Jalpaiguri: সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি লেখা LED স্ক্রিন ঢেকেছিল ডালপালায়, সেই কারণে নিম-কৃষ্ণচূড়ার মতো ৩টে বড় গাছ কেটে সাফ করল জেলা পরিষদ – Bengali News | The LED screen was covered in branches, the district council cut down and cleared 3 large trees jalpaiguri
জলপাইগুড়িতে কেটে ফেলা হল গাছ
Image Credit: Tv9 Bangla
জলপাইগুড়ি: সরকারি প্রকল্পের প্রচারে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল একটি নিম গাছের গুটিকয়েক ডালপালা। ডাল না ছেঁটে গোড়ার থেকে গাছ কেটে দিয়ে বিতর্কে জড়াল তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদ। পরিবেশবিদদের একাংশ বলছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে যখন জলপাইগুড়ি জেলায় চলতি বছরে এখনও ৩০০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়নি। তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উঠছে। ঠিক সেই সময় এই জাতীয় ঘটনায় নিন্দার ঝড় রাজনৈতিক ও পরিবেশ কর্মী মহলে।
গোটা রাজ্যের সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদেও লাগানো হয়েছে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফিরিস্তি দেওয়া LED স্ক্রিন। জেলা পরিষদের কম্পাউন্ডে থাকা একটি নিম গাছের কয়েকটি ডাল দিয়ে ওই LED স্ক্রিনে ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল। ফলে পথচলতি মানুষ ওই স্ক্রিন ভালভাবে দেখতে পাচ্ছিলেন না। অভিযোগ, ওই গাছের কয়েকটি ডাল ছাঁটার বদলে কম্পাউন্ডের তিনটি গাছ কেটে ফেলে তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদ।
সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন যুব তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা। তিনিই প্রথমে গাছ কাটতে বাধা দেন। কিন্তু ততক্ষণে তিনটি গাছ কাটা হয়েছে। কাটা গাছগুলির মধ্যে ছিল নিম,কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া। ইতিমধ্যে খবর চলে যায় পরিবেশ কর্মী মহলে। তারা বিষয়টি নিয়ে জেলাপরিষদের সভাধিপতিকে বিষয়টি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মণ। তাকে কাছে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুব তৃণমূল নেতা অজয় সাহা। এরপর বিষয়টি ছড়িয়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। সকল রাজনৈতিক দল নিন্দা প্রকাশ করেন।
পরিবেশ প্রেমী সংগঠন স্পোর এর CEO শ্যামা প্রসাদ পান্ডে বলেন, “আমরা এই জাতীয় কাজকে ধিক্কার জানাই। উপযুক্ত তদন্ত দাবি করছি।” যুব তৃণমূলের জেলার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহা ক্যামেরার সামনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, LED স্ক্রিন দেখা যাচ্ছে না বলে একের পর এক গাছ কাটা হবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। গাছ বাঁচিয়ে LED স্ক্রিন অন্য যায়গায় লাগানো যেত।”
যুব কংগ্রেসের জেলা কমিটির সহ সভাপতি নব্যেন্দু মৌলিক বলেন, “বিশ্ব উষ্ণায়নের ঠেলায় জলপাইগুড়ি জেলাতে এখন প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠে যাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগে বন সৃজন করা হয়। আর সেখানেই জেলাপরিষদ সরকারি প্রকল্পের প্রচারের অছিলায় শহরের বুকে একের পর এক গাছ কাটাকে আমরা ধিক্কার জানাই।”
বিজেপির প্রাক্তন জেলা সম্পাদক শ্যাম প্রসাদ বলেন, “তৃণমূল মানেই চুরি ও দুর্নীতি। এতগুলো গাছ কেটে বিনা টেন্ডারে বিক্রি করে দিল। আমরা এর তদন্ত চাই। অবিলম্বে তদন্ত শুরু করতে হবে। নইলে আমরা জেলাপরিষদ অচল করে দেব।” অপরদিকে, সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মণ বলেন, “আমরা গাছের ডাল কাটার কথা বলেছিলাম। কিন্তু কিভাবে গাছ কাটা হলো তা জানি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”