ে থাকা রাশিয়া-বেলারুশ-ইউক্রেন সীমান্তবর্তী দেশগুলি এখন রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ ভালমতোই টের পাচ্ছে। ছোট ছোট ইউরোপীয় দেশগুলিও দিব্যি বুঝতে পারছে, রুশ প্রেসিডেন্ট শুধুমাত্র ইউক্রেন দখল করেই থামবেন না। ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, আবার অবিভক্ত রাশিয়া গড়ার স্বপ্ন দেখছেন পুতিন! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৯৪৯-এ, অবিভক্ত সোভিয়েতের আগ্রাসন রুখতে ইউরোপীয় দেশগুলি নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন না NATO তৈরি করেছিল ফিরে এসেছে সেই পুরনো আশঙ্কা। তাই NATO এবার নিজেদের ‘ত্রুটিপূর্ণ’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সারাইয়ের কাজে নেমেছে। তারই প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে উপরের চারটি উদাহরণে। তবে ইউরোপের মূল আশঙ্কার কারণ, রাশিয়ার হাতে থাকা অত্যাধুনিক সব ড্রোন। আর তাই এবার ড্রোন-হামলা প্রতিরোধে সীমান্তে ‘ইলেকট্রিক পাঁচিল’ তুলে ইউরোপকে দুর্ভেদ্য করতে চায় ন্যাটো ও ইউরোপিয়ায় ইউনিয়ন (EU)। এই মর্মে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা গত শুক্রবার ব্রাসেলসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একমত হয়েছেন, ইউরোপের আকাশপথকে সুরক্ষিত রাখতে ‘ড্রোন-ওয়াল‘ গড়ে তোলা হবে।

SECURITY

কীভাবে কাজ করবে নয়া পাঁচিল?

বোঝার সুবিধার জন্য পাঁচিল বা দেওয়াল বলছি বটে, আসলে এটা বহুস্তরীয় ডিফেন্স ইকো-সিস্টেম। ন্যাটো-র ইস্টার্ন ফ্ল্যাঙ্কে ইউক্রেন-কে মূল সহযোগী করে, তাদের কাছ থেকে ড্রোন-যুদ্ধের অভিজ্ঞতাকে গ্রহণ করে রুশ হামলা-প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়বে EU। ইউরোপীয় দেশের সীমান্ত জুড়ে বসবে ডিটেকশন ও ট্র্যাকিং সিস্টেম। যেগুলি নিচু দিয়ে হঠাৎ উড়ে আসা ড্রোনের গতিবিধিকে ট্র্যাক করবে। তারপরের ধাপে জ্যামিং ও ড্রোন সিগন্যালকে রুখে দেওয়া হবে। যাতে সেগুলি যারা অপারেট করছে তাদের কাছে ড্রোনগুলির আর কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকে। তৃতীয় ধাপে মাটি থেকে গুলি ছুঁড়ে ড্রোনগুলিকে ধ্বংস করা হবে। সামগ্রিক এই ব্যবস্থাকে ‘ইলেকট্রিক ওয়ারফেয়ার‘ বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। ইউক্রেনকে ৭ বিলিয়ন ডলার শুরুতেই, পরে আরও ১৫০ বিলিয়ন ডলার, এস্টোনিয়া-লিথুয়ানিয়া-র মতো ছোট দেশকে ১২ মিলিয়ন ডলারের অর্থ সাহায্য করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই টাকার বেশিরভাগটাই আবার রাশিয়ার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি।
DRONE WALL
আসলে হাজার দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই ইউরোপের আকাশপথে বারবার রুশ আগ্রাসনের অনুপ্রবেশ ন্যাটো-র উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মাসের শুরুতেই পোল্যান্ডের আকাশপথে ২৪টি রুশ ড্রোন ঢুকে পড়ে। সেগুলি গুলি করে নামাতে হয় সেনা-কে। তখনই প্রমাণ হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার ন্যাটো-র ডিফেন্স বড়সড় ফাঁক রয়েছে। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যায় এস্টোনিয়াতেও। সেখানে তো আবার ড্রোন নয়, একেবারে রুশ মিগ যুদ্ধবিমান ঢুকে পড়ে। তড়িঘড়ি ন্যাটো সদস্যদের যৌথ সেনা যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে রুশ বিমানকে তাড়া করে ফেরত পাঠায়। ইউরোপের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এখন বলছেন, যুদ্ধবিমান বা মিসাইল হামলার হাত থেকে বাঁচার জন্য ন্যাটো-র সেনা নাহয় তৈরি রয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুদ্ধে মাথাব্যথা ড্রোন হামলা। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধে এমন সব ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া, যেগুলির আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কী করতে হবে, সেটা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না ইউরোপের তাবড় দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরাও! ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিফেন্স কমিশনার এন্ড্রিউজ ক্যাবিলাস ভার্চুয়ালি ১০টি দেশকে নিয়ে বৈঠকে বসে বলেন, ‘বারবার ইউরোপের সীমান্ত লঙ্ঘন করে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিচ্ছে ক্রেমলিন। আমাদের জবাবও সম্মিলিত ও তীব্র হওয়া জরুরি।’

ক্রেমলিন যে আগ্রাসন থামাবে না সেটা ভালমতো বুঝতে পেরেই এবার ডিফেন্স সিস্টেম-কে ঢেলে সাজাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলি। তারই সর্বাধুনিক পদক্ষেপ- এই ‘ড্রোন-পাঁচিল’। কোপেনহেগেন-এ আসন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকের মূল অ্যাজেন্ডা হতে চলেছে এই ড্রোন-ওয়াল। অক্টোবরে ব্রাসেলসে পরবর্তী বৈঠকে সেই সব দেশকে অর্থ সাহায্য করা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে যারা ড্রোন-ওয়াল তৈরিতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ করতে ব্যর্থ হবে। ফিনল্যান্ড, এস্টোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, পোল্যান্ড ইতিমধ্যেই ড্রোন-ওয়াল তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। ইউরোপ বনাম রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধে আচমকা ড্রোন হামলা এখন এক নয়া মাত্রা যোগ করেছে। পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী তো সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেই দিয়েছেন, ‘রাশিয়ার কাছ থেকে হুমকির মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। আমাদেরও আর কোনও দয়া-করুণা দেখালে চলবে না।’ তিনিই ইউরোপের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘শুধু পূর্ব ইউরোপ-ই আক্রান্ত এটা ভাবার কারণ নেই। কাছাকাছি যে কোনও যুদ্ধজাহাজ বা ডুবোজাহাজ থেকেও রাশিয়া ড্রোন পাঠাতে শিখে গেছে।’ এটাই এখন ইউরোপের বাস্তব ছবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ইউরোপবাসীকে সতর্ক করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসন। সুইডেন জানিয়েছে, ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ছোট দেশগুলিকে তারা ঋণ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করতে প্রস্তুত। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন আসন্ন কোপেনহেগেন সম্মেলনে এই প্রস্তাব পেশ করতে চলেছেন। দ্রুতই ইউরোপের ২৭ জন রাষ্ট্রপ্রধান এক টেবিলে বসে এই ড্রোন-ওয়ালের প্রস্তাবকে বাস্তবে পরিণত করবে বলে মন্তব্য করেহসান ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন। এর জন্য প্রাথমিকভাবেই খরচ হবে অন্তত ৭ বিলিয়ন ডলার। এর জন্য প্রয়োজনে যে ইউক্রেন প্রায় ১০০০ দিন ধরে রাশিয়ার সঙ্গে লড়ছে, তাদের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া হবে।

SECURITY

বাস্তবিকই পুতিনের আগ্রাসন এখন লাগামছাড়া। শুধু ডেনমার্কেরই অন্তত পাঁচটি বিমানবন্দরের কাছে রুশ ড্রোনের সন্দেহজনক গতিবিধি দেখতে পাওয়া গেছে। এমনকী, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত কোপেনহেগেন বিমানবন্দর-সহ একাধিক বিমানবন্দরকে বন্ধ করে দিতে হয় হামলার আশঙ্কায়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ন্যাটো-র তরফে রাশিয়াকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, পুতিন আর একবারও আগ্রাসন দেখালে ন্যাটো সদস্য দেশগুলি সম্মিলিতভাবে ‘আর্টিকল ৪’ লাগু করবে। যার মানে, এক দেশকে রুশ হামলা থেকে বাঁচাতে ন্যাটো-র আর এক দেশ ঝাঁপিয়ে পড়বে সর্বশক্তিতে। এমনকী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত তাঁর আলাস্কা বৈঠকে পুতিনের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া বন্ধুত্বের হাত এখন তুলে নিয়ে ন্যাটো-র এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, একটাও রুশ মিগ কোনও ইউরোপীয় দেশের সীমা লঙ্ঘন করলে ন্যাটো গুলি চালাতে পারে। ক্রেমলিন-ও হাত গুটিয়ে বসে না থেকে ন্যাটো-কে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে- একটা রুশ বিমানের গায়ে গুলি লাগলে সেটাকে যুদ্ধের প্ররোচনা বলেই ধরে নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *