২১ বছর পর জোরালো হচ্ছে ধনঞ্জয় মামলার পুনর্বিচারের দাবি, আন্দোলনে স্থানীয়রা
২১ বছর আগে কলকাতার বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও খুন মামলায় ফাঁসি হওয়া ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের মামলার পুনর্বিচারের দাবি ফের জোরালো হচ্ছে। আজ, বৃহস্পতিবার থেকে বাঁকুড়ার কুলুডিহি গ্রামে শুরু হচ্ছে নতুন আন্দোলন। দিনটি চিহ্নিত করতে গ্রামের বাসুলিমায়ের মন্দিরে বিশেষ পুজো আয়োজনের পাশাপাশি করা হবে প্রতিবাদ সভা।
আরও পড়ুন: সিবিআইয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি অভয়ার বাবা মা-র
২০০৪ সালের ১৪ অগস্ট ভোরে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ফাঁসি হয় ধনঞ্জয়ের। সেই সময় থেকেই তাঁর জন্মভিটে কুলুডিহিতে পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাম আমলে তদন্ত প্রক্রিয়া ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, পুলিশি চাপে সাক্ষ্য পরিবর্তন করা হয়েছিল, আর যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ধনঞ্জয়কে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এই দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন গবেষকও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। আন্দোলনে এবার যোগ দিয়েছে একসময় ধনঞ্জয়কে ফাঁসিতে চড়ানো ফাঁসুড়ে নাটা মল্লিকের পরিবারও। তাঁদের মতে, মামলার পুনর্বিচার হলে প্রকৃত সত্য প্রকাশ পাবে।
ধনঞ্জয়ের স্ত্রী পূর্ণিমা চট্টোপাধ্যায়ও অতীতে অভিযোগ করেছিলেন, দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল তাঁর স্বামীকে। ধনঞ্জয়ের ভাই বিকাশ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, দাদাকে ফিরিয়ে পাওয়া যাবে না, কিন্তু পুনর্বিচার হলে পরিবারের কলঙ্ক মোচন হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক এই আবেদনের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে জানিয়েছেন তাঁদের আইনজীবীরা। আজ ছাতনা থানার কাছে কামারকুলি মোড়ে ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় পুনর্বিচার মঞ্চের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভা হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন তাঁর শৈশবের বন্ধুরা ও কুলুডিহির সাধারণ বাসিন্দারা। তাঁরা ‘ধর্ষকের গ্রাম’ কলঙ্ক মুছে ফেলার দাবিতে পথে নামছেন। একইসঙ্গে ওই মোড়ে ধনঞ্জয়ের মূর্তি স্থাপনের প্রস্তাবও উঠেছে এলাকাবাসীদের তরফে।