বিশ্বে প্রথমবার দুই পরমাণু দেশের ড্রোনযুদ্ধ, ভারত হবে ড্রোনাচার্য? – Bengali News | This israeli drone called skystriker used by India in Operation Sindoor, know how it works
প্রায় ১০০ বছর আগে ড্রোন তৈরি হলেও মাত্র কয়েক বছর আগেই সেই আকাশযন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। ভারতের মাটিতেও তৈরি হয়েছে অত্যাধুনিক সব ড্রোন। আকাশ থেকে ছবি তোলা অথবা পণ্য পরিবহনেও এখন ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। তবে আদতে এই মানববিহীন যন্ত্র যে কী করতে পারে, সেটাই দেখা গেল গত কয়েকদিনে।
বিবিসি (BBC) বলছে, বিশ্বে প্রথমবার দুটো পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে ড্রোন-যুদ্ধ চলছে। গত ৭ মে ভারতের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু হওয়ার পর থেকে যে সামরিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে মিলিটারি ড্রোনের। মিসাইল, যুদ্ধবিমান তো আছেই, তবে আসল কাজটা করছে ড্রোন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের আবহে ড্রোনের সামরিক ব্যবহারের নতুন দিক সামনে আসছে। না হয় কোনও শব্দ, নীরবে ঢুকে পড়তে পারে শত্রুঘাঁটিতে। ওড়াতে লাগে না কোনও চালকও।
ভারত যে এভাবে একেবারে নিশানা স্থির করে অভিযান চালাল, পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের গায়ে যে এতটুকু আঁচ লাগল না, তার অনেকা কৃতিত্ব এই ড্রোনের। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ মূলত দুটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। একটি হল ‘স্কাইস্ট্রাইকার’, অন্যটি ‘কামিকাজে’। দুটি ড্রোনই ভারতের মাটিতে তৈরি। তবে প্রথমটি আদতে ইজরায়েলের এলবিট সিকিউরিটি সিস্টেমের প্রোডাক্ট, তৈরি করা হয়েছে বেঙ্গালুরুতে।
ড্রোনই যেন মিসাইল!
২০১৯-এ বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের পর ২০২১ সালে ভারত নিজেদের ড্রোন ফ্লিটে যুক্ত করে ইজরায়েলের ‘স্কাইস্ট্রাইকার’। ইজরায়েলের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এলবিট এই ড্রোনকে একাধারে ড্রোন ও মিসাইল বলে উল্লেখ করে থাকে। এটি ওড়ে ড্রোনের মতো আর আঘাত করে মিসাইলের মতো। ভারতের সাম্প্রতিক অভিযানে লস্কর-ই-তইবা , জইশ-ই-মহম্মদ ও হিজবুল মুজাহিদীনের ঘাঁটি সবার অলক্ষ্যে, নিঃশব্দে টার্গেট করে ফেলেছিল এই ‘স্কাইস্ট্রাইকার’।
আসলে কেমন এই ‘স্কাইস্ট্রাইকার’, কী কী করতে পারে এটি?
‘স্কাইস্ট্রাইকার’ হল দুই সংস্থার একটি প্রোডাক্ট। ইজরায়েলের এলবিট সিস্টেমস ও বেঙ্গালুরুর আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস এই ড্রোন তৈরি করেছে।
এই ড্রোনের রেঞ্জ হল ১০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ প্রায় কলকাতা থেকে বর্ধমান পর্যন্ত পার করে ফেলতে পারে এটি।
একসঙ্গে ৫ কেজি থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে পারে এই ‘স্কাইস্ট্রাইকার’।
এই ড্রোনের গতি হতে পারে ৩০০ নটিক্যাল মাইল প্রতি ঘণ্টা। এর উপস্থিতি বুঝতে পারা কার্যত অসম্ভব।
অন্যান্য ড্রোনের থেকে আলাদা এটি। এতে থাকে ইলেকট্রো অপটিক্যাল সিস্টেম।
দূর থেকে ক্যাটাপল্ট সিস্টেম বা ক্যানিস্টার ব্যবহার করে এই ড্রোন ছোড়া হয়।
লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরও যদি দেখা যায় কোনও প্ল্যান পরিবর্তন হয়েছে বা টার্গেটের আশপাশে কোনও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি আছে, তাহলে শেষ মুহূর্তে কমান্ড দিয়ে একে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এই ড্রোনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় একটি প্যারাসুট, ফলে এটি পুনরায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হয় না।
খুব কম উচ্চতা থেকেও সবার অলক্ষ্যে অপারেশন চালাতে পারে এই ড্রোন। স্বচালিত নেভিগেশন সিস্টেম আছে এতে। কোথায় হামলা চালাতে হবে, তা সহজেই খুঁজে বের করতে পারে এটি। শত্রুপক্ষ বোঝার আগেই কাজ সেরে ফেলতে পারে ‘স্কাইস্ট্রাইকার’।
২০২১ সালে প্রায় ১০০টি ‘স্কাইস্ট্রাইকার’ ড্রোন নিয়েছিল ভারত। বালাকোট স্ট্রাইকের পর এই ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা বুঝেছিল সরকার।
শুধুমাত্র ‘স্কাইস্ট্রাইকার’ নয় কামিকাজে ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে এই অভিযানে। এটি একটি এক্সপ্লোডিং ড্রোন। অর্থাৎ নিশানায় পৌঁছে ঘটাতে পারে বিস্ফোরণ। এটি ভারতেই তৈরি হয়েছে এই কামিকাজে।
শুধুমাত্র মঙ্গলবার রাতেই নয়, বুধবারও পাকিস্তানের একাধিক জায়গায় ড্রোন পাঠিয়ে জবাব দিয়েছে ভারত। ভারতের ড্রোনের আঘাতে ভেঙে পড়েছে রাওয়ালপিন্ডির স্টেডিয়াম। বৃহস্পতিবার রাতে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তান। তবে সেই হামলা আটকে দিয়েছে ভারতের ডিফেন্স সিস্টেম। শুক্রবার সকালে দেখা যায়, জায়গায় জায়গায় পড়ে রয়েছে পাক ড্রোনের ভাঙা অংশ।