অনির্বাণের পাশে কুণাল, হুলিগানদের ‘হুলিয়ে’ প্রশংসা – Bengali News | Kunal ghosh praise anirban bhattacharya for their puja song
প্রথম গানে সোজাসুজি রাজনীতি, আর দ্বিতীয়তে ‘পুজোর আবহ’। বরং বলা ভাল দুর্গা ঠাকুরের কাছে নালিশ! কিন্তু দ্বিতীয় গানেও অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও তাঁর ‘হুলি গান ইজ়ম’ টিম বুঝিয়ে দিল, তাঁদের গানে দুগ্গা থাকলেও , তাঁরা বাংলার রাজনীতি থেকে সরছেন না! প্রথম গানে সরাসরি রাজনীতির ময়দানের তিন ঘোষকে টানলেন, তীর্যক মন্তব্য করে রীতিমতো বোমা ফাটিয়ে ছিলেন অনির্বাণ। আর এবারটি গানের কথায় বিঁধলেন সোশাল মিডিয়ায় ‘টরে টক্কা’ চালানো নায়ক, নেতাদের। দ্বিতীয় গানেও বিতর্ক, বাংলায় ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাকে জুড়েছিলেন অনির্বাণ। সেই গান শুনে কেউ বলেছিলেন ‘মজা পেয়েছেন’, কেউ আবার বলেছিলেন ‘আর্টিস্টরা পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড’ নিক। আর এবার ওভাবে ঘুরিয়ে নাক না ধরে, ‘হুলি গান ইজ়ম’-এর নতুন পুজোর গানকে সরাসরি ‘হুলিয়ে’ প্রশংসা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ!
ব্য়াপারটা একটা বিশদে বলা যাক। অনির্বাণ ভট্টাচার্য ও তাঁর ‘হুলি গান ইজ়ম’ টিমের প্রথম গানের কথায় রাজনীতির ময়দানের ‘তিন ঘোষ’ (কুণাল ঘোষ, শতরূপ ঘোষ এবং দিলীপ ঘোষ)কে টেনে আনায়, হইচই পড়ে গিয়েছিল রাজনৈতিক পাড়ায়। অনেকেই মনে করেছিলেন তিন ঘোষকে শব্দের অ্যাটাক করে হয়তো মুশকিলে পড়বেন অনির্বাণ। হয়তো ‘তিন ঘোষ’, অনির্বাণকে পাল্টা দেবেন। কিন্তু ঘটেছিল উল্টোটাই। অনির্বাণের সেই গানকে ‘তীর্যক’ বলেও, কুণাল ঘোষ স্পষ্ট বলেছিলেন, আমার মজা লেগেছে, ভাল লেগেছে। গানের ধরন, উপস্থাপনাও উপভোগ করলাম। কুণাল ঘোষ এসব মজা নিতে জানে। ভাল থেকো অনির্বাণ।”
কুণাল ঘোষের মতোই পুরো বিষয়টিকে স্পোর্টিংলি নিয়েছিলেন বামনেতা শতরূপ ঘোষ। অনির্বাণের সেই গান শুনে বলেছিলেন, নতুন একটা গানের ব্যান্ড যেভাবে সোশ্যিও পলিটিক্যাল স্যাটায়ার করল সেটা আমার খুব ভাল লেগেছে। আমরা সবসময় চাই আর্টিস্টরা পলিটিক্যাল স্ট্যান্ড নিক। রাজনৈতিক মতামত থাক। আমার নাম নিয়েছে আমি তো কৃতজ্ঞ। যদিও ‘হুলি গান ইজ়ম’এর সেই গান নিয়ে মুখে টু শব্দটি করেননি দিলীপ ঘোষ।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ‘হুলি গান ইজ়ম’-এর দ্বিতীয় গান, যা কিনা এই ব্যান্ডের ‘পূজার গান’। বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে একের পর এক অন্যায় হয়ে চলেছে সেখানে মা দুর্গা কেন চুপ করে রয়েছেন, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে এই গানের মাধ্যমে। মহিষাসুরমর্দিনীকে তাড়াতাড়ি এসে সমস্ত অন্যায়ের বিচার করার আহ্বান জানানো হয়েছে, একটি সাধারণ মেয়েকে মা দুর্গার রূপে রূপান্তরিত করা হয়েছে অনির্বাণের এই গানে। প্রথম গানটির মতো, এই গানের লিরিক্সেও বাংলা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষত ফেসবুক বিপ্লবকে ‘খোঁচা’ দিয়েছেন অনির্বাণ। যদিও প্রথমবারের মতো ব্যক্তিগত আক্রমণকে বিরতিই দিয়েছেন।
কুণাল ঘোষের ফেসবুক পোস্ট-

অনির্বাণ ও ‘হুলি গান ইজ়ম’এর এই পূজার গান শুনে আপ্লুত তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ফেসবুকেও অনির্বাণদের ঢালাও প্রশংসা করলেন তিনি। ‘হুলি গান ইজ়ম’-এর পূজার গান থেকেই লাইন তুলে, ‘হুলিয়ে’ প্রশংসা করলেন কুণাল। তিনি লিখলেন, “গান বাজনা ছাড় চল ফেসবুকটাই করি ওটা দিয়েই সমাজ ভাঙি ওটা দিয়েই গড়ি পার পাবে না কেউ হোক যতই বুকের পাটা ভাই আমরা হব বিপ্লবী আর সবাই চটিচাটা! অনির্বাণদের হুলি গান ইজম -এর নতুন গানের অংশ। যাদের জীবন শুধুই ফেসবুকময়, ফেসবুকেতেই হিরো, ফেসবুকেতেই জিরো, বাতেলা ছাড়া আর কী কী কাজে থাকে কেউ জানে না; চাকরিবাকরি, লেখা, শ্রম, সামাজিক কর্মসূচি, নিদেনপক্ষে পাড়ার ক্লাব, কোথাও দায়িত্বপালনের খবর নেই; তাদের জন্য লাইনগুলো ভারি সুন্দর।”