Explained: ভারতের SPECIAL 9 TOP SECRET এলিট ফোর্স: এদের যমদূতের মতো ভয় পায় পাকিস্তান – Bengali News | Guardians in the shadows meet indias deadly special forces
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে পাক সেনার অন্দরে গেল গেল রব উঠেছে। প্রাণ বাঁচাতে পাক রেঞ্জার্সরা হয় গণইস্তফা দিচ্ছে, নয়তো অসুস্থতা বা অন্য কোনও দোহাই দিয়ে লম্বা ছুটি চাইছে। কেন জানেন? কারণ, পাক সেনা জানে, একবার যদি যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, ভারতীয় সেনা যদি একবার প্রত্যাঘাত করতে শুরু করে, তাহলে কচুকাটা হতে হবে। আসুন, আজ জেনে নিই, ভারতের ৯টি এলিট স্পেশ্যাল ফোর্সেস সম্পর্কে, যারা সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালে থাকেন, কিন্তু প্রয়োজনে শত্রু দেশের মাটিতে অপারেশন চালাতে এদের জুড়ি নেই। ভারতের দুশমনরা দুঃস্বপ্নেও এদের সামনাসামনি হতে চায় না। ব্রিটেনের স্পেশ্যাল এয়ার সার্ভিস (SAS) বা মার্কিন মুলুকের সিল (Sea, Air and Land Teams) বা ডেল্টা ফোর্সের চেয়ে কোনও অংশে কম ঘাতক নয় ভারতের এই ৯ স্পেশ্যাল ফোর্স। তাঁদের মূল মন্ত্র– “তুম ভারত কে বীর হো, তুম আপনে দেশ কে রক্ষক হো। তু আপনে হিম্মত বাড়ায়ে যা, জাতি-ভেদভাব কো মিটায়ে যা। কদম বাড়ায়ে যা, পিছে হটনা কাম নেহি, আগে বাড়ে যা।”
দ্য স্পেশ্যাল গ্ৰুপ (The Special Group) বা সংক্ষেপে SG
দেশের সবচেয়ে গোপনীয় অথচ এলিট ফোর্স হল দ্য স্পেশ্যাল গ্ৰুপ। কোনও পাবলিক প্ল্যাটফর্মে এই বাহিনী সংক্রান্ত প্রায় কোনও তথ্যই খুঁজে পাবেন না। ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং R&AW-র (Research and Analysis Wing) এক্সটার্নাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি হল এই SG। এদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ারই হল এদের গোপনীয়তা। মূলত শত্রুদেশের মাটিতে একেবারে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করাই এই দ্য স্পেশ্যাল গ্ৰুপের সদস্যদের কাজ। টাইগার জিন্দা হ্যায় (২০১৭), রাজি (২০১৮), ওয়ার(২০১৯), মাদ্রাজ ক্যাফে(২০১৩), মিশন মজনু(২০২৩)-র মতো বিখ্যাত বলিউডি সিনেমা তৈরি হয়েছে ভারতের SG-র সদস্যদের বীরগাঁথার উপর ভিত্তি করে। জানলে অবাক হবেন, ভারতের কোনও গোয়েন্দা এজেন্সিই কিন্তু প্রকাশ্যে এদের অস্তিত্ব স্বীকার করে না। এই বাহিনীর কোনও কোনও সদস্য অবসর গ্রহণের পর অটোবায়োগ্রাফি বা বই লিখলে তখন কিছু কিছু তথ্য বাইরে আসে। এভাবেই জানা যায়, ব্রিটিশ ও ইজরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে ভারতের এই বিশেষ বাহিনী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। শত্রুদেশের মাটিতে আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ার(Unconventional Warfare) বা অপহৃত ও পণবন্দী ভারতীয়দের উদ্ধারে এই বাহিনী সিদ্ধহস্ত।

প্যারা স্পেশ্যাল ফোর্স (Para Special Forces) বা Para SF
ভারতীয় সেনার বৃহত্তম স্পেশ্যাল ইউনিট প্যারা স্পেশ্যাল ফোর্স। ‘বলিদান পরম ধর্ম’ নীতিতে বিশ্বাসী। Para SF সদস্যরা সীমান্তে পেরিয়ে শত্রুদেশের মাটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে পারদর্শী। এছাড়াও কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ও কাউন্টার টেররজিম, গেরিলা হামলা, আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ার, কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতে টিকে থাকতে এদের জুড়ি মেলা ভার। কঠোর ট্রেনিং শেষ করে এই বাহিনীতে যুক্ত হতে হয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক ডকুমেন্টারির বিশেষ এপিসোডে সেই ট্রেনিং দেখলে চমকে উঠতে হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, কাচ গুঁড়ো করে খাওয়া বা সাপের মাংস খেয়েও এই বাহিনীর সদস্যরা দিনের পর দিন বেঁচে থাকতে পারেন। জম্মু ও কাশ্মীরে এই বাহিনীর গোপন ঘাঁটি রয়েছে বলে জানা যায়। এদের মুখও সচরাচর কেউ দেখতে পান না।
মেরিন কমান্ডো ফোর্স বা MARCOS (Marine Commando Force)
১৯৮৭-তে গঠিত নৌসেনার অধীনস্থ এই বাহিনীর বিশেষত্ব হল, এরা জল, স্থলে ও আকাশে সমান দক্ষতায় অভিযান চালাতে পারে। সন্ত্রাসদমন অভিযান, শত্রুদেশের দুর্গম প্রান্তে নজরদারি বা সরাসরি অ্যাকশন চালাতে এদের চেয়ে দক্ষ কেউ নেই। মার্কোস বাহিনীর প্রশিক্ষণও অত্যন্ত কড়া অনুশাসনের মধ্যে হয়। সমুদ্রে জলদস্যুদের হাত থেকে ভারতীয়দের রক্ষায় এই বাহিনী বিশেষ পারদর্শী। ছোট ছোট সাবমেরিন, আন্ডারওয়াটার স্কুটারে চেপে জলের নিচ দিয়ে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় এমনভাবে পৌঁছে যান এঁরা, যে শত্রুরা টেরও পায় না। এদের মূলমন্ত্র — দ্য ফিউ, দ্য ফিয়ারলেস (The few, the fearless)
গরুড় কমান্ডো ফোর্স (Garud Commando Force)
বায়ুসেনার অন্তর্গত এই গরুড় কমান্ডো তৈরি হয় ২০০৪-এ। ভারতের সবচেয়ে গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বায়ুসেনা ঘাঁটি পাহারা দেয় এই বাহিনী। রামায়ণে বর্ণিত, মা সীতাকে রাবণের হাত থেকে বাঁচাতে গরুড় পাখি নিজের প্রাণের পরোয়া করেনি। তেমনই যত্নে ভারতের বায়ুসেনা ঘাঁটিগুলি রক্ষা করে গরুড় ফোর্স। তিন বছরের ট্রেনিংয়ের পর একজন নির্বাচিত বায়ুসেনা গরুড় কমান্ডো হতে পারেন। প্লেন থেকে প্যারাস্যুট চেপে আকাশ থেকে মাটিতে ঝাঁপিয়ে পড়েই শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার মতো দক্ষতা রয়েছে এই বাহিনীর। স্পেশ্যাল অপারেশন ডিভিশনের আওতায় প্যারা, এসএফ, মার্কোস ও গরুড় বাহিনী মিলে চতুর্ভুজ আক্রমণে শত্রুকে নাকানিচোবানি খাওয়া। গরুড় বাহিনীর মূলমন্ত্র গীতার শ্লোক থেকে নেওয়া– ‘নভঃ স্পর্শম দীপম’। ইংরেজিতে তর্জমা করলে দাঁড়ায়- Touch the sky with glory…
Garud Commando Force
এসএফএফ বা Special Frontier Force (SFF)
১৯৬২-তে এই বাহিনীকে মূলত কোভার্ট অপারেশনের জন্যই বানানো হয়। এই বাহিনী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে রিপোর্ট করে। ভারত-চিন যুদ্ধের সময় গঠিত এই বাহিনী মূলত শত্রুদেশে অপারেট করে। এই বাহিনীর সদস্য গোর্খারা। যাদের সাক্ষাৎ যমদূত বলে মানে ভারতের শত্রুরা। ভারত-চিন সীমান্তে পাহারা দেয় এই বাহিনী। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, ভারত-পাক কার্গিল যুদ্ধে এই বাহিনীর সদস্যরা প্রবল বীরত্বের ছাপ রাখেন।
এনএসজি বা National Security Guard (NSG)
ভারতের এক নম্বর এলিট সন্ত্রাস মোকাবিলা বাহিনী। এদের পোশাক ও ক্ষিপ্রতার জন্য ব্ল্যাক ক্যাট-ও বলা হয়। এই বাহিনীর দুটি ভাগ রয়েছে। স্পেশ্যাল অ্যাকশন গ্ৰুপ ও স্পেশ্যাল রেঞ্জার্স গ্ৰুপ। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলির বিল্ডিং, মনুমেন্ট, ভিভিআইপি যেমন প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দেন এই বাহিনীর কমান্ডোরা। প্রশিক্ষণ রুটিন এতটাই কঠিন যে ১০০ জন শুরু করলে মাত্র ২০ জন এনএসজি হতে পারেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে কোনও জটিল সন্ত্রাসবাদী হামলা প্রতিহত করা, অপারেশন চালানো এনএসজি-র কাছে জলভাত।
ঘাতক ফোর্স
ভারতীয় সেনার এলিট ইনফ্যান্ট্রি বা পদাতিক বাহিনী। প্রত্যেক ব্যাটালিয়নে অন্তত একটি করে ঘাতক প্লাটুন থাকে। শারীরিক দক্ষতায় অত্যন্ত ফিট, দীর্ঘক্ষণ লড়াই চালিয়ে যেতে সক্ষম এই বাহিনী মূলত জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে নামানো হয়।
কোবরা বা COBRA (Commando Battalion for Resolute Action)
সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের বিশেষ ইউনিট। নকশালি বা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এই ইউনিট অভিযান চালায়। এই ইউনিট দেশের অন্যতম এক্সক্লুসিভ ইউনিট যাঁরা গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শী।
Commando
ফোর্স ওয়ান
২০০৮-এর মুম্বই হামলার পর এই বিশেষ কাউন্টার টেরোরিজম কমান্ডো ফোর্স গঠন করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। এনএসজি-র মতোই কাজ করে এই বাহিনী। মেট্রো সিটিতে আচমকা জঙ্গি হামলা হলে মোকাবিলায় এই বাহিনী নামে। এছাড়াও মহারাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, প্রশাসনিক ভবন রক্ষাতেও এদের ব্যবহার করা হয়।
একজন প্যারা স্পেশ্যাল ফোর্স বা মার্কোসকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তা কাঁধে ভারী মাল বহন করে ছুটতে হয় ট্রেনিংয়ের সময়। যুদ্ধের ময়দানে নেমে দিনের পর দিন বিনা খাবার ও জলে কাটাতে হয়। ঘুম মেলে নামমাত্র। কখনও কাঁধে করে আহত সহকর্মীকে নিয়ে দৌড়তে হয়। তারপরেও এইসব বাহিনীর এক একজন সদস্য শত্রুদের কাছে সাক্ষাৎ যমদূত। ভারতকে রক্ষা করতে স্পেশ্যাল কমান্ডোরা প্রাণের পরোয়া করেন না। কারণ, তাঁদের মূলমন্ত্র যা শুরুতেই বলেছিলাম, ‘বলিদান পরম ধর্ম’।