মাঠ থেকে বাড়ি ফেরার পথে যুবতীকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ, বিষ্ণুপুরে ধৃত ১
ধান রোয়ার কাজ সেরে ফিরছিলেন যুবতী। ঠিক সেই সময় একা পেয়ে যুবতীকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের ঢেঙাশোল এলাকায়। জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সামনে আসতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। যার ভিত্তিতে ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। (আরও পড়ুন: কসবার কলেজের দেওয়ালে এখনও মোছা হয়নি ‘মনোজিত দাদা আমাদের হৃদয়ে’ গ্রাফিটি!)
আরও পড়ুন: ‘বাবা আমাকে গর্ভবতী করেছে!’ ট্রেনের টয়লেটে সন্তান প্রসব, তারপর…
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন পাড়া থেকে তিনজন যুবতী একসঙ্গে মাঠে ধান রোয়ার কাজ করতে গিয়েছিলেন। কাজ শেষ করে ফেরার পথে অন্য দুইজন এগিয়ে গেলেও ওই যুবতী কিছুটা পিছনে পড়ে যান। তখনই জঙ্গলের পাশে রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় তিনজন মুখ ঢাকা যুবক তাঁর পথ আটকায়। অভিযোগ, এদের মধ্যে একজন তাঁকে জোর করে জঙ্গলের ভিতরে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। বাকি দু’জন পাহারা দিচ্ছিল বলে জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। যুবতী সেদিন বাড়ি ফিরে কিছুই জানাননি। চুপচাপ ঘরে ঢুকে শুয়ে পড়েন। পরদিন সারাদিন বিছানা ছেড়ে ওঠেননি। খাওয়া-দাওয়াও করেননি। ক্রমশ শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সন্ধের দিকে পরিবারের চাপেই অবশেষে মুখ খুলে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি। ততক্ষণে ঘটনা জানাজানি হতে শুরু করে। এলাকাজুড়ে নেমে আসে তীব্র ক্ষোভ। রাতেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। নির্যাতিতাকে ভর্তি করা হয় বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন। (আরও পড়ুন: IIM কলকাতায় হস্টেলে ধর্ষণ তরুণীকে, গ্রেফতার অভিযুক্ত ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া)
আরও পড়ুন: সীমান্তে বাংলাদেশি অপরাধীদের হামলায় জখম বিএসএফ জওয়ান, আটক ২
বিষয়টি জানার পর বৃহস্পতিবার রাতেই এক সন্দেহভাজন যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, ধৃতের নাম কান্ত মুর্মু। প্রাথমিক তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা সুস্থ হলে তাঁর বয়ান নেওয়া হবে এবং চিকিৎসকদের মাধ্যমে মেডিক্যাল পরীক্ষাও করা হবে। (আরও পড়ুন: কেন্দ্রের ‘বিরোধিতা’ করে ভ্রমণ পিপাসু বাঙালিদের বিতর্কিত বার্তা শুভেন্দুর)
আরও পড়ুন: পুরুলিয়ায় আছে ‘রেয়ার আর্থ’ পদার্থ, কবে হতে পারে খনিজ ব্লকের নিলাম?
নির্যাতিতার এক আত্মীয় জানান, ওই যুবতী কিছুটা পিছনে পড়ে গিয়েছিলেন। ভাবতেই পারছেন না এমন ভয়ানক কিছু ঘটতে পারে। তাঁর কথায়, ‘ওঁর সঙ্গে যা হয়েছে, তা শুনে আমরা কেঁপে উঠেছি।’ এই ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। পাশাপাশি, একা মেয়েদের জঙ্গলপথে চলাফেরা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে এলাকাজুড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চলছে।