দলের নির্দেশের ১ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইলেন অনুব্রত, লিখলেন দিদির পুলিশের কাছে…
চতুর্মুখি চাপে বোলপুর থানার আইসিকে ফোনে কুৎসিৎ ভাষায় আক্রমণ করে ক্ষমা চাইলেন অনুব্রত মণ্ডল। দলের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই শুক্রবার বিকেলে লিখিতভাবে ক্ষমা চান তিনি। বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ প্রকাশ্যে আসা সেই চিঠিতে তাঁর ওই কাজ করা ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন অনুব্রত। এবার দেখার দল তাঁর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়।
প্রতিদিনের মতো শুক্রবার দুপুরেও বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছন অনুব্রত। তবে এদিন দলীয় দফতরে তাঁকে ঘিরে দেখা যায়নি চেনা ভিড়। ততক্ষণে দলের তরফে অনুব্রতকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে। এর পরই দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষমা চাইবেন বলে জানিয়ে দেন অনুব্রত। ওদিকে বাইরে কীভাবে ও কতক্ষণে অনুব্রত ক্ষমা চান তার অপেক্ষায় ছিলেন সাংবাদিকরা। বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ প্রকাশ্যে আসে ক্ষমা চেয়ে অনুব্রতর লেখা চিঠি।
চিঠিতে অনুব্রত লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের পুলিশমন্ত্রী মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে পুলিশ আধিকারিককে যে হুমকি দিয়েছেন সেজন্য তিনি দুঃখিত। দিদির পুলিশের কাছে একবার কেন একশ বার ক্ষমা চাইতে রাজি আছি। এভাবে একজন পুলিশ আধিকারিককে আক্রমণ করা তাঁর ভুল হয়েছে।’
হস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি অডিয়ো ক্লিপ। তাতে অনুব্রত মণ্ডলকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে শোনা যায় বোলপুর থানার আইসিকে। এমনকী আইসির স্ত্রীকে নিয়ে অত্যন্ত অসম্মানজনক মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার সেই অডিয়ো ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এর পরই তৎপরতা বাড়ে পুলিশমহলে। অনুব্রতর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেয়ে নবান্নের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। দুপুরে সেই অনুমতি পৌঁছলে FIR দায়ের হয় কেষ্ট মণ্ডলের বিরুদ্ধে।
অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে তৃণমূল পদক্ষেপ করেছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর জন্য যে ৫ জন সহকারী বরাদ্দ ছিল তাঁদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে দলের তরফে তাঁকে দেওয়া গাড়ি। একই সঙ্গে প্রশাসনের তরফে অনুব্রত মণ্ডলের ৪ জন নিরাপত্তারক্ষী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বলে খবর। ওদিকে অনুব্রতকে রুরাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সরকারি পদ থেকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।