C P Radhakrishnan: মোদীদের ‘পছন্দের’ আরএসএস ঘনিষ্ট রাধাকৃষ্ণনের জয় কেন নিশ্চিত? – Bengali News | Why C P Radhakrishnan Chosen as VP Candidate?
নয়াদিল্লি: তিনি তামিলনাড়ুর ভূমিপুত্র। দক্ষিণের রাজনীতি তাঁর হাতের মুঠোয়। ওবিসি সমাজের প্রতিনিধি। যে ওবিসি নিয়ে সরব হয়েছেন রাহুলও। নিজেই স্বীকার করেছে, তাদের স্বার্থরক্ষার প্রয়োজন ছিল। যতটা হয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। আর সেই আবহেই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ মোদীর। উপরাষ্ট্রপতির দৌড়ে এনডিএ-র সুপারিশ সিপি রাধাকৃষ্ণন। এটা কোনও সাধারণ নির্বাচন নয়, একেবারে ‘অভিজাত-নির্বাচন’, কিন্তু তাতে তাঁর জয়ের নিশ্চয়তা কতটা? মোদীর মাস্টারস্ট্রোক সাফল্য পাবে নাকি ব্যর্থতা? সেই অঙ্কটাই না হয় কষা যাক।
রাধাকৃষ্ণনের ‘প্রোমোশন’
রবিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসল এনডিএ শাসকজোটের। ধনখড়ের উত্তরসূরির দৌড়ে কাকে সুপারিশ করা যায়, সেটাই ছিল এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয়। গত ২১ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশনের একেবারে প্রথম দিনে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ইস্তফা দেন তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। তাঁর ইস্তফা নিয়ে নানা অঙ্ক কষা হয়েছে, নানা জল্পনা হয়েছে। তবে সেটা এখন অতীত। আর বর্তমান? তার খোঁজই তো এতদিন দফায় দফায় চালিয়েছে বিজেপি। অবশেষে এনডি সাংসদদের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা ঘোষণা করেছেন সিপি রাধাকৃষ্ণনের নাম।
কে এই রাধাকৃষ্ণন?
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল। পুরো নাম চন্দ্রপূরম পন্নুসামি রাধাকৃষ্ণন। গতবছরই ওই বিজেপি শাসিত রাজ্যের দায়িত্ব পান তিনি। মাসকয়েকের মধ্যেই এবার ‘প্রোমোশনের’ সুপারিশ করে দিল শীর্ষ নেতৃত্ব।
১৯৫৭ সালের ২০ অক্টোবর তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে জন্ম হয়েছিল তাঁর। পরবর্তীতে সেখানকার একটি কলেজে ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। মাত্র সতেরো বছর বয়স থেকে জুড়ে গিয়েছিলেন সংঘ পরিবারের সঙ্গে। একেবারে তৃণমূল স্তরে নেমে কাজ করেছেন তামিলনাড়ুর গোন্ডার সমাজের রাধাকৃষ্ণন। ১৯৭৪ সালে আরএসএস-এর একটি শাখা সংগঠন ভারতীয় জন সংঘের তামিলনাড়ুর রাজ্য কমিটির সদস্যপদ পান তিনি। ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব পান তামিলনাড়ু বিজেপির সম্পাদকের। পরবর্তীতে লোকসভা নির্বাচনে কোয়েম্বাটুর কেন্দ্র থেকে দু’বার জয়ী হয়েছিলেন তিনি। ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসাবেও। ওই সময়কালে ৯৩ দিনব্যাপী ১৯ হাজার কিলোমিটার একটি রথযাত্রাও করেছিলেন তিনি। দক্ষিণের রাজনীতিতে যা ছিল বেনজির। এরপর ২০২০ সালে কেরল বিজেপির দায়িত্ব পান তিনি।
এতটা পথ ছিল রাজনৈতিক। এরপর জীবনে আসে নতুন মোড়। সাংবিধানিক পদ পান তিনি। ২০২৩ সালে ঝাড়খন্ডের রাজ্যপাল। সেই সময়ে ঝাড়খন্ডের পাশাপাশি তেলেঙ্গানা ও পুদুচেরির রাজ্যপালের দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনিই। দেড় বছর পর ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের দায়িত্ব পান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনে বিরোধীদের সঙ্গে তাঁর সখ্যতা ও সৌজন্য ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে তামিলনাড়ুতে। সেখানকার শাসক শিবির ডিএমকে-র সঙ্গে ভালই সমীকরণ এই এনডিএ-র উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীর। রাধাকৃষ্ণন যেহেতু অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষ। তামিলনাড়ুতে যাদের ভোট শতাংশ সর্বাধিক। প্রায় ৬৪ শতাংশ। তাই বিজেপির কাছে এটা এখন ‘ডিভিডেন্ডের’ জায়গা। কারণ, বছর ঘুরলেই ভোট। একাংশের মতে রাধাকৃষ্ণন আবার বিতর্ক থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন। তবে সেই দাবি নিয়েও তর্ক রয়েছে। কারণ, কোয়েম্বাটুর সাম্প্রদায়িক হিংসার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেছিলেন তিনি।
যাই হোক, ধনখড়ের মতো সেটাও এখন অতীত। বর্তমানে তিনি উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী। কিন্তু নির্বাচনে কি জিততে পারবেন রাধাকৃষ্ণন? সেই সমীকরণটাই না হয় এবার কষে ফেলা যাক।
অভিজাত নির্বাচনের সমীকরণ
উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবেন লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরা। বর্তমানে লোকসভায় ৫৪৩টির মধ্য়ে কেবল বসিরহাট আসনটি খালি রয়েছে। অন্য দিকে রাজ্যসভায় ২৪৫টি আসনের মধ্যে খালি রয়েছে পাঁচটি আসন। দু’কক্ষ মিলিয়ে ভোটার হলে ৭৮২ জন। অর্থাৎ নির্বাচনে জিততে প্রয়োজন ৩৯২টি ভোট। দুই কক্ষ মিলিয়ে শাসক শিবিরের শক্তি ৪২৫-এর বেশি। বিরোধী জোট ৩২৬-এর মতো। সুতরাং ভোটাভুটি হলে রাধাকৃষ্ণনের জয় কার্যত নিশ্চিত।
তবে সমস্যাও রয়েছে। এই নির্বাচন সাধারণ নয়, হয় গোপন ব্য়ালটে। সুতরাং, সেখানে ক্রস ভোটিং বা এদিকের ভোট ওদিকে যাওয়ার সম্ভবনাও তুঙ্গে থাকে। অবশ্য, এই বাধাকে পেরনোর পথটাও তৈরি করে রেখেছে বিজেপি। তিনি বিতর্কহীন, শাসক-বিরোধী রসায়ন বোঝেন, এমন উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হবে না বলেই আশা বিজেপির। যেমনটা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় পড়তে হয়নি প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও। শাসক-বিরোধী ভারসাম্যই তাঁকে দিয়েছিল ভোট-মাইলেজ। আবার তামিলনাড়ুতে পরের বছরই ভোট সেখানেও কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ককে যাতে বিরোধী এআইডিএমকে হাতিয়ার না করে, সেই কথাটাও মাথায় রাখতে হবে শাসক গোষ্ঠী ডিএমকে। সব মিলিয়ে রাধাকৃষ্ণনের পথ ওতটাও রুক্ষ নয়, মত একাংশের। সূত্রের খবর, রবিবার রাতে সেই সমর্থন জোগাতেই রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গকে ফোন করেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এই ভিডিয়ো যখন হচ্ছে, তখনও ইন্ডিয়া জোট নিজেদের প্রার্থী নিয়ে কিছু জানায়নি। তারাও বৈঠকে বসছে। সময়ই হয়তো বজায় রাখবে এই সমীকরণ বা আনবে নতুন মোড়।
