গুলশান কলোনি কাণ্ডে TMC কাউন্সিলরকেই হুঁশিয়ারি 'মিনি ফিরোজের', তবে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ - 24 Ghanta Bangla News
Home

গুলশান কলোনি কাণ্ডে TMC কাউন্সিলরকেই হুঁশিয়ারি ‘মিনি ফিরোজের’, তবে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ

সম্প্রতি ভরসন্ধ্যায় গুলশান কলোনিতে বন্দুক উঁচিয়ে দেখা গিয়েছিল দুষ্কৃতীদের। সেই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এরই মাঝে তৃণমূলেরই কাউন্সিলরকে হুমকি দিল বোমা-গুলি কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফিরোজ খান ওরফে মিনি ফিরোজ। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঠিকই পোস্ট করে চলেছে ফিরোজ। এমনই এক পোস্টে ফিরোজ দাবি করেছে, গোটা ঘটনা পূর্ব পরিকল্পিত। গুলি চালানো হয়েছে বা বোমা যে মারা হয়েছে, তা নাকি পুরোটাই ‘সাজানো ঘটনা’। এরই সঙ্গে ফিরোজ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধেও। ভোটের সময় নাকি গুলশান কলোনির ভোট তৃণমূলের দিকে আনতে সুশান্ত এই ফিরোজকে দিয়ে ‘কাজ করিয়েছিল’।

সুশান্তকে নিয়ে ফিরোজ বলেন, ‘গুলশান কলোনির ভোট নিজের ঝুলিতে আনতে আমাকে এখানে-সেখানে দৌঁড় করিয়েছে। এখন নিজের উদ্দেশ্যে পূরণ হয়ে গিয়েছে, তাই আমাকে সমাজবিরোধী বলা হচ্ছে। এলাকায় যাতে সুশান্ত ঘোষ অত্যন্ত মসৃণ পথে বেআইনি কার্যকলাপ করতে পারে তার জন্যই পরিকল্পনা করে আমাকে এলাকাছাড়া করতে চাইছে।’ এরপর তৃণমূল কাউন্সিলরকে তোপ দেগে তিনি বলেন, ‘এই ওয়ার্ড ১০৭ নয় যে, কারও পেছনে আপনি লাগাবেন, আর সে ভয় গুটিয়ে যাবে। এটা ১০৮ নম্বর ওয়ার্ড। এটা মাথায় রাখবেন। এমন এমন জায়গায় ফাইল তৈরি করে রেখেছি, প্রয়োজনে সেগুলি সব বের করে দেব। আমার পিছনে লাগতে আসবেন না। আমি আপনার থেকে অনেক বেশি ঘোরেল। আপনি পিছনে লাগতে এলে আমি কী করতে পারি আপনি জানেন না। আমার সঙ্গে সোজা ভাষায় কথা বলবেন, আমিও সোজা ভাষায় কথা বলব। কিন্তু আমার সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করতে চাইলে, আমি কী করব সেটা আপনি জানেনও না।’

উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান কলোনির রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায় দুষ্কৃতীরা। এলাকা দখল এবং অটো স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। তুমুল বোমাবাজি এবং গুলি চলার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় আনন্দপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকায় ঘিরে ফেলা হয়। এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে কলকাতা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পরই লালবাজারের তরফে একাধিক দফায় তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জেরা করেই উঠে আসে মহম্মদ আম্বারের নাম। এরপর তাকেও ঘরা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত ফিরোজ এখনও অধরা। সেদিন অবশ্য ফিরোজ এলাকায় আসেনি বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে তার গোষ্ঠীর লোকজনই এই সব করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এদিকে পুলিশের কড়া অবস্থান সত্ত্বেও শহরের অভ্যন্তরে এভাবে দুষ্কৃতীদের দাপট নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের দক্ষতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *