দুর্ঘটনায় মৃত হাওড়ার তরুণের অঙ্গে নতুন জীবন ৩ জনের, প্রতিস্থাপিত লিভার-কিডনি - 24 Ghanta Bangla News
Home

দুর্ঘটনায় মৃত হাওড়ার তরুণের অঙ্গে নতুন জীবন ৩ জনের, প্রতিস্থাপিত লিভার-কিডনি

মৃত তরুণের অঙ্গে নয়া জীবন পেলেন তিনজন। হাওড়ার তরুণ ২৩ বছরের পুষ্কর পালের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর অঙ্গদান করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। পরে তিনজনের শরীরে সেই অঙ্গ প্রতিস্থাপিত করা হয়।

আরও পড়ুন: ‘অন্যের মধ্যে বেঁচে থাকবে জয়েশ’ পথ দুর্ঘটনায় মৃত যুবকের অঙ্গে নতুন জীবন ৪ জনের

গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্ধুদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে নিজের বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন পুষ্কর। বাইক চালানোর সময় একটি লরিকে পাশ কাটাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তিনি। ঘটনায় রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথমে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আমতা গ্রামীণ হাসপাতালে। সেখান থেকে দ্রুত রেফার করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে।

চিকিৎসকেরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শুক্রবার সকাল থেকে তাঁর মস্তিষ্ক নিস্তেজ হতে শুরু করে। শেষমেশ শনিবার রাতে তাঁকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করা হয়। সেই মুহূর্তে পুষ্করের পরিবার যা করলেন, তা সহজ নয়। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, ছেলের অঙ্গগুলি দান করবেন, যাতে পুষ্কর অন্যের মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে। জানা গিয়েছে, রিজিওনাল অর্গান অ্যান্ড টিস্যু ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশন (রোটো)-এর তত্ত্বাবধানে রবিবার সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুষ্করের লিভার ও দুটি কিডনি তিনজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, ৫২ বছর বয়সি এক মহিলা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি বিকল হওয়ায় কম্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দ্বিতীয়জন হলেন, ৩৫ বছর বয়সি অপর এক মহিলা। তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপিত হয়েছে পুষ্করের দ্বিতীয় কিডনি। আর ৪৭ বছর বয়সি এক লিভার সিরোসিস রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপিত হয় পুষ্করের লিভার।হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রতিস্থাপনের পর এই তিনজনেরই শারীরিক অবস্থা ধীরে-ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা তাঁদের ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরে এটিই শহরের সপ্তম মরণোত্তর অঙ্গদান। আর এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট ২১ জন রোগী নতুন জীবন ফিরে পেলেন ২০২৫-এ। এর আগে গত ১৫ মে একইভাবে ভাবে পথ দুর্ঘটনায় মৃত এক তরুণের অঙ্গ দান করেছিল পরিবার। তাতে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছিলেন চারজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *