Malda: ‘মরণেও হল না বিচ্ছেদ’, স্বামীর মরদেহ দেখে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন স্ত্রী – Bengali News | Couple died within few hours due to heart attack in Malda
কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যু স্বামী ও স্ত্রীরImage Credit: TV9 Bangla
মালদহ: পেটে ব্যথা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি বৃদ্ধকে। সেই খবর পৌঁছল বাড়িতে। দেহ আনার পর বাড়িতে কান্নার রোল। আচমকা দেখা গেল, মৃতের স্ত্রী ক্রমশ অবশ হয়ে পড়ছেন। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। রবিবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহে। মহালয়াতে এভাবে আকস্মিক স্বামী ও স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া এলাকায়।
মৃত ওই দম্পতির বাড়ি ওল্ড মালদহ পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের নবাবগঞ্জে। এদিন হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করেন উমাশঙ্কর পাল (৭২)। দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় মৌলপুর গ্রামীণ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দেহ বাড়িতে আনার পর শোকে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় স্ত্রী জয়ন্তী পালের (৬৫)। চিকিৎসার আগেই তিনিও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
উমাশঙ্করবাবু রেলস্টেশনে চায়ের দোকানে কাজ করতেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন গৃহবধূ। একদিনে পরপর স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ছেলে বাপ্পা পাল এবং তাঁর স্ত্রী-সহ আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মৃতের ছেলে বাপ্পা পাল বলেন, “সকালে বাবার পেটে ব্যথা হয়েছিল। আমার স্ত্রী বাবাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মৌলপুর গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বাবার দেহ ফিরিয়ে আনার পর থেকেই মা কেমন যেন হয়ে যান। তারপরই মাও মারা যান।” ঘণ্টা চারেকের মধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়।
প্রতিবেশীরা বলছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খুব মিল ছিল। তাই, মৃত্যুও বোধহয় তাঁদের আলাদা করতে পারেনি। প্রথমে বৃদ্ধকে শ্মশানে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁর স্ত্রীকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর শেষকৃত্য একসঙ্গেই করা হয়।