অন্নপ্রাশনের নিমন্ত্রণ খেতে যাওয়া TMC নেতাকে রাস্তা অন্ধকার করে হাঁসুয়া নিয়ে তাড়া, কুপিয়ে খুন! - 24 Ghanta Bangla News
Home

অন্নপ্রাশনের নিমন্ত্রণ খেতে যাওয়া TMC নেতাকে রাস্তা অন্ধকার করে হাঁসুয়া নিয়ে তাড়া, কুপিয়ে খুন!

মালদা জেলার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা এলাকার কাউন্সিলর দুলাল সরকার ওরফে বাবলা সরকারের খুনের মামলার তদন্ত এখনও চলছে। তারই মধ্যে ফের একবার মালদা জেলায় খুন হলেন শাসকদলের আরও এক স্থানীয় নেতা। পরিবারের এবং এলাকার তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, তাঁকে খুন করিয়েছে বিজেপি। পালটা গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই ঘটনা পারিবারিক কোন্দলের ফল। অন্যদিকে, পুলিশ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এক মহিলাকে আটক করেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, নিহত ওই তৃণমূল নেতার নাম সুবল ঘোষ। তিনি মালদা জেলার ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত বারোদুয়ারি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গতকাল (রবিবার – ১৮ মে, ২০২৫) রাতে এক আত্মীয়ের সন্তানের অন্নপ্রাশন উপলক্ষ্যে ভোজ খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েই তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।

জানা গিয়েছে, সুবলকে রাস্তায় একা পেয়ে ধারাল অস্ত্র নিয়ে তাঁকে তাড়া করে দুষ্কৃতীরা। এমনকী, হামলাকারীরা রাস্তার আলো পর্যন্ত নিভিয়ে দেয় বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রাণ বাঁচাতে অন্ধকার রাস্তাতেই সুবল দৌড়তে থাকেন। তাঁর পিছনে দৌড়তে থাকে দুষ্কৃতীরাও। এই সময়েই সুবলকে একের পর এক হাঁসুয়ার কোপ মারা হয়! পরে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সুবলকে। স্থানীয় বাসিন্দারা সুবলকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্য়াল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু, সেখানকার চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সুবল তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এলাকায় দলের হয়ে প্রচার করতেন তিনি। আর সেটা করাতেই বিজেপির একাংশের আক্রোশ ছিল তাঁর উপর। সেই কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন, এমন কয়েকজন সন্দেহভাজনের নামও পুলিশকে জানিয়েছেন সুবলের পরিবারের সদস্যরা। মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র আশিস কুণ্ডুও এই ঘটনার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা পলাতক। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে, অভিযুক্তদের পরিবারের এক মহিলা সদস্যকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বিজেপির দক্ষিণ মালদার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি করছেন, সুবলের এই মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি পারিবারিক কোন্দলের শিকার হয়েছেন। এর সঙ্গে বিজেপির কেউ কোনওভাবেই যুক্ত নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *