‘ফেডারেশনের কিছু তুঘলকি আচরণ…’, বিবৃতি ক্ষোভ উগরে দিলেন পরমব্রত-অনির্বাণরা – Bengali News | The court will deliver its verdict on the 8th July
ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সঙ্গে টলিপাড়ার কিছু পরিচালকের মতবিরোধ হয়েছে। আইনি লড়াই লড়ছেন তাঁরা। এবার আইনি লড়াইয়ে জল কত দূর গড়িয়েছে, তা একটা বিবৃতির মাধ্যমে জানালেন পরিচালকরা। সুদেষ্ণা রায়, সুব্রত সেন, কিংশুক দে, বিদুলা ভট্টাচার্য, আশিস সেন চৌধুরী, সুমিত দাম, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক সাহা, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, দেবাশীষ চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী, প্রসেনজিৎ মল্লিক, সৌরভ ভট্টাচার্যর তরফে বিবৃতি বলা হয়েছে,
”আপনারা অনেকেই অবগত যে আমরা (১৩ জন চিত্র পরিচালক) ফেডারেশনের কিছু তুঘলকি আচরণ এবং নিয়ম-কানুনের বিরুদ্ধে ( আলোচনার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরে) উচ্চ আদালতে মাস তিনেক আগে একাধিক রিট পিটিশন দাখিল করেছিলাম। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি অমৃতা সিনহার আদালত ফেডারেশন এবং রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে একাধিক নির্দেশ এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করেন । ফেডারেশন এবং তার অধীনস্থ গিল্ডগুলির উপর নির্দেশ ছিল তারা যেনকোনওভাবেই আমাদের শুটিংয়ে সক্রিয় বা পরোক্ষভাবে বাধা দান না করে। সেই নির্দেশ একাধিকবার অমান্য করে আমাদের তেরো জনের মধ্যে অন্তত তিনজনের শুটিং আটকে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা জাস্টিস সিনহার আদালতে আদালত অবমাননার অভিযোগও দাখিল করেছি। সরকারের ক্ষেত্রেও মাননীয় বিচারপতি স্পষ্ট কিছু নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৩রা এপ্রিলের নির্দেশ ছিল তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাননীয় সচিবের উদ্দেশ্যে। তাঁকে আদালত নির্দেশ দেয় সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা এবং তার সম্ভাব্য সমাধান ইঙ্গিত করে আদালতের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দাখিল করতে। প্রায় তিন মাস হয়ে গিয়েছে, সরকারের তরফ থেকে সেই রিপোর্টের জন্য প্রাথমিক উদ্যোগটুকুও নেওয়া হয়নি। ইতিমধ্যে সরকার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে একটি আবেদন করে। গত ২৩ শে জুন ও ২রা জুলাই সেই আবেদনের শুনানি হয়। সরকার, ফেডারেশন এবং গিল্ডগুলির আইনজীবীরা সেখানে একত্রে এবং এক সুরে দাবি করেন যে, আমাদের করা মামলা সম্পূর্ণ অবৈধ/অসত্য। কারণ টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা সমাধান সরকারের কোনও কাজের মধ্যে পড়ে না। এটা সরকারের কোন দায়িত্বও নয়। এই সমস্যা মূলত দুটি প্রাইভেট বডির মতপার্থক্য এবং তা নিম্ন আদালত ছাড়া আর কোথাও শুনানি হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আমাদের আইনজীবীরাও আদালতে এই মামলার প্রেক্ষিত, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ এবং গত বছর জুলাই মাসে প্রেসের সামনে করা প্রতিশ্রুতি এবং সরকারের নিজস্ব ওয়েবসাইটে তাদের ফিল্ম একাডেমির কার্যপ্রণালী আদালতে তুলে ধরেন। দীর্ঘ শুনানির শেষে জাস্টিস তপোব্রত চক্রবর্তী ও জাস্টিস ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সরকার, ফেডারেশন এবং গিল্ডের আইনজীবীর বক্তব্য সম্পূর্ণ খারিজ করে তাঁদের আপিল বাতিল করে দেন। তাঁরা নির্দেশ দেন এই আদালতের সব শুনানি জাস্টিস অমৃতা সিনহার কোর্টেই আগামী দিনে হবে। ফেডারেশন তার সমস্ত ভিডিও এবং বার্তায় আমাদের করা মামলাকে মিথ্যা বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের রায় আজকে (২/৭/২৫) তাদের বক্তব্যের অসত্যতা এবং অসাড়তা সবার সামনে স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।
আগামী ৮ ই জুলাই জাস্টিস অমৃতা সিনহার আদালতে আমাদের করা আদালত অবমাননার শুনানি হওয়ার কথা। বিনীত অনুরোধ জানাই ফেডারেশনকেও। আশা করি উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে সম্মান জানিয়ে এবার থেকে তাদের সমস্ত বার্তায় আমাদের মামলাকে মিথ্যা বলে ঘোষণা করার ধৃষ্টতা থেকে তারা নিজেদের বিরত রাখবেন। আদালতের রায় এই বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে যুক্ত করা হল।”
এখন টলিপাড়ায় সকলের চোখ ৮ তারিখের রায়ের দিকে।