Explained: সুশীলার যা একদিন, ইউনূসের তা এক বছর! কেন? - Bengali News | Sushila Karki Takes Charge as Nepal’s Caretaker PM, Sends Yunus Back to School With Lesson on Dignity - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: সুশীলার যা একদিন, ইউনূসের তা এক বছর! কেন? – Bengali News | Sushila Karki Takes Charge as Nepal’s Caretaker PM, Sends Yunus Back to School With Lesson on Dignity

Spread the love

কলকাতা: শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ-নেপাল (Sri Lanka, Bangladesh, Nepal) যেন এক সুতোয় বাঁধা। ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশের অন্দরে ফুঁসে উঠেছিল জনসাধারণ। উত্তাল হয়েছিল পরিস্থিতি। ২০২২-এ শ্রীলঙ্কা, ২০২৪ সালে বাংলদেশ এবং ২০২৫ সালে নেপাল। কিন্তু যা শ্রীলঙ্কা-নেপাল পেরেছে, তা কি বাংলাদেশ পারল? সর্বোপরী সুশীলা, তাঁর কাছে কিন্তু শিক্ষা নেওয়ার জায়গা ছিল এই দু’টি দেশ। একদিকে শ্রীলঙ্কা, অন্যদিকে বাংলাদেশ। সেই শিক্ষা সুশীলাকে (Sushila Karki) দিয়ে যা করাল, তা করে উঠতে পারেননি ইউনূসও। কিন্তু বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে কীভাবে প্রশ্নের মুখে ফেললেন সুশীলা?

সুশীলার শপথ

একদিকে শ্রীলঙ্কা, অন্যদিকে বাংলাদেশ। দু’টো বছর, দু’টো গণঅভ্যুত্থান। আর সেই দু’টোই দেখেছেন সুশীলা। দেখেছেন কীভাবে জনরোষ খেয়ে ফেলতে পারে একটা পচে যাওয়া সরকারকে। দেখেছেন তরুণদের গর্জন কাঁপাতে পারে মাইলের মাইল পথ। কিন্তু তিনি কি ভেবেছিলেন, এই গর্জন, এই জনরোষ, তাঁর দেশেও দেখা যাবে। তাঁর দেশেও তৈরি হবে গণঅভ্যুত্থান। তাঁর দেশেও বাংলাদেশের মতোই পথে নামবে তরুণ প্রজন্ম। আর যখন তাঁরা হুঙ্কার তুলবে, শেষ হয়ে যাবে আস্ত একটা সরকার।

শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ-নেপাল সামান্য কিছু বদল ছাড়া এশিয়ার প্রায় একই জল-বাতাসে গড়ে উঠেছে এই তিন দেশ। তিনটে বছর ঘুরে, তারা দেখেছে তিনটে গণঅভ্যুত্থান। যা ঘুরিয়ে দিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির মোড়।

কয়েক দিন আগের কথা। যার স্মৃতি এখনও তাজা। তরুণ বা GenZ প্রজন্মের বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে। সেখানকার সরকার মোট ২৬টি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ নিষিদ্ধ করায়, ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পথে নামে তরুণ জনতা। একেবারে ২০-২২ বছরের ছেলেমেয়ে। তবে এই সোশ্যাল মিডিয়া ছিল একটা অণুঘটক। আসল লড়াইটা ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে দুই থেকে তিনদিনের গণঅভ্যুত্থানে গোটা সরকার পড়ে যায়। পার্লামেন্ট চলে যায় তরুণদের দখলে। দাবি তোলা হয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের। এই সময় একাধিক নাম উড়ে বেড়িয়েছিল গোটা কাঠমান্ডু জুড়ে। কিন্তু সেই সবাইকে পেরিয়ে এগিয়ে আসেন নেপালের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানবিচারপতি সুশীল কারকি। তার ঘাড়েই সপে দেওয়া হয় দায়িত্ব।

গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা নাগাদ রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে গিয়ে শপথবাক্য পাঠ করেছেন সুশীলা। চোট পাওয়া নেপালের ‘কেয়ারটেকার’ প্রধানমন্ত্রী এখন তিনিই। আর বলে রাখা ভাল, ইতিহাস গড়ে হিমালয়ের কোলের ওই ছোট্ট দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীও তিনি। আর দায়িত্ব পেতেই সুশীলার সাফ কথা, ‘আমি এবং আমার দলের সদস্যরা ক্ষমতার স্বাদ নিতে আসেননি। আমরা কোনও মতেই ছয় মাসের বেশি থাকব না।’ আগামী বছরের ৫ই মার্চ সেদেশে নির্বাচন ঘোষণা করে দিয়েছেন সদ্যনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী।

চোখের সামনে দু’টি পথ

নেপাল উত্তপ্ত হওয়ার আগে গোটা দক্ষিণ-এশিয়া সাক্ষী থেকেছে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের। সাক্ষী থেকেছেন সুশীলাও। আর শিক্ষা নেওয়ার জন্য এই দুইকেই কি দাঁড়িপাল্লায় রেখেছিলেন তিনি? মেপেছেন কোন পথে যাওয়া শ্রেয় আর কোন পথে নয়? বুঝেছিলেন ক্ষমতার মোহ কীভাবে মানুষকে আষ্টেপিষ্ঠে ধরে ফেলে? একাংশ বলছেন, অবশ্যই বুঝেছিলেন। না হলে শপথগ্রহণের পরপরই নির্বাচনের কথা ঘোষণা করতেন না।

কীভাবে দাঁড়িপাল্লায় কেন শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ?

২০২২ সালের জুলাই মাসের কথা। আর্থিক মন্দার জেরে বিধ্বস্ত শ্রীলঙ্কা। উন্মত্ত হয়েছে জনতা। মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল পরিস্থিতি। একটা বড় অংশের পকেটে সামান্য পাউরুটি কেনার টাকা পর্যন্ত নেই। কারণ, তার দাম ততক্ষণে ছুঁয়ে গিয়েছে হাজার টাকার কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে জনতার রোষ পড়েছে প্রশাসনের উপর। রাষ্ট্রপতির বাসভবন থেকে সরকারি বাসভবন সবের দখল নিয়েছিল বিদ্রোহী জনতা। রাতারাতি দেশ ছেড়েছিলেন প্রেসিডেন্ট রাজাপক্ষ। তৈরি হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ১৫ই জুলাই ২০২২ সাল অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হলেন রণিল বিক্রমসিঙ্ঘে। আর এই ঘটনার সপ্তাহ কতকের মধ্য়ে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট পদে বসলেন তিনি। অবশ্য, তাঁর পদ পাওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি, আর নির্বাচন ঘোষণা মাঝে মাত্র কিছুটা সময়ের ব্যবধান। কিন্তু বাংলাদেশ?

পুলিশের গুলিতে আবু সায়দের মৃত্যু থেকে জনতার অভ্যুত্থান। বাংলাদেশ সাক্ষী থেকেছে ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম অধ্য়ায়ের। বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তুলে উপড়ে ফেলেছিল সেদেশের সরকারকে। তৈরি হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যার কাজ ছিল সংস্কার। কিন্তু তা কি হল? উল্লেখ্য, দিনকতক আগের একটা কথা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ শেখ হাসিনা-সহ তিন জনের বিরুদ্ধে চলা মানবতাবিরোধী মামলায় গোপন জবানবন্দি দিতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই জবানবন্দি দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগের কথা তুলে ধরেন তিনি। স্মৃতিচারণ করে তুলে ধরেন ইউনূসকে দেওয়া প্রস্তাবের কথা। নাহিদ বলেন, ‘গত বছরের ৪ঠা অগস্ট শাহবাগে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন চলছিল। তারপর সেদিনই ৬ই অগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি নির্ধারণ হয়েছিল। কিন্তু আমরা খবর পাই, সেই কর্মসূচি রুখতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট বন্ধ করে আন্দোলনকারীদের হত্য়া ও গায়েব করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সেই ভিত্তিতেই ঢাকা কর্মসূচি একদিন এগিয়ে নিয়ে আসা হয়। নতুন দিন নির্ধারিত হয় ৫ তারিখ।’

নাহিদের সংযোজন, ‘৫ই অগস্টের অভিযানের ২৪ ঘণ্টা আগে নতুন সরকার গঠনের জন্য মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা হয়। ৪ঠা অগস্টই নতুন সরকারের প্রধানের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয় তাঁকে।’ অর্থাৎ হাসিনার সরকার পড়ছে, নতুন অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি হচ্ছে, এই সবই পূর্ব পরিকল্পিত। আন্দোলনকারীরা জানতেন। জানতেন ইউনূসও। তিনি জানতেন, প্রধান উপদেষ্টা পদে বসার পর কী করতে হবে তাঁকে। কিন্তু তা কি হল?

সুশীলা পারলেন, ইউনূস না!

২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০২৫ সালে নেপাল দু’টো দেশের মধ্যে যেমন গণঅভ্যুত্থানের সাদৃশ্য রয়েছে। তেমনই সাদৃশ্য রয়েছে দ্রুত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার। অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি হয়েছে নির্বাচন করাতে। কিন্তু বাংলাদেশ যেন হেঁটেছে অন্য়পথে। সেখানে এখনও অন্তর্বর্তী সরকার। চলতি বছরই জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের দিনই বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের রমজান মাসের আগেই পদ্মাপাড়ে নির্বাচন হবে। তৈরি হবে নতুন নির্বাচিত, জনপ্রতিনিধির সরকার। কিন্তু এই একটা দিনক্ষণের ঘোষণায় এতটা কেন সময় লাগল? কোথাও গিয়ে নির্বাচনকে এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন ইউনূস? ক্ষমতার মোহ তাঁকে কি আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন। কিন্তু গত এক বছর ধরে ঘটা ঘটনাগুলি পক্ষান্তরে তার যেন উত্তর দিয়ে দেয়।

এই যেমন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরেই নানা দেশে সফর শুরু করলেন ইউনূস। কখনও গেলেন লন্ডন, কখনও গেলেন চিন। কোথাও গিয়ে বললেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান ‘পূর্বপরিকল্পিত’, কোথাও গিয়ে বললেন, ‘বঙ্গোপসাগরের অভিভাবক’ তারাই। ইউনূসের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় হল রাজনৈতিক মহল।

এই সময়কালে বাড়ল সেনার সঙ্গে দূরত্ব। যা অবশ্য কখনওই কোনও তরফে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু হাবভাবে সবটাই ধরা পড়েছে। এমনকি, রাখাইন সীমান্তে আরাকান বাহিনী যখন ‘প্রভাব’ বাড়াতে শুরু করে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাড়তে থাকে যন্ত্রণা, সেই সময় বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে পেরিয়ে ইউনূস বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তরে প্রথমবার তৈরি করে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ। তাতে বসানো হয় খলিলুর রহমানকে। যিনি আদতেই একজন অর্থনীতিবিদ।

আর শুধুই সেনা-প্রশাসনই নয়। ইউনূসকে ঘিরে ক্ষোভ চড়ে সাধারণ মানুষের মধ্য়েও। গোটা বছরে প্রায় একাধিকবার নানা ইস্যুতেই ইউনূসের বাসভবন যমুনা অভিযান করে পড়ুয়া, রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই। দেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হয়। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে ওঠে না কোনও কথা। শুধুই আলোচনা আর আলোচনা, এমনটাই অভিযোগ ওঠে। আসলে ক্ষমতা হয়তো এমনই। মানুষকে আষ্টেপিষ্ঠে জড়িয়ে রাখতে পারে। ইউনূসকেও কি তার মানে পেরেছিল?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *