কেন দিঘায় গেলেন দিলীপ ঘোষ? কী হতে পারে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ? - 24 Ghanta Bangla News
Home

কেন দিঘায় গেলেন দিলীপ ঘোষ? কী হতে পারে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ?

Spread the love

সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের দিঘায় জগন্নাথ ধাম দর্শন ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে রাজ্য বিজেপিতে তোলপাড় চলছে। যে মমতার প্রশাসনের হাতে আক্রান্ত শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী তাঁর সঙ্গে কী ভাবে দিলীপবাবু হাসিমুখে বৈঠক করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এমনকী দিলীপ ঘোষ তৃণমূলে যোগদান করতে চলেছেন বলে নিশ্চিত অনেকেই। কিন্তু কী এমন ঘটল যে সংঘের ঘরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দলীয় কর্মীদের আবেগের কথা চিন্তা না করে দিঘায় পৌঁছে গেলেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘ কাহিনী। যার সূত্রপাত শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানর পর।

২০১৫ সালে রাজ্য রাজনীতিতে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব হয়েছিল দিলীপ ঘোষের। বিজেপির কয়েকজন নেতা ছাড়া দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁকে চিনত না কেউই। রাজ্য সভাপতি হয়ে দলকে সাফল্যের সিঁড়িতে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রবল মোদী হাওয়ায় রাজ্যে ১৮টি আসনে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওই ভোটের পরই দলের নিয়ম মেনে পদ ছাড়তে হয় দিলীপ ঘোষকে। যদিও মেদিনীপুর আসন থেকে জিতে লোকসভায় যান তিনি। সাফল্যের চূড়ায় থাকলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বরে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগদানের ফলে দিলীপবাবুর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। কারণ দুজনেই অবিভক্ত মেদিনীপুরের লোক। তাদের রাজনীতি করার ক্ষেত্রও অনেকাংশে একই।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারীকে বিরোধী দলনেতার পদে বসায় বিজেপি। এর পর থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠেন তাঁর অনুগামীরা। বিশেষ করে মেদিনীপুরে দিলীপবাবুর ও তাঁর অনুগামীদের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। তবে সংঘের ঘরের ছেলে দিলীপ ঘোষকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার সাহস দেখাননি শুভেন্দু। উলটে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তাঁকে ঘরের আসন মেদিনীপুর থেকে সরিয়ে বর্ধমান দুর্গাপুরে পাঠিয়ে দেন তিনি। ওই আসন থেকে ভোটে লড়ে পরাজয় হয় দিলীপবাবুর। এর পরই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে থাকেন দিলীপবাবু। ভোটে হারের পর তিনি বলেন, ‘দল আমার জন্য কী ব্যবস্থা করে দেখব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।’ এমনকী তাঁর হারের জন্য দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের তুমুল সমালোচনা করেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিলীপ ঘোষের এই পরিণতির জন্য অনেকাংশে বিজেপির গঠনতন্ত্র ও পরিচালন পদ্ধতি দায়ী। বিজেপিতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী দল পরিচালনায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করে। যার ফলে বিরোধী গোষ্ঠীর নেতাকর্মীরা কার্যত অন্তরালে চলে যান। যেমন দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়ার পর সায়ন্তন বসু, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা গায়েব হয়ে গিয়েছেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, এই ঘটনা দেখা গিয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। গুজরাতে কেশুভাই প্যাটেলকে সরিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী করার পর প্রবীণ ওই নেতারও একই পরিণতি হয়েছিল।

কেন্দ্রীয় বিজেপি সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করেছে তারা। সেজন্য তারা এমন নেতা তৈরি করতে চাইছে যারা আগামী ১০ – ১৫ বছর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন। সেজন্যই সুকান্ত – শুভেন্দুর মতো অপেক্ষাকৃত কম বয়সী নেতাদের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দিল্লির নেতৃত্ব। আর বয়সের দৌড়ে পিছিয়ে পড়ছেন দিলীপ।

সূত্রের খবর, লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির রাজ্য সভাপতি বদলের কথা ছিল। দিলীপ ঘোষ ভেবেছিলেন ফের তাঁর সুযোগ আসতে পারে। কিন্তু সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, রাজ্য সভাপতি হওয়ার দৌড়ে নেই তিনি। এর পরই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন দিলীপবাবু। যে সংগঠনের প্রতি নিবিষ্টতায় জীবন – যৌবন সমর্পণ করেছেন তার এই উদাসীনতা ও উপেক্ষা একাকীত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল দিলীপবাবুকে। আর শুভেন্দু ও তাঁর অনুগামীদের চাপে কোনঠাসা দিলীপ তাই শুভেন্দুর মূল প্রতিপক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অছ্যুৎ মনে করেননি। মনে করেছেন, শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু।

তবে দিলীপ ঘোষের অনুগামীদের রয়েছে আলাদা তত্ত্ব। তাঁদের দাবি, দিলীপ ঘোষ সংঘের লোক। সংঘের কাছে হিন্দুত্ব ও ভারতীয়ত্ব হল প্রধান লক্ষ্য। তাই মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করল এটা সংঘের কাছে বড় কথা নয়। মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছে এটাই তাদের কাছে প্রধান। আর সেই ভাবনা থেকেই দিঘায় গিয়েছেন দিলীপবাবু।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করতে পারেন দিলীপ ঘোষ? দিলীপবাবু নিজে এখনও তৃণমূলে যোগদানের ব্যাপারে কোনও কথা বলেননি। বরং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরেও বলেছেন, রাজনীতি ছেড়ে দেব কিন্তু বিজেপি ছাড়ব না। ওদিকে রাজ্য বিজেপিতেও তাঁর জন্য স্থান অত্যন্ত কম। ফলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে পুনর্বাসন প্রকল্প হিসাবে রাজ্যপালের পদ নিতে পারেন তিনি। তাতে শ্যাম আর কূল দুপক্ষই থাকে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *