সন্তান প্রসবের ১ মাসের মধ্যে কাজে ফিরতে চাপ, মৃত্যু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর - 24 Ghanta Bangla News
Home

সন্তান প্রসবের ১ মাসের মধ্যে কাজে ফিরতে চাপ, মৃত্যু অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর

Spread the love

একেই বলে প্রদীপের নীচে অন্ধকার। যাঁর কাজ ছিল গর্ভবতী মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া তাঁরই মৃত্যু হল মাতৃত্বকালীন ছুটি না পেয়ে। ছুটি না পেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। এই ঘটনাকে ঘিরে ধূপগুড়ির আইসিডিএস অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মিলপাড়া এলাকায়।

জানা গিয়েছে, মৃত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর নাম বীণা রায়। মাগুরমারী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী চামুর্চি এলাকায় কর্মরত ছিলেন বীণাদেবী। এক মাস আগে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। অভিযোগ, সন্তান জন্মের পর ছুটি চেয়েও পাননি তিনি। প্রতিদিন ধূপগুড়ি থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে ডিউটি করতে যেতে হত তাঁকে। শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও কাজে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে লাগাতার চাপ দিচ্ছিলেন ICDS প্রকল্পের সুপারভাইজার থেকে সিডিপিও।

অভিযোগ, অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপে অসুস্থ হয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যু হয় বীণা রায়ের। পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, সরকার যেখানে মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়ার কথা বলছে, সেখানে মাঠে – ময়দানে কাজ করা মহিলাদের জন্য সেই ন্যূনতম মানবিক সুযোগটুকুও নেই। আর তাই, এই মৃত্যু কার অবহেলায় – সেই প্রশ্ন তুলে পথে নামেন সহকর্মীরা।

ওদিকে অভিযুক্ত আধিকারিকের দাবি, বিষয়টি তিনি জানেন না। কিন্তু মৃত অন্যান্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা বীণা দেবীর লেখা চিঠির আবেদনপত্র দেখিয়ে দাবি করেছেন, মিথ্যে বলছেন ওই আধিকারিক।

বিক্ষোভকারীরা হাতে ব্যানার – প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন – “সহকর্মীর মৃত্যুর দায় কার?” বিক্ষোভ ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ছুটে আসে ধূপগুড়ি থানার আইসি সহ বিশাল পুলিশবাহিনী।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন! এই ঘটনার পর আইসিডিএস প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যজুড়ে। কর্মীদের বক্তব্য – “যাদের দায়িত্ব প্রসূতি মা ও শিশুদের যত্ন নেওয়ার, তারাই যদি মাতৃত্বকালীন সময়েও ছুটি না পায়, তাহলে এটা কেমন নীতি?”

ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো বিবৃতি মেলেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *