Bratya vs Shanta: ব্রাত্য বনাম শান্তা, জল কতদূর গড়াল? - Bengali News | Where does the Bratya Basu and Shanta Dutta conflict stand at the moment, What do academics saying - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bratya vs Shanta: ব্রাত্য বনাম শান্তা, জল কতদূর গড়াল? – Bengali News | Where does the Bratya Basu and Shanta Dutta conflict stand at the moment, What do academics saying

Spread the love

একদিকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, অন্যদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্য়ালয়ের উপাচার্য শান্তা দত্ত। বিগত কয়েক সপ্তাহে দুই হেভিওয়েটের মধ্যে বেনজির টানাপোড়েন দেখেছে গোটা রাজ্য। তোলপাড় চলেছে রাজ্যের শিক্ষামহল থেকে রাজনীতির আঙিনাতেও। কখনও ‘আচার্যর দাঁড়ে বাঁধা টুনটুনি’, কখনও আবার কাক বলে তোপ দাগলেন ব্রাত্য বসু। পাল্টা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তোপের পর তোপ দাগলেন শান্তা। কিন্তু এই টানাপোড়েনকে কীভাবে দেখছে শিক্ষামহল? কী বলছেন শিক্ষাবিদরা? এতকাণ্ডের নেপথ্যেই বা কোন রসায়ন? পক্ষে-বিপক্ষে যদিও উঠে আসছে দু’রকমের মতামত। গেরুয়া শিবিরের একাংশ যেখানে শান্তার পক্ষে সুর চড়াচ্ছে, সেখানে শিক্ষাবিদদের একাংশ শান্তার বিরুদ্ধে তোপ দাগছে। 

আসল ঘটনার সূত্রপাত কোথা থেকে? 

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন পরীক্ষা নিয়ে টানাপোড়েনে জোরদার বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। ওইদিন কোনও পরীক্ষা স্থগিত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্তা দত্ত। তা নিয়েই যত টানাপোড়েন। ‘ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে’ বুঝে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তীকে। রাক্ষসী বলেও কটাক্ষ করেছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন যোগ্যতা নিয়েও। সাফ বলেছিলেন, “এত বড় বেহায়া আমি জীবনে দেখিনি। ২৮ অগস্ট পরীক্ষা ফেলে দিয়েছে। আমি ওঁর শিক্ষাগত যোগ্য়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। উনি আবার নিজে বলছেন, কেউ আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ঘেউ-ঘেউ করছে। আমি বলছি শান্তাদেবী বেশি কথা বলবেন না। আমাদেরকে যদি ঘেউঘেউ বলেন, আপনি রাজ্যপালের কাছে কতবার মিউ-মিউ করেছেন। ২৮ অগস্টের পর জবাব দেব। ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে বুঝে নেব। আর যাঁরা যাঁরা ভিসির দালালি করেছেন তাঁদের গণতান্ত্রিকভাবে এমন থাপ্পড় মারব,আগামী দিন উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা থাকবে না।”

আর এখান থেকেই যত কিছুর সূত্রপাত। কিন্তু ৩ বারের ডিন, ২০ বছর UG বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য শান্ত দত্ত কিন্তু তারপরেও কোনওভাবেই মাথা নোয়াতে চাননি। সাফ বলেছিলেন, “ইতিহাস ফিরে আসে। কারণ সব দল ইয়েস ম্যান চায়। আমি কারোও কোনওদিন ইয়েস ম্যান নই। ইয়েস ম্যান হতেও চাই না আর ইয়েস ম্যান হয়ে গদি টেকাতেও চাই না ৷ শিক্ষাবিদ হিসাবে সবার ভালবাসা পাই।” তারপর…. তারপর চিঠি চালাচালি, মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, অধ্য়াপকদের আহ্বান, নেতাদের কটাক্ষ। একটা পরীক্ষার জন্য তাঁকে পেরতে হয়েছে একাধিক ধাপ, কেউ বলছিলেন বাধা। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড়ই থেকেছেন তিনি। পাল্টা সরকারকে মনে করিয়েছিলেন রাজধর্ম পালনের কথা। পাল্টা চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। সেখানে বলেছিলেন, সেখানে লিখব রাস্তাঘাটের পরিস্থিতিকে নর্মাল রাখার দায়িত্ব সরকারের। যেমন বিরোধী দল ধর্মঘট ডাকলে উনি বলেন বাস-গাড়ি নর্মাল চলবে! এটাই রাজধর্ম। সেই রাজধর্মই আমরা চাইব। তারপর…. হ্যাঁ এখানে অনেকগুলো তারপর রয়েছে… গঙ্গা আর কালীঘাটের আদিগঙ্গা দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল। লাল চোখ দেখতে হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর। ব্রাত্য বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ব্যাপারেই হস্তক্ষেপ করেন না। উনি চাইলে ‘কেয়ারটেকার’ ভিসিকে সরাতে পারতেন। রাজ্যপাল উপাচার্যকে যেহেতু বিশেষ স্নেহ করেন, তাই মুখ্যমন্ত্রী এই স্নেহকে মান্যতা দিয়েছেন। সারাননি।” 

তোপ পাল্টা তোপ 

শান্তা দত্ত কিন্তু কিছুদিন আগে ডাক পাননি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাছাই প্রক্রিয়ায়। তা নিয়েও চাপানউতোর হয়। শান্তা বলছেন তিনি প্রথমদিন থেকেই অপছন্দের লোক। তাই ডাক আসেনি। তবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা ‘নির্বিঘ্নেই’ হয়। এবার চলে আসুন, ১১ সেপ্টেম্বর। সেই বিতর্কিত ছাত্র নেতা, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভিরূপ চক্রবর্তীকে পাঁচ বছরের জন্য সেন্সর করল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেই দিনই ব্রাত্যকে এক নিয়ে শান্তা বললেন, “শিক্ষামন্ত্রী আবার কোথায় কোথায় মিডিয়াতে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক কথাবার্তা বললেন। ওনার মান যে এতটা নীচে নেমে যাবে আমি ভাবতে পারি না। এখন পার্টি যদি তাঁকে না সাজা দেয় তাহলে সাজার দায়িত্বটা তো আমাদেরই তুলে নিতে হবে।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর হলে হয়তো আজকের এইসব দিন দেখতে হতো না। সোজা কথায়। অভিরূপ চক্রবর্তীকে সেন্সর করা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। সাফ বললেন, “যদি দেখতাম পার্টি থেকে ওকে সমালোচনা করা হয়েছে বা সাজা দেওয়া হয়েছে এই ধরনের কুমন্তব্যের জন্য! দিন চলে গেল, কোনও ধরনের সমালোচনা এলই না।”

কী বলছেন অভিরূপ? কী বলছে গেরুয়া শিবির? কী বলছেন ব্রাত্য়? 

এদিকে বিতর্কের আবহে এবিভিপি-র কেন্দ্রীয় কার্যসমিতির সদস্য শুভব্রত অধিকারী যদিও অভিরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেছেন। তিনি বলছেন, যে কাজ ও করেছে তাতে আজীবনের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওকে সেন্সর করার দরকার ছিল। পড়লে পড়ুক কিন্তু অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। একইসঙ্গে অভিরূপ ইস্যু টেনে শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনাতেও সরব হয়েছেন। 

এদিকে শান্তা বলছেন, আগামী ৫ বছরের জন্য অভিরূপ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল বা পিএইচডির মতো উচ্চতর গবেষণায় ভর্তি হতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি চাকরির ক্ষেত্রেও আবেদন করতে পারবেন না। যদিও অভিরূপ শান্তাকে কেয়ারটেকার ভিসি বলে তোপ দাগছেন। তাঁর শিক্ষার অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ হচ্ছে। আইনের দ্বারস্থ হবেন। একই প্রশ্ন তুলছেন ব্রাত্যও। বলছেন, “ছাত্রদের ধরে ধরে টার্গেট করা, ধরে ধরে প্রতিহিংসা মেটানো ছাত্রসমাজের পক্ষে খুবই দুশ্চিন্তার ও আতঙ্কের।” এতটা তো ঠিক ছিল। তারপরেই বললেন, এমন কথা যা নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক। শান্তার বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে ব্রাত্য বলেন,”নামে যাই হোক, আমি মানি ময়ূর পুচ্ছ গায়ে জড়ালেও কাক কাকই থাকে। কিন্তু ছাত্ররা এই কাকদের ঠোক্কর খাচ্ছে।” তবে চুপ করে নেই শান্তাও। পাল্টা শিক্ষামন্ত্রীকে যাদবপুর মনে করিয়ে বলেন, “প্রাক্তন ছাত্রটি যখন সাড়ে ছ’ঘণ্টা গাড়িতে আটকে রাখে ওরা আমার গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে, বসে পড়ে। এই ছেলেটি আবার আমার গাড়ির বনেটে উঠে শুয়ে পড়ে। বাজে ভাষায় গালিগালাজ করেছে আমি কিন্তু গাড়ি চালিয়ে দিইনি। আমি কিন্তু চালককে নির্দেশ দিইনি ছাত্রদের উপর গাড়ি চালিয়ে দাও। আমি করিনি। 

কী বলছে শিক্ষামহল? 

পুরো বিষয় দেখে শান্তার বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছেন শিক্ষাবিদ সুবোধ সরকার। তিনি বলছেন, “এত খারাপ উপাচার্য দেখিনি। যিনি প্রকৃতপক্ষে একজন অবৈধ উপাচার্য। ওই চেয়ারে বসার যোগ্যতা ওনার নেই সেখানে বসে তিনি একটার পর একটা এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, এই ধরনের মন্তব্য করছেন। একটার পর একটা ছাত্র বিরোধী, শিক্ষা বিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, রাজনীতি করছেন। এই রাজনীতি কী রাজনীতি তা রাজ্যের প্রতিটা মানুষ এখন জেনে গিয়েছেন।”    

শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার যদিও শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনায় সুর চড়িয়েছেন। তিনি বলছেন, “শিক্ষামন্ত্রী ও উপাচার্যদের মধ্যে সম্পর্ক হওয়া উচিত পারস্পরিক সম্মান ও শ্রদ্ধার। এখানে এই ধরনের বাজারি কলহ তৈরি হবে, শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যকে কাক, টুনটুনি এসব বলবেন এটা একেবারেই কাম্য নয়। শিক্ষামন্ত্রীর মুখ ইদানিংকালে একটু আলগা হয়েছে বলে মনে হয়।” একইসঙ্গে শান্তাও যে সবটা ঠিক বলছেন তেমনটা মনে করছেন না পবিত্র সরকার। তাঁর কথায়, “যা চলেছে তা এক পর্যায়ে রাজনীতির ঝগড়ার জায়গায় চলে গিয়েছে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *