‌‘‌পুলিশ আর একটু সংবেদনশীল হলে পারত’‌, এডিজি দক্ষিণবঙ্গের দাবি ওড়ালেন স্পিকার - 24 Ghanta Bangla News
Home

‌‘‌পুলিশ আর একটু সংবেদনশীল হলে পারত’‌, এডিজি দক্ষিণবঙ্গের দাবি ওড়ালেন স্পিকার

Spread the love

অবিলম্বে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আর টাকা দিয়ে চাকরি পাওয়া অযোগ্যদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। যারা এই টাকা নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করতে হবে। এই দাবিগুলি তুলে গত বৃহস্পতিবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে যায় সল্টলেকের বিকাশ ভবনে। বিকাশ ভবন অভিযানে নামে চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের অধিকার মঞ্চ। গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন চাকরিহারারা। আবার সন্ধ্যায় সরকারি কর্মীদের বাড়ি যেতে না দিয়ে ঘেরাও করা এবং পুলিশকে আক্রমণ করার অভিযোগে লাঠিচার্জ নেমে আসে তাঁদের উপর। এই ঘটনায় আজ, শনিবার এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রিম সরকারের দাবি ওড়ালেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তা নিয়ে এখন রাজ্য–রাজনীতি তুঙ্গে।

আজ, শনিবার দুপুরে চাকরিহারা শিক্ষক শিক্ষিকাদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ালেন আইএনটিইউসি সেবাদল। এদিন তারা মিছিল করে এসে বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা শিক্ষক–শিক্ষিকাদের আন্দোলন মঞ্চে জমায়েত করে। আই এনটিইউসি সেবা দলের এক কর্মী রবীন্দ্রনাথের ছদ্মবেশে গোলাপ ফুল হাতে নিয়ে দাঁড়ায় পুলিশ অফিসারদের সামনে। এই লাঠিচার্জের বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার বলেছিলেন, ‘‌দশদিন ধরে চাকরিহারা শিক্ষকরা বিকাশ ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছেন। পুলিশ সহযোগিতা করছে। তবে বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি পাল্টে যায়। চাকরিহারাদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিকাশ ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে। জোর করে ঢুকতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাক্কাধাক্কি হয়। গেট ভাঙার সময়ও বলপ্রয়োগ করা হয়নি। সাত ঘণ্টা ধরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়েছে। তারপরেও পুলিশ সংযত, সহনশীল ছিল। ধৈর্য ধরেছে। পরে পুলিশ সামান্য বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়।’‌

আরও পড়ুন:‌ চলন্ত লঞ্চ থেকে মাঝ গঙ্গায় ঝাঁপ দিলেন দম্পতি, হাওড়ার বাধাঘাটে তারপর কী ঘটল?

গত বৃহস্পতিবার বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র সব্যসাচী দত্ত বিকাশ ভবনের ভিতরে ঢুকতে গেলে চাকরিহারারা ঘিরে ধরেন সব্যসাচীকে। তাঁকে ধরে রীতিমতো টানা হ্যাঁচড়া করার সঙ্গে স্লোগান তোলেন ‘চাকরি চোর’। তখনও একপ্রস্থ বচসা হয়। আবার সব্যসাচী দত্তের গাড়ির সামনে শুয়ে পড়েন চাকরিহারারা। আন্দোলন চরমে উঠলে তা হঠাতে ওই দিন রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের উপরে লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর এই ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আজ বলেন, ‘পুলিশ আর একটু সংবেদনশীল হলে পারত। তালা ভেঙে যেভাবে ভিতরে ঢোকা হয়েছে, যেভাবে গেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে সেটাকে আমি সমর্থন করতে পারি না।’‌‌

আজ আবার কংগ্রেসের সেবাদল প্রতীকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে হাজির হয় বিকাশ ভবনের সামনে। সেখানে প্রতীকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বক্তব্য, ‘‌শিক্ষকদের মারধর করা এবং অপমান করা মানে শিক্ষাকেই অপমান করা। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনের সামনে পুলিশ সেটাই করেছে। বাংলা মানেই শান্তি এবং সম্প্রীতির জায়গা। সেই বার্তা পুলিশকেও আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি।’‌ গতকাল হাজরায় এক পুলিশ অফিসারও বলেছিলেন, লাঠি চালানো ঠিক হয়নি। ইতিমধ্যেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী ৯ জুন বিধানসভা অচল করে দেবেন। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে স্পিকার বিমানের কথায়, ‘‌আগে ৯ তারিখ আসুক, তারপর দেখা যাবে।’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *