Explained: পাকিস্তান নয় চিন হারল ভারতের কাছে, জানুন কীভাবে? - Bengali News | IAF PROVES SUPERIOR: INDIA CRUSHES CHINESE TECH, NOT PAKISTAN - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: পাকিস্তান নয় চিন হারল ভারতের কাছে, জানুন কীভাবে? – Bengali News | IAF PROVES SUPERIOR: INDIA CRUSHES CHINESE TECH, NOT PAKISTAN

Spread the love

পহেলগাঁও হামলার প্রত্যাঘাতে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ধাক্কা কি শুধু পাক সেনাঘাঁটিতে লেগেছে? না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের এই আঘাত সোজাসুজি লেগেছে বেজিংয়ের বুকে। তার কারণ, পাক সেনার অন্তত ৮০ শতাংশ সামরিক অস্ত্রই চিনের কাছ থেকে ভিক্ষা পাওয়া বা আমদানিকৃত। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে তুল্যমূল্য বিচারে চিনা অস্ত্রের বাজারদর আজ তলানিতে। হু হু করে পড়ছে শীর্ষস্থানীয় চিনা সংস্থার শেয়ারদর।

অন্যদিকে, রাশিয়া-ফ্রান্স-সুইডেন-ইজরায়েলের অস্ত্রে বলীয়ান ভারতের অভেদ্য ডিফেন্স সিস্টেম ও দেশি ‘আকাশ’, নাগাস্ত্র প্রথম পরীক্ষাতেই সসম্মানে উত্তীর্ণ হওয়ায় চড়চড় করে বেড়েছে ভারতীয় সংস্থার বাজারদর। সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘর্ষবিরতি চললেও এই লড়াই আর একা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভারতীয় সেনা যখন প্রথমবার চিনা জেট-মিসাইলকে নাস্তানাবুদ করার প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে, তখন বৃহত্তর প্রেক্ষিতে লড়াইটা এখন চিনা সমরাস্ত্র বনাম ভারতীয় সমরাস্ত্রের। লালপার্টির ভুয়ো দাবি বনাম ভারতের বীর সেনার পরাক্রমের।

সত্যি বলতে, প্রায় চার দশক পর এই প্রথম কোনও চিনা অস্ত্র যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহৃত হল। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির তথ্য মোতাবেক, ২০২০ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে যত সামরিক অস্ত্র পাক সেনার ভাঁড়ারে এসেছে, তার ৮১ শতাংশই চিনে তৈরি। কারণ, ২০১৪-র পর থেকে অস্ত্রের জন্য আমেরিকার উপর থেকে মোহ কেটে যায় পাকিস্তানের। বরং লালপার্টির দেশে সস্তায় সরবরাহ করা অস্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে ইসলামাবাদ। আমদানির তালিকায় কী নেই!

১. J-10C ও

২. JF-17 যুদ্ধবিমান

৩. PL-15 অ্যাকটিভ রেডার গাইডেড লং রেঞ্জ এয়ার টু এয়ার মিসাইল

৪. HQ-9P গ্রাউন্ড টু এয়ার মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম আরও কত কী।

তুরস্কের YIHA III কামিকাজে ড্রোনের কথা নাই বা বললাম। ১০ মে, অমৃতসরের কাছে সেগুলির আস্ত ঝাঁককেই নামিয়ে দিয়েছে ভারত।

ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশন, এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী সাংবাদিক বৈঠক করে সর্বপ্রথম ভারত-পাক সংঘর্ষে চিনা অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেশ করেন। ছবি দেখিয়ে তিনি প্রমাণ দেন, পঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে চিনা পিএল-১৫ লং রেঞ্জ মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ মিলেছে। ভারতের অভেদ্য ডিফেন্স সিস্টেমের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে চিনা মিসাইল।

পিএল-১৫ কিন্তু কোনও হেলাফেলা করার মিসাইল নয়। শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ জোরে ছুটতে পারে এটি, ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। কিন্তু ভারতের ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি লেয়ারড এয়ার ডিফেন্স নেটওয়ার্কের সামনে কার্যত পোড়া দেশলাইয়ের কাঠির মতোই দশা হয় এই চিনা এয়ার টু এয়ার মিসাইলের। ডিআরডিও-র দেশীয় ‘আকাশ’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সামনেও নাস্তানাবুদ হতে হয় বেজিংকে।

এত গেল মিসাইলের কথা। এবার আসি চিনা যুদ্ধবিমানের প্রসঙ্গে। চিনা এভিক চেংড়ু এয়ারক্রাফট J-10C fighter jets তৈরি করে। এগুলি সিঙ্গল ইঞ্জিন, মাল্টিরোল ফাইটার জেট। মার্কিন F-35-এর মতো এগুলি পঞ্চম নয়, বরং ৪.৫ জেনারেশনের বলে দাবি চিনা প্রস্তুতকারক সংস্থার। ২০২২-এ পাকিস্তানকে প্রথম এই বিমানগুলি সরবরাহ করা হয়। একা J-10 নয়, চিনের ভাঁড়ারে রয়েছে JF-17-ও। এগুলিও ৪.৫ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান। পাক পঞ্জাবের রফিকি, রাওয়ালপিন্ডির চকলালা এয়ারবেস, নূর খান এয়ারবেস- যেগুলি পাক বায়ুসেনার হৃদপিণ্ড বলে পরিচিত সেই সব সেনাঘাঁটিতে সযত্নে রাখা থাকত এইসব জে এফ ১৭, মিরাজ। সরগোদা-তে থাকত জে-১০। জকোদাবাদে এফ-১৬-এর সঙ্গে থাকত জেএফ -১৭ও। নামে, দামে বেশ ভারিক্কি হলেও বাস্তবে চিনা যুদ্ধবিমানগুলি যে কাগুজে বাঘের চেয়ে বেশি কিছু নয় তার প্রমাণ অপারেশন সিঁদুর চলাকালীনই মিলল।

ভারতীয় বায়ুসেনার Rafale ও Sukhoi Su-30MKI যুদ্ধবিমান ইন্টারসেপ্ট করে দুই চিনা যুদ্ধবিমানকেই নাস্তানাবুদ করে ছাড়ে। পাক মিরাজকেও নামানো হল মিসাইল ছুড়ে। আর একটা বিষয় রয়েছে। যুদ্ধবিমান শুধু আধুনিক হলেই হয় না। চালক বা পাইলটকেও দক্ষ হতে হয়। যুদ্ধবিমান রফতানির প্রথম দফায় একদল চিনা পাইলট পাকিস্তানের বায়ুসেনা PAF-কে প্রশিক্ষণ দিতেও এসেছিল। কিন্তু তাতেও কোনও কাজের কাজ হয়নি। অন্যদিকে, পহেলগাঁওতে ২৫ জন ভারতীয়র মৃত্যুর বদলা নিতে টগবগ করে ফুটছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তার প্রমাণ পাওয়া যায় মঙ্গলবার। যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী আদমপুর এয়ারবেসে পৌঁছন, তখন বায়ুসেনার এক অফিসার মোদীকে বলেন, ‘আমাদের মারতে এসেছিল স্যার! ওদের (পাকিস্তানের) বুকের উপর চেপে বসে দেখিয়ে দিলাম ওদের অওকাত!’

ভারতীয় বায়ুসেনার এরকম মনোভাবের সামনে কীভাবে টিকবে পাক বায়ুসেনা? ফলাফল! একের পর এক পাক ও চিনা যুদ্ধবিমান ভূপতিত হয়। ২৬ সেকেন্ডের ভিডিয়ো ফুটেজ প্রকাশ করে গত সোমবারই এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী নিশ্চিত করেন, পাক বিমান নষ্ট করেছে ভারত।

যুদ্ধে আক্রমণের চেয়েও জরুরি হয় আত্মরক্ষা। পাকিস্তানের নামজাদা সব বায়ুসেনা ঘাঁটি পাহারা দিচ্ছিল চিনেরই ডিফেন্স সিস্টেম HQ-9 ও HQ-16 SAM Systems। HQ-9 লং রেঞ্জের ও HQ-16 মিডিয়াম রেঞ্জের সারফেস টু এয়ার মিসাইল বা স্যাম সিস্টেম। শুনলে তাজ্জব হবেন, চিনা সংস্থাগুলি যে কোয়ালিটির এইচ কিউ ১৬ রফতানি করে পাকিস্তানকে, সেটা নিজেরা ব্যবহার করে না। অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ৮ থেকে ১০ মে-র মধ্যে এরকম ১১টা পাক সেনাঘাঁটিতে তীব্র প্রত্যাঘাত চালাল ভারত।

নূর খান, সারগোদা, ভালোরি, জাকোবাবাদ, রহিম খান এয়ারবেসের রানওয়ে, এয়ারক্র্যাফট হ্যাঙার, রেডার-সহ পরিকাঠামোর পাঁচ ভাগের এক ভাগই ধুলোয় মিশিয়ে দিল বায়ুসেনা। শিয়ালকোটের HQ-9 ও HQ-16 কিস্যু করতে পারেনি। প্রিসিশন স্ট্রাইক চালিয়ে চিনা ডিফেন্স সিস্টেমের কোমর ভেঙে দিয়ে এল ভারত। স্যাটেলাইট ইমেজে ধরাও পড়েছে সেই ধ্বংসলীলা।

এমনিতেও যে চিনা অস্ত্রের সুনাম রয়েছে এমনটাই নয়। ২০২৩-এ মায়ানমার যে কোটি চিনা যুদ্ধবিমান কিনেছিল, তার মধ্যে অধিকাংশই অকেজো হয়ে বসে রয়েছে আজও। নাইজেরিয়া ৯টি কেনা চিনা যুদ্ধবিমানের মধ্যে সাতটি ফিরিয়ে দেয়। এমনকী, যে পাকিস্তান চিনের কাছ থেকে সবসময় অস্ত্র কেনে সেই পাকিস্তানকেও প্রায় নষ্ট হওয়া এফ-২২ ফ্রিগেট বেচে বেজিং, যেগুলির মিসাইল সিস্টেম থেকে আজ অবধি ফায়ার করা যায়নি। সাধে কী আর বলে, চিনা মালে বিশ্বাস নেই!

পাকিস্তানের ন’টি জঙ্গি ঘাঁটি, প্রায় একডজন বিমানঘাঁটি ভারত তছনছ করে দিয়ে এল, অথচ চিনা অস্ত্র, ডিফেন্স সিস্টেম প্রায় কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না। বিষয়টি যে আন্তর্জাতিক মহলের নজরেও রয়েছে সেটা স্পষ্ট করেছেন জন স্পেন্সারের মতো মডার্ন কমব্যাট এক্সপার্টরা। পাকিস্তানের হার শুধু পাকিস্তানের একার নয়, মুখ পুড়িয়েছে চিনেরও। কারণ শুরুতেই বলেছিলাম, ইসলামাবাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় ৮১ শতাংশই চিনের কাছ থেকে কেনা বা ভিক্ষায় পাওয়া। বিশ্বজুড়ে অস্ত্র সরবরাহ করার যে স্বপ্ন চিন দেখছিল, সেই ফানুসে ফুটো করে দিল ভারতের সশস্ত্র বাহিনী। ভবিষ্যতে এশিয়া, আফ্রিকা বা মধ্য এশিয়াতে অস্ত্র সরবরাহের বড় কেন্দ্র হয়ে উঠতে চাওয়া বেজিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *