EXPLAINED: ফালফাল করে দিয়েছিল ভারত, চিনের সেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেন কিনল ইরান? – Bengali News | In depth: why Iran buys HQ 9 air defence system from China?
কেন চিনের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কিনল ইরান? Image Credit source: TV9 Bangla
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ থেকে কি শিক্ষা নিল তেহরান? যুদ্ধের সময় ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল রুখে তেল আভিভের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কম রাখতে সক্ষম হয় ইজরায়েল। কারণ, তেল আভিভের কাছে আয়রন ডোম, অ্যারো, ডেভিড স্লিঙ-এর মতো নামজাদা সব এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ছিল। এবার ইরানও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে উদ্যোগ নিল। চিনের কাছ থেকে তাদের সেরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, এইচকিউ-৯বি লং রেঞ্জ সারফেস টু এয়ার মিসাইল কিনল ইরান। মনে রাখতে হবে, অপারেশন সিঁদুর-এ পাকিস্তানে মোতায়েন এই চিনা ডিফেন্স সিস্টেমকেই ফর্দাফাই করে দিয়েছিল ভারত।
ইরানের সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, ২৪ জুন সংঘর্ষবিরতি পরপরই তেহরানে পৌঁছে গেছে প্রথম দফার চিনা মিসাইল। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা আরও একটা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন। ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের শেষদিকে ইরান তাদের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। ফলে চিনের তেল আমদানি সঙ্কটের মুখে পড়ে। কারণ, এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সবচেয়ে বেশি ইরানি তেল পৌঁছে যেত বেজিংয়ে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক রেগে যায় চিন। সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহের রুট বন্ধ রাখা মানে বাণিজ্যের ক্ষতি। আধুনিক সময়ে এটা করা যায় না। এবার ইরান কি সেই ক্ষতেই খানিকটা প্রলেপ দিল? মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে চিন ইরানের কাছ থেকে দেদার তেল কেনে। চিন গোঁসা করে থাকলে আখেরে ইরানেরই দীর্ঘমেয়াদী লোকসান। তাই কি ‘ব্যর্থ’ জেনেও স্রেফ বেজিংকে খুশি করতেই চিনা মিসাইল কিনল ইরান?
ঠিক কতগুলি চিনা মিসাইল ইরানে পৌঁছেছে বা ভবিষ্যতে পৌঁছবে, সেটা এখনও স্পষ্ট করেননি ইরানি সেনাকর্তারা। তবে তাঁরা ঠারেঠোরে একটা কথা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, যে ভবিষ্যতে ইরানের আকাশপথকে নিশ্ছিদ্র করতে সংখ্যাটা যথেষ্ট। ইজরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানি সেনার ঘাঁটি, রেডার, কমান্ড সেন্টারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কারণ, ইজরায়েলি বায়ুসেনাকে আটকে দিতে পারেনি ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমানে বিবাদমান দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছলেও আবার যে কোনও মুহূর্তে সংঘাত বেঁধে যেতে পারে, সেটা দুই দেশই বেশ জানে। আর তাই দুপক্ষই এখন ঘর গুছিয়ে নিতে চাইছে। আর তাই চিনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কে এইচকিউ-৯বি কিনল তেহরান। চুক্তির টাকার অঙ্কটাও গোপন রাখা হয়েছে। তবে একটা সূত্রের এও দাবি, এই মিসাইলের দাম ডলারের বিনিময়ে নয়, তেলের ব্যারেলে মেটানো হয়েছে। অবশ্য ইরান একথা মেনে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

চায়না প্রিসিশন মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন বা CPMIEC বানিয়েছে এইচকিউ-৯বি-র এই আধুনিক ভার্সন। রুশ ডিফেন্স সিস্টেম ‘এস-৩০০’ থেকে এই চিনা মডেল খানিকটা অনুপ্রেরিত। মিসাইলের পাল্লা ২৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত, গতিবেগ শব্দের চেয়ে ৪ গুণ বেশি। মানে, দুশমনের মিসাইলকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরেই ধ্বংস করে ফেলতে পারবে নয়া ইরানি ডিফেন্স সিস্টেম। তবে এই ডিফেন্স সিস্টেমের আর একটা গুণ — একসঙ্গে ধেয়ে আসা একাধিক শত্রুর মিসাইলকে একসঙ্গে আকাশেই নষ্ট করে দিতে পারবে। সবমিলিয়ে এখন ইরানের কাছে যা যা ডিফেন্স সিস্টেম রয়েছে, সেগুলির অধিকাংশই হয় রুশ নয়তো চিনা। সঙ্গে কিছু বাভার-৩৭৩ লং রেঞ্জ মিসাইল রয়েছে যেগুলি ইরানই তৈরি করেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে। তার পাল্লাও ৩০০ কিলোমিটারের বেশি নয়। তবে এটাতেও একটা বাড়তি সুবিধা রয়েছে– সাধারণ রেডারে ধরা পড়ে না এমন যুদ্ধবিমানকে খুঁজে বের করে আকাশে টার্গেট করে ধ্বংস করতে পারে। এবার ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হল চিনা মিসাইলও। শুধু মিসাইল নয়, চিনের কাছ থেকে জে-১০ সি মাল্টিরোল ফাইটার যুদ্ধবিমানও কিনতে চলেছে ইরান, কথাবার্তা চলছে সেই বিষয়েও। প্রকাশ্যে অবশ্য চিন এনিয়ে একটা কথাও স্বীকার করতে রাজি নয়। তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা করে তেহরানের পাশে যে গুটিকয়েক দেশ দাঁড়িয়েছিল, চিন তাদের একজন।
অবশ্য, এই প্রথম নয়, চিনের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা ইরানের পুরনো অভ্যাস। গতবছরই তো চিনের কাছ থেকে টন টন সোডিয়াম পারক্লোরেট কিনেছিল তেহরান। এই রাসায়নিক মিসাইল তৈরিতে কাজে লাগে। ইরানি সেনা ইঙ্গিত দিয়েছে, চিন থেকে আরও বেশ কিছু নয়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আগামী দিনে ইরানের বন্দরে ভিড়তে চলেছে। ইরান ছাড়াও চিনা ডিফেন্স সিস্টেম পাকিস্তান ও ইজিপ্টকেও সরবরাহ করতে পারে বলে সূত্রের খবর। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, মধ্য-প্রাচ্যের অস্ত্রের বাজারে কোমর বেঁধে নামতে চায় চিন। আমেরিকার প্রভাব খর্ব করে ওই এলাকায় নিজের প্রভাব বাড়াতে চায় বেজিং।
