Burdwan: সরকারি জমি দখল করে কারখানা নির্মাণের প্রস্তুতি… BLRO গিয়ে লাগিয়ে দিল বোর্ড! – Bengali News | Burdwan preparations to build a factory by occupying government land blro went and installed the board
সরকারি জমি দখল করে কারখানা নির্মাণের অভিযোগImage Credit source: TV9 Bangla
বর্ধমান: সরকারি জমি জবরদখল করে বেআইনিভাবে কারখানা নির্মাণ ও মেশিনপত্র মজুত করলেও প্রশাসন কার্যত চুপ! ভয়ঙ্কর অভিযোগ বর্ধমানের আউশগ্রামে। শনিবার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ব্লকের ভূমি সংস্কার দফতর ওই নির্মীয়মান কারখানার জমিতে সরকারিভাবে বোর্ড লাগিয়ে দায় সেরেছে।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে , উক্ত জমি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন। যে কোনও ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। এখানে উল্লেখ্য পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে প্রায় দু’বিঘে সরকারি খাসজমি জবরদখল করে কারখানা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছিল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার ছেলের বিরুদ্ধে।
আউশগ্রাম বাজার ঢোকার কিছুটা আগেই গুসকরা ইলামবাজার রাজ্যসড়কের পাশে ৭২ শতক পরিমাণ জমির উপর মাস দুয়েক ধরে কারখানার জন্য নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। আউশগ্রাম মৌজায় ওই ৭২ শতক জমি সরকারি খাসজমি। অভিযোগ, আউশগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ইনদাজুল শেখের ছেলে জিয়াউল শেখ ওরফে সাহেব সরকারি জমি জবরদখল করে অ্যাস ব্রিক তৈরির কারখানা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন।
ইতিমধ্যে লোহার বিমের কাঠামো ও টিনের ছাউনি নির্মাণ করা হয়ে যায়। কারখানার জন্য মেশিনপত্রও নিয়ে আসা হয়েছিল। সরকারি জমিতে কোনও ধরনের লিজ বা অনুমতি ছাড়াই কারখানা নির্মাণের উদ্দেশ্যে জবরদখল করার কথা প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে পৌঁছয়।
এখন প্রশ্ন গত তিন মাস ধরে লাগাতার সরকারি খাসজমির উপর বেআইনি নির্মাণ হলেও প্রশাসন কেন কোন ব্যবস্থা নিল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার আউশগ্রাম ১ নম্বর ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের পক্ষ থেকে আউশগ্রাম থানায় শুধুমাত্র একটি সাধারণ অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তারপর তিনদিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত কোন এফআইআর দায়ের করা হয়নি।
যদিও এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি রাজস্ব) বিশ্বরঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা আউশগ্রাম থানায় গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। তিন সদস্যের কমিটিকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”
আউশগ্রাম ১ নম্বর ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক আউশগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন শনিবার। পাশাপাশি সেই অভিযোগের কপি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিশ্বরঞ্জনবাবু।তিনি আরো বলেন, আমরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছি।এখন পুলিশ সেটা জিডি করবে না এফআইআর করবে তাদের বিষয়।
আউশগ্রাম থানার এক পুলিশ আধিকারিক জানান, কোন এফআইআর করা হয় নি।শুধুমাত্র একটি কাগজ জমা করা হয়েছে। তাতে লেখা আছে আমাদের মিটিং হয়েছে। শনিবার আমরা দখল করা জমিতে সরকারী নির্দেশিকা সাটাবো।
যার বিরুদ্ধে সরকারি জমি জবরদখল করে কারখানা নির্মাণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জিয়াউল শেখ ওরফে সাহেব আগে আউশগ্রাম থানার সিভিক ভলেন্টিয়ারের কাজ করতেন। তার মা হাসিবা বেগম আউশগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদে রয়েছেন। বাবা আউশগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি ইনদাজুল শেখ এলাকার ‘প্রভাবশালী নেতা’ বলে পরিচিত। যদিও ইনদাজুল দাবি করেছেন,” ওই কারখানার সঙ্গে আমার ছেলে জড়িত নয়। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি উল্টে দাবী করেন, ওই খাসজমিতে এলাকার একজন চাষ করতো।তার নাম মোহন।মোহনকে বিএলআরও কথা দিয়েছিল ওই জায়গা তার নামে লিজ দিয়ে দেবে।সেই জন্যই মোহন ওখানে কারখানা করার উদ্যোগ নেয়।
স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি সিংহ রায় বলেন, তৃণমূল এখন সরকারি জায়গা দখল করছে।এবার ওরা সরকারি বিল্ডিংও দখল করবে। আর প্রশাসন নিরব থাকবে।
জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, আইন আইনের পথে চলবে।এখানে কে নেতা বা কে কি সেটা বিষয় নয়।আর বিজেপি কি বললো তাতে যায় আসে না।
এই বিষয়ে আউশগ্রামের বিধায়ক অভেদানন্দ থাণ্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই। এটা প্রশাসনের বিষয়। সুতরাং প্রশাসন দেখছে বলে দায় এড়ান।
