ক্লাসেই লোলুপ নজর পড়েছিল, ১ বছর ধরে স্কুল পড়ুয়াকে ‘ধর্ষণ’ শিক্ষিকার! শান্ত রাখতে খাওয়াতেন অ্যান্টি-অ্যানজাইটি পিল – Bengali News | Mumbai teacher allegedly physically Assaulted male student for 1 year, gave him anti Anxiety Pill
পড়ুয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। প্রতীকী চিত্র।Image Credit source: TV9 বাংলা
মুম্বই: কলকাতার নামকরা আইন কলেজে ধর্ষণকাণ্ডে সাড়া পড়ে গিয়েছে দেশজুড়ে। এর মধ্যেই এবার স্কুল পড়ুয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ এল সামনে। তাও আবার ধর্ষক স্কুল শিক্ষিকাই। স্কুলের এক পড়ুয়াকে বিগত এক বছর ধরে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।
ভয়ঙ্কর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুম্বইয়ের এক নামকরা স্কুলে। ১৬ বছরের এক পড়ুয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ ৪০ বছরের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। পাঁচতারা হোটেলে নিয়ে গিয়ে ওই শিক্ষিকা কিশোরকে ধর্ষণ করতেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পকসো আইন ও জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারাতেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই শিক্ষিকা বিবাহিতা, তাঁর সন্তানও রয়েছে। স্কুলের ইংরেজি শিক্ষিকা ছিলেন তিনি। একাদশ শ্রেণিতে যখন পড়ত ওই পড়ুয়া, তখন তিনি পড়াতেন। এরপর স্কুলের ডান্স গ্রুপের জন্যও পড়ুয়ার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেন। গত বছর জানুয়ারি মাসে তিনি ওই পড়ুয়াকে যৌন ইঙ্গিত দেন।
প্রথমে পড়ুয়া বিষয়টি এড়িয়েই গিয়েছিল। কিন্তু এরপর ওই শিক্ষিকা তাঁর এক সহপাঠীর (যে অন্য স্কুলে পড়ে) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই বন্ধুর মাধ্যমেই ওই কিশোরকে বোঝানো হয় যে বেশি বয়সের মহিলাদের সঙ্গে টিনএজারদের সম্পর্ক খুবই স্বাভাবিক। ওই শিক্ষিকা ও পড়ুয়া একে অপরের জন্যই তৈরি। এরপর ওই পড়ুয়া শিক্ষিকার সঙ্গে দেখা করতে রাজি হয়।
ওই শিক্ষিকা নাবালককে নিয়ে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে কিশোরকে পোশাক খুলিয়ে ধর্ষণ করতেন। কিশোর যখন এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। তাঁকে অ্যান্টি-অ্যানজাইটি ট্যাবলেটও দেন।
একাধিকবার এইভাবেই ধর্ষণ করতে থাকেন পড়ুয়াকে। ধর্ষণের আগে পড়ুয়াকে মদ খাইয়ে দিত শিক্ষিকা। তাঁকে নিয়ে দক্ষিণ মুম্বই ও এয়ারপোর্টের কাছে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যেত জোর করে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য।
ঘটনাটি সামনে আসে যখন ওই পড়ুয়ার বাড়ির সদস্যরা তাঁর আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করে। তাঁকে জোরাজুরি করলে, তখন সে সমস্ত ঘটনা জানায়। পড়ুয়ার বাড়ির লোকজন প্রথমে বিষয়টি চেপে রাখারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, স্কুল পাশ করে গেলে ওই শিক্ষিকা তাঁকে হেনস্থা করা বন্ধ করে দেবে। কিন্তু ঘটে ঠিক উল্টোটা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের পরিচারিকার মাধ্যমে ওই পড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে দেখা করতে বলেন। এরপরই পড়ুয়ার পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযুক্ত শিক্ষিকার গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, যে গাড়িতে করে তিনি পড়ুয়াকে হোটেলে নিয়ে যেতেন।
