মালদায় মর্মান্তিক ঘটনা, বন্যার জলে খাট থেকে পড়ে মৃত্যু শিশুর, ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী
নদী বাঁধ ভাঙনের জেরে বন্যার ঢুকে পড়েছিল ঘরে। আর সেই জলের মধ্যে ঘাট থেকে পড়ে ডুবে মৃত্যু হল দুই বছরের এক শিশুর। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মালদার হীরানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূতনির চর এলাকায়। কয়েক দিনের মধ্যেই এই নিয়ে তৃতীয় মৃত্যু ঘটল জলে ডুবে। একের পর এক প্রাণহানিতে ক্ষোভ ও আতঙ্ক চরমে পৌঁছেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
আরও পড়ুন: কোনও ‘ক্লাউডবার্স্ট’ হয়নি দেরাদুনে, দেরাদুনে বাণের আসল কারণ কী? যা জানাল IMD…
জানা যাচ্ছে, দিন কয়েক ধরে ভূতনির চর এলাকায় গঙ্গার ভাঙন ক্রমশ তীব্র হয়েছে। বাঁধ ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে গ্রামের ঘরবাড়িতে। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে গিয়েছে। তবে অনেকে এখনও ঘরের ভেতরেই জলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বিবেক মণ্ডলের বাড়িতেও কয়েকদিন ধরে জল ঢুকে রয়েছে। খাটের উপরই দুই বছরের ছেলে সুমন মণ্ডলকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘুমন্ত অবস্থায় খাট থেকে গড়িয়ে পড়ে যায় সে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জলে তলিয়ে যায় শিশুটি।
সেসময় ঘরে কেউ ছিলেন না। কিছু পরে মা ঘরে ঢুকে ছেলেকে জলের মধ্যে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করেন। দ্রুত শিশুকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, আগেই মৃত্যু হয়েছে সুমনের। সন্তানকে হারিয়ে শোকগ্রস্ত পরিবার। প্রতিবেশীরাও শোকে কাতর। উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনে একই এলাকার জুলাব্দিটোলায় জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে ২১ বছরের রোজ শেখের। আর পশ্চিম নারায়ণপুরের মহেন্দ্রটোলা গ্রামে প্রাণ হারিয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী হেমাঙ্গিনী মণ্ডল। টানা ভাঙন ও প্লাবনের জেরে পরপর প্রাণহানির ঘটনা গোটা অঞ্চলে আতঙ্ক তৈরি করেছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং আরও বাঁধ মজবুত করার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রুখতে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। যার ফলেই প্রতিদিন জলে ডুবে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ভাঙন-প্রবণ এলাকায় প্রশাসনিক নজরদারি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।