Explained: ইরান না ইজরায়েল? কিসমে কিতনা হ্যায় দম... - Bengali News | Explained: Iran or Israel, Which Country have the Best Defence System, How Much Army Power they Have - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: ইরান না ইজরায়েল? কিসমে কিতনা হ্যায় দম… – Bengali News | Explained: Iran or Israel, Which Country have the Best Defence System, How Much Army Power they Have

Spread the love

সায়ন্ত ভট্টাচার্যের ইনপুট

লাগবে লাগবে করছিল, এবার সত্যি সত্যিই লেগে গেল ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ। দুই শক্তিধর দেশ। একজনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনতে বাকি দেশ মুখিয়ে থাকে, আরেক দেশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপরে নির্ভরশীল বাকিরা। একদিকে সিংহের গর্জন (Operation Rising Lion), অন্যদিকে সত্যির প্রতিশ্রুতি (Operation Truth Promise-3)- কে জিতবে শেষ পর্যন্ত? মধ্য প্রাচ্যের দুই শক্তির লড়াইয়ে তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারে তো নজর রাখতেই হবে। কে কাকে কোন খাতে টক্কর দিচ্ছে জানেন?

ইজরায়েল শুক্রবার ভোররাতে ইরানের উপরে প্রথম আঘাত হানে। সরাসরি পরমাণু ও মিসাইল ঘাঁটিতে আক্রমণ করে ২০০-রও বেশি যুদ্ধবিমান, ৩৩০টিরও অস্ত্র নিয়ে। মাঝ আকাশে যুদ্ধ চালাতে মদত দিয়েছে আমেরিকা। স্যাটেলাইট ছবিতে স্পষ্ট যে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক ভয়ঙ্কর এবং নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইক ছিল এটি।

ইজরায়েলের আঘাত-

ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স ২০০-র বেশি ফাইটার জেট নিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে -15I “Ra’am”, F-16I “Sufa”, F-35I “Adir, IAI Harop-র মতো অত্যাধুনিক জেট। আঘাত হানতে ব্যবহার করা হয়েছে ৩৩০-র বেশি অস্ত্র। রয়েছে Spice, JDAM, Popeye, Delilah, Rampage, এবং HARMs।  মাঝ আকাশে যখন জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছিল, তখন মার্কিন বায়ুসেনা জ্বালানি পৌঁছে দিয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সাপোর্ট, অর্থাৎ জ্যামিং, জিপিএস স্পুফিংয়ের মতো প্রযুক্তিগত সাহায্যও করেছে, যা ইরানকে বিপাকে ফেলেছিল।

ইজরায়েলের মূল টার্গেটই ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রগুলিতে আঘাত করা। এর জন্য নানতাজ নিউক্লিয়ার ফেসিলিটি, এসফাহান ব্যালেস্টিক মিসাইল ডিপো সহ ইরানের প্রধান সেনা দফতরে হামলা করে।

কার ক্ষমতা কত?

যদি সেনার হিসাব করা হয়, তবে ইরানের সৈন্য সংখ্যা ইজরায়েলের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, প্রযুক্তিতে ইজরায়েল অনেক এগিয়ে। ইরানের আবার ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বেশি, ইজরায়েলের কাছে বিশ্বের সেরা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। গ্লোবাল ফায়ার ইনডেক্স অনুযায়ী, ইরান ১৪ নম্বরে এবং ইজরায়েল ১৭ নম্বরে রয়েছে সামরিক ক্ষমতার নিরিখে।

সৈন্য সংখ্যা-

ইরানের মোট ১১.৮০ লক্ষ সেনা রয়েছে। যেখানে ইজরায়েলের সেনার সংখ্যা ৬.৭০ লক্ষ। ইরানের সক্রিয় সেনার সংখ্যা ৬.১০ লক্ষ। সেখানেই ইজরায়েলের সক্রিয় সেনার সংখ্যা ১.৭০ লক্ষ। ইরানের রিজার্ভ সামরিক বাহিনী হল সাড়ে ৩ লক্ষের। ইজরায়েলের সেক্ষেত্রে সংখ্যাটা একটু বেশি, ৪.৬৫ লক্ষ। ইরানে ২.২০ লক্ষ আধা সামরিক বাহিনী আছে। ইজরায়েলের ক্ষমতা সেখানে মাত্র ৩৫ হাজার।

স্থল-জলে শক্তি বেশি ইজরায়েলের–

ইরানের বায়ু সেনার সংখ্যা ৪২ হাজার। ইজরায়েলের বায়ুসেনার সংখ্যা ৮৯ হাজার। স্থল বাহিনীর হিসাব করলে,  ইরানের সাড়ে ৩ লক্ষ এবং ইজরায়েলের ৫.২৬ লক্ষ সেনা রয়েছে। ইরানের মোট ১৮ হাজার ৫০০ নৌসেনা আছে। ইজরায়েলের নৌসেনার সংখ্যা ১ হাজার বেশি।

ইজরায়েলের শক্তিশালী বিমান বাহিনী-

ইরানের বিমান বাহিনীর কাছে ৫৫১টি রিজার্ভ বিমান রয়েছে। ৩৫৮টি সক্রিয় বিমান রয়েছে। ইজরায়েলের কাছে ৬১২টি বিমান রিজার্ভে এবং ৪৯০টি অ্যাকটিভ বিমান আছে। ইরানের কাছে ১৮৬টি যুদ্ধবিমান আছে। এর মধ্যে ১২১টি সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। ইজরায়েলের কাছে ২৪১টি যুদ্ধবিমান আছে। এর মধ্যে ১৯৩টি সবসময় প্রস্তুত থাকে আঘাত হানতে।

ইরানের তুলনায় ইজরায়েলের ট্যাঙ্ক ও কামান কম-

ইরানের কাছে মোট ১৯৯৬টি ট্যাঙ্ক রয়েছে, যার মধ্যে ১৩৯৭টি বর্তমানে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ইজরায়েলের ১৩৭০টি ট্যাঙ্ক রয়েছে, যার মধ্যে ১০৯৬টি ট্যাঙ্ক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকে। ইরানের ৬৫,৭৬৫টি সামরিক যান আছে। ৪৬ হাজার অ্যাকটিভ ফোর্স।

এবার আসা যাক আসল ক্ষমতায়। দুই দেশই ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল দিয়ে আক্রমণ করছে।

ইরানের ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল শক্তি:

  • ইরানের রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ মিসাইল ভাণ্ডার।
  • দেশটি হাজার হাজার ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল তৈরি করেছে।
  • রেঞ্জ অনুযায়ী এর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩০০ কিমি থেকে ২০০০ কিমি পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

প্রধান মিসাইল গুলি হল-

  • Quds-1 600+ কিমি ক্রুজ
  • Ya-Ali 700 কিমি ক্রুজ
  • Soumar/Hoveyzeh 1350+ কিমি ক্রুজ
  • Fateh-110/313 300–500 কিমি SRBM
  • Zolfaghar 700 কিমি SRBM
  • Shahab-1/2 300–500 কিমি SRBM
  • Shahab-3 1300 কিমি MRBM
  • Qiam-1 800 কিমি MRBM
  • Khorramshahr 2000 কিমি MRBM
  • Emad 1700 কিমি MRBM
  • Sejjil 2000 কিমি MRBM (solid fuel)
  • Ghadr 2000 কিমি MRBM

এর বৈশিষ্ট্য কী:

জ্বালানি প্রযুক্তি: Shahab-3 ও Ghadr এর মতো অনেক মিসাইল তরল জ্বালানি নির্ভর, তবে Sejjil কঠিন জ্বালানি ভিত্তিক, যা দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো যায়। ইরান থেকে ছুড়লে ইরাক, ইজরায়েল, সৌদি আরব, আফগানিস্তান, তুরস্ক এবং দক্ষিণ ইউরোপ পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইলগুলি। অভিযোগ, ইরান তলে তলে  হিজবুল্লা, হুথিদেরও সাহায্য করেছে এই মিসাইল দিয়ে।

ইজরায়েলের ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল শক্তি:

ইসরায়েলের মিসাইল প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত, যার মধ্যে রয়েছে আধুনিক লং-রেঞ্জ স্ট্র্যাটেজিক মিসাইল এবং ট্যাকটিক্যাল লয়টারিং অস্ত্র। ইজরায়েল নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি রফতানির জন্যও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে।

এর প্রধান মিসাইল গুলি হল:

  • Popeye 100 কিমি ক্রুজ
  • Popeye Turbo 200+ কিমি ক্রুজ
  • EXTRA 150 কিমি রকেট
  • Gabriel 200 কিমি অ্যান্টিশিপ
  • Delilah 250 কিমি ক্রুজ
  • LORA 280 কিমি SRBM
  • Jericho-2 1500 কিমি MRBM
  • Jericho-3 4800 কিমি IRBM/ICBM (সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষম)

 বৈশিষ্ট্য:

  • Jericho-3 হল সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা মধ্য ইউরোপ থেকে ভারত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম।
  • Delilah এবং Popeye Turbo হলো উচ্চ নির্ভুলতা সম্পন্ন ক্রুজ মিসাইল।
  • Sejjil, Khorramshahr -এই মিসাইলগুলির সর্বোচ্চ রেঞ্জ ২০০০ কিমি। Jericho-3- র মতো শক্তিধর মিসাইলের রেঞ্জ হল ৪৮০০ কিমি। পরমাণু ক্ষমতাও রয়েছে।

ইরান বিশাল মিসাইল সংখ্যা এবং ভৌগোলিক কভারেজের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে চায়, যেখানে ইজরায়েল নির্ভুলতা, উন্নত প্রযুক্তি ও ডিটারেন্স নীতির উপর জোর দেয়। ইজরায়েলের Jericho-3 এর মতো মিসাইল বিশ্বের সবচেয়ে দূরপাল্লার মিসাইলগুলির মধ্যে অন্যতম। তা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম বলেই মনে করা হয়। অপরদিকে, ইরানের লক্ষ্য হল মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের হুমকির মুখে রাখা। এবার সংঘাত শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেয়, তাই-ই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *