শ্বাসনালিতে পিন আটকে গিয়ে মারাত্মক বিপদ! জটিল অপারেশনে প্রাণ বাঁচল কিশোরের - 24 Ghanta Bangla News
Home

শ্বাসনালিতে পিন আটকে গিয়ে মারাত্মক বিপদ! জটিল অপারেশনে প্রাণ বাঁচল কিশোরের

Spread the love

কিশোরের শ্বাসনালিতে আটকে গিয়েছিল বোর্ডপিন। যার ফলে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে আসছিল। ফুসফুসে সংক্রমণের আশঙ্কাও ছিল। অবশেষে সরকারি হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারে প্রাণ বাঁচল ওই রোগীর। মঙ্গলবার সকালে ওই কিশোরের অস্ত্রোপচার হয়। এরপর তাঁকে রাখা হয় পেডিয়াট্রিক ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটে।

আরও পড়ুন: আরজি কর আন্দোলনের মুখ দেবাশিস হালদারের বদলি নিয়ে বিতর্ক, পড়বে ডেপুটেশন

জানা গিয়েছে, বছর ১১-র ওই কিশোরের নাম অঙ্কন বিশ্বাস। সে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের বাসিন্দা। কীভাবে পিনটি তার শ্বাসনালিতে চলে গিয়েছিল? তা অঙ্কন-সহ পরিবারের সদস্যরা কেউ কিছু বলতে পারছেন না। তবে সম্প্রতি অঙ্কনের শ্বাসকষ্ট এবং সঙ্গে কাশি শুরু হয়। সেইসঙ্গে বাঁদিকে বুকে ব্যথা শুরু হয়। শনিবার তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাজে নিয়ে যান বাবা-মা। চিকিৎসক ওষুধ দেন। কিন্তু, তারপরও কিছুতেই সমস্যার সমাধান হয়নি। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বসিরহাট স্টেট জেনারেল হাসপাতালে।

সেখানে তার বুকের এক্স রে চিকিৎসকরা জানতে পারেন, বাঁদিকের শ্বাসনালিতে একটি বোর্ড পিন আটকে রয়েছে। সঙ্গে-সঙ্গে তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান করা হয়। তাতে আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ধাতব পিন আটকে থাকার বিষয়টি। জানা গিয়েছে, পিনে বাঁদিকের ফুসফুসের কিছু অংশ চুপসে যায়। যার ফলে সমস্যা হচ্ছিল। তখন চিকিৎসকরা তার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসকদের দলে ছিলেন নাক, কান, গলা বিভাগের অধ্যাপক দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিশোরের শ্বাসনালি থেকে উদ্ধার হওয়া পিনটি আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা ছিল। পিনের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে কিশোরের। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা নাগাদ কিশোরের অস্ত্রোপচার হয়। বেলা ১২টা ব্রঙ্কোস্কপির সাহায্যে বেশ কয়েকবারের চেষ্টায় পিনটি বের করা হয়। কিন্তু, শ্বাসনালিতে রক্তক্ষরণ হওয়ার ফলে রোগীকে ভেন্টিলেশনে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে ডাঃ দীপ্তাংশু মুখোপাধ্যায় জানান, অ্যানাস্থেসিয়া টিম ভালো কাজ করেছে। পিনটি বের করা সহজ ছিল না। চিকিৎসকরা জানান, দেরি হলে বড় বিপদ হতে পারত। প্রাণহানির পর্যন্ত সম্ভাবনা ছিল। অঙ্কনকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেই তাকে বাড়ি পাঠানো হবে বলে জানান চিকিৎসকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *