Supreme Leader of Iran: তীর্থ যাত্রায় গিয়ে দাদু আর ফেরেননি উত্তর প্রদেশের বাড়িতে, ইরানের সর্বোচ্চ শাসকের শিকড় লুকিয়ে রয়েছে ভারতেই! – Bengali News | Grandfather Never Returned to His Home in Uttar Pradesh After Going on a Pilgrimage, the Roots of the Supreme Leader of Iran Ayatollah Ruhollah Khomeini are Hidden in India!
সময়টা ১৮৩০। ভারতে সিপাহি বিদ্রোহ হয়নি। কিন্তু ব্রিটিশদের প্রভাব তখন ক্রমবর্ধমান। তৎকালীন অটোমান ইরাকের নাজাফে ইমাম আলি মাজার দেখতে যান এক মুসলিম যুবক। বলা হয় সেখানে রয়েছে আলি ইবন আবি তালিবের সমাধিও। আর সেই মুসলিম যুবকের নাম সৈয়দ আহমেদ মুসাভি হিন্দি। জীবনীকার বাকের মঈন বলছেন ব্রিটিশদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব থেকে বাঁচতেই ভারত ছেড়ে যান আহমেদ।
১৮৩৪ সালে তিনি পৌঁছন ইরানে। সেখানে খোমেইনে বসবাস শুরু করেন তিনি। যদিও তাঁর নামে হিন্দি শব্দটি তিনি রেখে দিয়েছিলেন আজীবন, যা হয়তো তাঁকে তাঁর জন্মস্থানের কথা মনে করিয়ে দিত। তাঁর বয়স যখন ৬০-এর আশেপাশে তাঁর একমাত্র পুত্র মুস্তাফা মুসাওইয়ের জন্ম হয়। আর এই মুস্তাফার তৃতীয় পুত্র হলেন রুহোল্লা খোমেইনি।
বর্তমানে ইরানের ইতিহাসে রুহোল্লা খোমেইনিকে চেনে না এমন ব্যক্তি হয়তো নেই। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব শুরু করেছিলেন তিনি। জামুরি-য়ে ইসলামি-য়ে ইরান বা ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের প্রথম সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ শাসক ছিলেন খোমেইনি। খোমেইনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ শাসক হন আলি খামেনেই। আর তখন থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানের শাসক রয়েছেন তিনিই।
উত্তর প্রদেশের বরাবাঁকি জেলার কিনতুর গ্রামেই আজ থেকে প্রায় ২২৫ বছর আগে জন্ম হয়েছিল সৈয়দ আহমেদ মুসাভি হিন্দির। আজ তাঁকে হয়তো সেই গ্রামের কারও মনে নেই। কিন্তু সেই গ্রাম থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় ২০০ বছর আগে, তা যে ইরানের ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছবে তা কেউ হয়তো কল্পনাও করেননি। আর এভাবেই ইতিহাস ভারত ও পারস্যের মধ্যে এক সেতুর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে উত্তর প্রদেশের এই গ্রাম।