Supreme Court on VC: ‘চিরকাল তাড়িয়ে বেড়াবে…’, শহরের নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলা বেনজির রায় সুপ্রিম কোর্টের – Bengali News | Supreme Court Orders University Vice Chancellor To Note Harrasment Case in Resume
সুুপ্রিম কোর্ট (ফাইল ছবি)Image Credit: PTI
নয়াদিল্লি: অন্যায়কারীকে ক্ষমা করা যেতেই পারে, কিন্তু অন্য়ায়টা ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সম্প্রতি, বাংলার এক নামজাদা সরকারি অনুদান প্রাপ্ত আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলা মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পঙ্কজ মিঠাল এবং প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে উঠেছিল মামলাটি। উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক ফ্যাকাল্টির সদস্য।
কী রায় শীর্ষ আদালতের?
হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উপাচার্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারী। কিন্তু সেখানেও গিয়ে ‘ব্যাকফুটে’ পড়তে হয়েছে তাকে। মামলা খারিজ করেছে শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে তারপরেও উপাচার্যকে পড়তে হয়েছে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে। নির্দেশের সুরে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘এই পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যকে ক্ষমা করা গেলেও, তাকে যেন এই ঘটনা চিরকাল তাড়িয়ে বেড়ায়, তার ব্যবস্থাও করে দিতে হবে। এবার থেকে ওনার রেজিউমে বা পেশাগত অভিজ্ঞতা পত্র এই যৌন হেনস্থার অভিযোগ ও মামলার বিবরণ লিখে রাখতে হবে।’
মামলার নেপথ্যে
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস, ওই নামজাদা আইন বিশ্ববিদ্যালয় বা ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুডিশিয়ালস সায়েন্সের উপাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন সেখানেই কর্মরত এক ফ্যাকাল্টি সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের এলসিসি বা স্থানীয় অভিযোগ কমিটির কাছে দ্বারস্থ হন তিনি। অভিযোগ করেন, গত এপ্রিল মাসে তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে অশালীন প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত উপাচার্য। এমনকি, উপাচার্যের প্রস্তাবে সম্মতি না দেওয়ায় তাঁকে পদ থেকে সরানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি, গত ২০১৯ সাল থেকে উপাচার্য তাঁকে লাগাতর এই ধরনের প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কিন্তু এলসিসি ওই মহিলার অভিযোগকে খারিজ করে। তাদের যুক্তি ছিল, যেহেতু অভিযোগকারী ঘটনা তিন বা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে তাদের কাছে দ্বারস্থ হয়ননি, তাই দীর্ঘসূত্রিতার জন্য সেই অভিযোগ নেওয়া সম্ভব নয়। এরপরেই কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন তিনি। গতবছরের মে মাসে এলসিসি-র যুক্তি খারিজ করে সিঙ্গল বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি শুরু হয়। পরবর্তীতে তা ওঠে ডিভিশন বেঞ্চে। কিন্তু মামলাকারীকে তাঁর পদ থেকে সরানোর নেপথ্যে উপাচার্যের কোনও হাত নেই বলেই রায় দেয় উচ্চ আদালত।
ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘২০২৩ সালের অগস্ট মাসে পদ থেকে অপসারণের সঙ্গে যৌন হেনস্থার কোনও সম্পর্ক নেই। ওই অপসারণ বিশ্ববিদ্য়ালয়ের প্রশাসনিক স্তরের বিশিষ্ট ও শীর্ষ কর্তাদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। একা উপাচার্যের সিদ্ধান্তে এই অপসারণ হয়নি। পাশাপাশি, তাঁর করা অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়সীমার বাইরে।’ এরপরেই সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হন ওই মহিলা।