Explained Virat Kohli's Impact: বিরাট বিদায়ে কী হবে ভারতীয় টিমের? - Bengali News | Explained: Virat Kohli's Impact in Indian and World Test Cricket what will happen as he retired - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained Virat Kohli’s Impact: বিরাট বিদায়ে কী হবে ভারতীয় টিমের? – Bengali News | Explained: Virat Kohli’s Impact in Indian and World Test Cricket what will happen as he retired

Spread the love

রোহিত শর্মার পর বিরাট কোহলি। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর রো-কো জুটির। চারিদিকে সকলে এমন করছেন, যেন টেস্ট ক্রিকেটটাই বন্ধ হয়ে গেল! আর এই ফরম্যাটে খেলা হবে না…! বিশেষ করে বিরাট কোহলিকে নিয়ে। বয়স হয়েছে, ব্যাটিং গড় কমেছে, সেঞ্চুরিও তো মাত্র ৩০টি, ১০ হাজার রানও হয়নি। তা হলে এই গেল গেল রব কেন? একদিন না তো অবসর নিতেই হত। এত প্রশ্ন কিংবা আলোচনার প্রসঙ্গ আসছে কারণ, টাইমিং।

বিরাট কোহলির টাইমিং নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ রয়েছে? মনে হয় না। তাঁর কভার ড্রাইভ, অন ড্রাইভ, ফ্লিক টেস্টেও তো একইরম মসৃণ টাইমিং। তা হলে অবসরের ক্ষেত্রে এই মিসটা কী করে হল। আর যদি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানোরই হত, অস্ট্রেলিয়ায় ঘোষণা করে দিতে পারতেন। ঠিক যেমনটা রবিচন্দ্রন অশ্বিন করেছিলেন।

বৃষ্টিতে তখন খেলা থেমে, ড্রেসিংরুমে পাশাপাশি বসে বিরাট কোহলি ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কাচের ভেতর, সবটা দেখা গেলেও, বোঝা যায়নি আলোচনার বিষয়বস্তু। কিন্তু আলোচনা শেষে বিরাট-অশ্বিনের গভীর আলিঙ্গনেই সবটা কাচের ভেতরের আলোচনার সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়। ম্যাচ পণ্ড হতেই সাংবাদিক সম্মেলনে রোহিতের সঙ্গে প্রবেশ অশ্বিনের। এবং অবসর ঘোষণা।

যদি সত্যিই অবসর নেওয়ার হত, বিরাট-রোহিতও এমন করতে পারতেন। সিরিজ হারের দায় নিয়ে সরে যেতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা দেশে ফিরলেন এবং রঞ্জি ট্রফির ম্যাচ খেললেন! গত তিনটি টেস্ট সিরিজের প্রসঙ্গ ধরলে রোহিত শর্মার পারফরম্যান্স, ফিটনেস নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিরাটের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফিটনেস? শুধু ক্রিকেটারই নন, এশিয়ার অন্যান্য খেলার সঙ্গে যুক্ত ক্রীড়াবিদরাও তাঁর ফিটনসে ট্রেনিং, ডায়েট নিয়ে আলোচনা করেন। মাঠে তাঁর ছটফটে ভাব দেখে আর যাই হোক, এটা বোঝা যায় না, বয়সটা ৩৬। তা হলে অবসর কেন?

সিদ্ধান্ত কি আদৌ বদলাবে? এখনও অবধি এমন সম্ভাবনা নেই। অন্তত বিরাট কোহলির যা দক্ষতা, মান, এবং অভিমান, তাতে এই সিদ্ধান্ত বদলানো কার্যত অসম্ভব। ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই ঘোষণা করেছিলেন, এই ফরম্যাটে নেতৃত্ব ছাড়বেন। সঙ্গে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন, টেস্ট এবং ওয়ান ডে ক্রিকেটে নেতৃত্ব চালিয়ে যাবেন। ব্যাটিংয়ে মনযোগ দিতেই একটা টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব ছাড়ছেন শুধু। কিন্তু বোর্ড অন্য সিদ্ধান্ত নেয়। পরিষ্কার করে দেয়, সাদা বলের ফরম্যাটে ভিন্ন ক্যাপ্টেন রাখা হবে না। রোহিতকে একসঙ্গে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ান ডে-র নেতৃত্ব দেওয়া হয়।

বিরাট কোহলি যে বিষয়টা মেনে নিতে পারেননি, দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজেই বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সিরিজ শেষ হতেই টেস্ট থেকেও নেতৃত্ব ছেড়ে দেন নিজে থেকেই। মোব়াল অব দ্য স্টোরি, বিরাটের ফোকাস ছিল খোলা মনে ব্যাটিংটা চালিয়ে যাবেন। প্রস্তুতিতেও তো কোনওদিন খামতি রাখেননি। বারবার যে প্রশ্নটা উঠছে, যে ফরম্যাটকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন বিরাট কোহলি, অবসর কেন?

সামনেই ইংল্যান্ড সিরিজ। ‘নতুন’ ভারতের খেলা দেখবে ক্রিকেট বিশ্ব। কিন্তু এই নতুন ভারত ঠিক কারা? প্রত্যেক প্রজন্মেই এমন একজন আসেন, যিনি বিশ্ব ক্রিকেটকে শাসন করেন। সচিন তেন্ডুলকর খেলা ছাড়ার পর মনে হয়েছিল, এরপর কে? কিন্তু এতটা শূন্য়তা ছিল না। সচিন যে অবসর নেবেন, তা অনেক আগে থেকেই জানতে পেরেছিলেন ক্রিকেট প্রেমীরা। বোর্ডের তরফে বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২ ম্যাচের সিরিজ। যার একটা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে। আর কেরিয়ারের শেষ টেস্ট তাঁরই উঠে আসার গল্প যেখান থেকে শুরু হয়েছিল, সেই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। সকলেই মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু বিরাটের ক্ষেত্রে তা নয়।

সচিনের পর বিরাট কোহলি সেই পতাকা বয়েছেন। একজন ক্রিকেটারের সাফল্য-ব্যর্থতা শুধুমাত্র ট্রফি-রান- উইকেট দিয়েই যে বিচার হয়, তা নয়। তিনি খেলা থেকে কী পেয়েছেন সেটা তাঁর কাছে অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এই খেলাকে তিনি কী দিয়েছেন! বিরাটকে নিয়ে সে কারণেই এত আলোচনা।

একটা সময় টেস্ট ক্রিকেট হয়ে দাঁড়িয়েছিল মৃতপ্রায়। বোরিং, ঘুমপাড়ানি ক্রিকেট। বিরাট কোহলি সেই ট্রেন্ড বদলে দিয়েছিলেন। তার উদাহরণের লম্বা লিস্ট। সবচেয়ে বড় উদাহরণ তো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। প্রশ্ন উঠতেই পারে, বিরাট কোহলি কি আইসিসি নাকি! এই টুর্নামেন্ট তো আইসিসি চালু করেছে। বিরাটের প্রভাব কোথায়? যথেষ্ট রয়েছে। ভাবনাটা আইসিসির অনেক বছর থেকেই ছিল। সঠিক সময় কোনটা, ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না।

বিরাট কোহলি সাদা জার্সির ক্রিকেটকেও যে ভাবে রঙিন করে তুলেছেন, পোস্ট ম্যাচ প্রেজেন্টেশনে বারবার তাঁর মুখ থেকে টেস্ট ক্রিকেটের কথা, এর উন্নতির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। তাঁর পছন্দের ফরম্যাট যে টেস্ট ক্রিকেট, সেটা যখন একাধিক বার বলেছেন, আইসিসি সিগন্যালটা সেখানেই পেয়েছিল। এটাই সঠিক সময়। সেটা না হলে, ২০১৯ নয়, আরও অন্তত বছর তিন-চারেক আগেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হয়ে যেত।

একটা সময় তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটারের কাছে আইপিএল- হয়ে উঠেছিল আল্টিমেট। বছরে ২-৩ মাসের জন্য খেলা, লক্ষ-কোটি টাকা উপার্জন, গ্ল্যামার, পরিচিত, আর কী চাই! বিরাট কোহলিকে দেখে একটা প্রজন্ম বলতে শিখেছে, তাঁরাও টেস্ট ক্রিকেটটা খেলতে চান। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে! প্রাক্তন ক্রিকেটাররা বিরাটের সম্পর্কে বলতে পারেন, টেস্ট ক্রিকেটের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। প্রতিপক্ষ দলের একটা টেস্ট সিরিজের পরিকল্পনা শুরু করে বিরাট কোহলিকে নিয়ে। তাঁর পর বাকিদের কথা ভাবনায় আসে।

শুরুতেই যে প্রশ্নটা এসেছিল, টেস্ট ক্রিকেট কি বন্ধ হয়ে যাবে? তা একেবারেই নয়। যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, টেস্ট ক্রিকেট কি আগের মতো থাকবে? এর উত্তরও একই। ইংল্যান্ড সিরিজ প্রসঙ্গই ধরা যাক। তারা হয়তো একদিক থেকে স্বস্তিতে থাকবেন, যাক এবার বিরাট কোহলি নেই। কিন্তু এই অস্বস্তিটাও থাকবে, আরে বিরাট কোহলি নেই! সেই চার্মটা কোথা থেকে আসবে! ক্রিকেট প্রমীরা কাকে দেখতে মাঠ ভরাবেন? বিরাটের ‘ব্যাট টকিং’ সেলিব্রেশন কিংবা ‘এই ৬০ ওভার যেন প্রতিপক্ষর কাছে নরকের মতো হয়’, কোনও বোলার উইকেট নিলে তাঁর চেয়ে বেশি সেলিব্রেশনে মেতে থাকা, ঠান্ডা চাহনিতে বুঝিয়ে দেওয়া, ‘আমরা এখানে বেড়াতে আসিনি’, এই যে সাদা জার্সি, লাল বলে রোমাঞ্চকর সিনেমা, কে তৈরি করবে?

ইংল্যান্ড বোর্ডও ভাবতে বাধ্য, ব্র্যান্ডিংটা হবে কাকে নিয়ে? আইসিসি, ব্রডকাস্টারদেরও ভাবনা সেখানেই। ভারতীয় টিমে বিরাট কোহলির সিঁকি ভাগ ‘ক্যারেক্টার’ কে? কাকে প্রোজেক্ট করে একটা সিরিজ উতরোনো যাবে! আর যাই হোক, ‘গায়ে মানে না আপনি মোড়ল’ গোছের কাউকে দিয়ে ব্র্যান্ডিং হবে না…। হয়তো অনেকে বুঝতে পারছেন কিংবা উপলব্ধি করতে পারছেন, সব কিছু আর আগের মতো থাকবে না। এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে অন্তত বছর তিনেক প্রয়োজন। তাতেও গ্যারান্টি নেই, টেস্ট ক্রিকেট আবারও আগের মতোই হয়ে উঠবে। একটা সহজ সমীকরণ- অ্যাসেজ সিরিজ ছাড়া, আর কোন টেস্ট ম্যাচে গ্যালারি আগের মতো ভরবে! ইংল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের সিরিজেই যেন এই এতগুলো প্রশ্নের জবাব। গ্যালারিতে বিরাট কোহলির জার্সি পরা, পোস্টার, ব্যানার থাকলে অবাক হওয়ার নেই। ঠিক যেমনটা সচিনের জন্য হয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *