Jammu and Kashmir: ২৫ বছর আগের ৭ মে! এই ইউসুফের দেখানো পথে এগিয়েই কারগিল যুদ্ধে পাক সেনাকে খতম করেছিল ইন্ডিয়ান আর্মি! কীভাবে? – Bengali News | Jammu and kashmir 25 years ago on May 7! Following the path shown by this Yusuf, the Indian Army destroyed the Pakistani army in the Kargil War! How?
শ্রীনগর: কারগিল যুদ্ধে দ্রাস সেক্টরে এক জীবন্ত প্রতিমূর্তি তিনি। যেদিন থেকে ছদ্মবেশে পাক সেনারা ভারতে ঢোকা শুরু করেছিল, তিনি চিনতে পেরেছিলেন। কোন রাস্তা দিয়ে পাক সেনারা ঢুকছে, তিনি গোটা দেখেছিলেন। প্রথম খবর দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাকে। বাতলে দিয়েছিলেন রুট! তিনি দীর্ঘদিন সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন। কিন্তু অবসরের পর যখন গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন, তখনই তাঁর অবদান লেখা হয়ে যায় ইতিহাসের পাতা। নাম মহম্মদ ইউসুফ লোন।
এখন সত্তরের কাছাকাছি তাঁর বয়স! যখন কারগিল যুদ্ধ শুরু হয়, তখন তিনি সদ্য অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনা। ইউসুফ নায়েক হিসাবে কাজ করে অবসর গ্রহণ করেছেন। যেদিন যুদ্ধ লাগে, সেদিন তিনি নিজের জমিতে ভেড়া চড়াচ্ছিলেন। সে সময় হঠাৎ করেই গুলি-বোমা শুরু হয়। কারগিল যুদ্ধের শুরুটা ঠিক কীভাবে হয়েছিল, তার জলন্ত প্রমাণ এই মহম্মদ ইউসুফ লোন। পহেলগাঁও হত্যালীলার পর যখন আবারও যুদ্ধ আবহ তৈরি হয়েছে, এই কাশ্মীরি বৃদ্ধ আরও একবার আলোকবৃত্তের পরিধিতে! তাঁর কথায় উঠে এল ভয়ঙ্কর তথ্য। কারগিল যুদ্ধে ভারতীয় সেনা জেতার ক্ষেত্রে এই মহম্মদ ইউসুফ লোনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা এককথায় এখনও স্বীকার করেন সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সাধারণ স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা বলতে, একেবারে টাইগার হিলের পাদদেশের ছোট্ট জনপদ দ্রাস, আর তার অদূরের তলোনি।
মহম্মদ ইউসুফের কথায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। কারগিল যুদ্ধ লাগার সপ্তাহ খানেক আগে থেকেই বেশ কয়েকজন সেনার পোশাকে নীচে নেমে আসতেন। তাঁর দোকান থেকেই সিগারেট-ম্যাগি কিনে খেতেন। ইউসুফের সন্দেহ হয়েছিল। ওই এলাকার বেশ কিছুটা দূরে ক্যাম্প। সেখানে পোস্টিং জওয়ানদের তিনি চিনতেন। পাক-সেনার পোশাক পরিহিত দেখে তিনি জওয়ানদের প্রশ্নও করেছিলেন, কিন্তু সে সময়ে উত্তর এড়িয়ে গিয়েছিলেন ছদ্মবেশী পাক-জওয়ানরা। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন বিষয়টি, সমস্ত ব্রিজগুলোতে সেনা বাড়ানো হয় তারপর, চেকিং আরও জোরদার করা হয়। হেলিকপ্টারে বাড়ানো হয় নজরদারি।
TV9 বাংলার এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার সন্দেহ কমছিল না। আমি স্যরদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, নীচে কোনও সেনা ঢুকেছে? ওরা বলেছিলেন, নাহ, কেউ ঢোকেনি। আমি বললাম, খোঁজ নাও। আমি ১৬ ক্যান্টিনে গিয়েছিলাম, সেখানে গিয়েও খোঁজ নিই। ওঁরার কিছু সেদিন বলতে পারেনি।” ইউসুফের কথার গুরুত্বটা সে সময়ে বোঝা যায়নি। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপর মেজর ভূবিন্দরকে এখানে মোতায়েন করা হয়। ৩ এপ্রিল এখানে ১৭ ব্রিগেড মোতায়েন করা হয়। ব্রিগেডিয়র দলজিৎ সিং ছিলেন ব্রিগেডিয়র কমান্ডার।
আসলে সীমান্তে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি তীক্ষ্ণ করেছিল ভারতীয় সেনা। কিন্তু পাক সেনারা যে ঢুকেছিল অন্য পথে, ছদ্মবেশে। আর সে পথ অত্যন্ত দুর্গম। এরপর ৭ মে! ভয়ঙ্কর সেই দিন! ইউসুফের সেদিন ভেড়ি চড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাচ্চারা বায়না করায়, তাদেরকে পাঠান তিনি।
ইউসুফ বলেন, “৭ মে আমার ভেড়ি চড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমার বাচ্চারা বায়না করল, তারা যাবে। আমার ছেলে, আমার ভাইপো আর বোনের ছেলে ভেড়া চড়াতে যায়। তলোনির নালা দিয়ে সেদিন ভীষণ জল যাচ্ছিল। চার জন আসছিল। ওরা আমাদের বাচ্চাদের দেখে বলল, এখান থেকে চলে যাও। ভেসে যাবে নাহলে, ভেড়াও চলে যাবে। তারপর ভয় পেয়ে আমাদের বাচ্চারা ফিরে আসে।”
সেদিনও বাচ্চাদের কথা শুনে মনে ধন্দ বেঁধেছিল ইউসুফের। ছুটে গিয়েছিলেন সেনার কাছে। বললেন, “আমি বাচ্চাদের কাছ থেকে শুনে আমি আবার জওয়ানদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেউ পেট্রোলিংয়ে গিয়েছিলেন? ওরা বলল নাহ! আমার কথা শুনে ওরা বলল, আরে বাজে কথা বলছো, বেকার ভয় পাচ্ছো, ওখানে আবার কে আসবে! তবুও আমার জোরাজুরিতে ওরা খোঁজ নিয়ে দেখল, এক বছর আগে যেখানে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল, সেখানে কিছু বিস্ফোরক মজুত রয়েছে। সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু তল্লাশিতে কিছুই মেলেনি।”
তাতে ভারতীয় সেনা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারেননি ইউসুফ। তাঁর কথায়, “আমার তখনও মনে কু ডাকছিল। আমি আইটিবিপি-কে গিয়ে রিপোর্ট করলাম। ওরাই তারপর দিল্লিতে খবর দিল। এরপর খবর পেয়েই চলে আসেন মেজর খুরানা। উনি এসে আমার খোঁজ করতে থাকেন, সব জওয়ানদের জিজ্ঞাসা করতে থাকেন ইউসুফ কোথায়? আমি তখন সামনেই, আমি বললাম, স্যর আমিই ইউসুফ! আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কোথায় দেখেছো ওদের? আমি বলেছিলাম, স্যর ওই এলাকা পর্যন্ত তো গাড়ি যাবে না। স্যর বললেন, যতটা গাড়ি যায়, যাব, তারপর হেঁটেই। আমার ছেলেরা যেখানে দেখেছিল, আমি সেখানে মেজর সাহেবকে নিয়ে যাই।” আর তখনই শিহরিত সে দৃশ্য। পাক সেনার ততক্ষণে অবাধ যাতায়াত শুরু হয়েছে ভারতে। সেদিন তাঁরা দেখেছিলেন, “আমরা গিয়ে দেখি, বরফের মধ্যে দিয়ে রাস্তা তৈরি ছিল। দেখতে পেলাম, পিঠে জিনিস নিয়ে ওদের সেনারা আসছে। দুই জওয়ান যাচ্ছিল, তাঁদের পিছনে গার্ড দিচ্ছিলেন আরও দুজন। আমি দূর থেকে ওঁদের পোশাক দেখে বুঝতে পারিনি, কিন্তু মেজর সাহেব দেখেই বুঝে যান। সঙ্গে সঙ্গে আমাকে নিয়ে ফিরলেন, খবর দিলেন দিল্লিতে।”
