বৃদ্ধকে অপহরণ করে এনে মাথা কাটল তান্ত্রিক, ধড় পুড়িয়ে দিল আগুনে! সবই করল শুধুমাত্র এই জন্য… – Bengali News | 65 Year old Man Killed by Tantrik, His head & Torso Chopped, Body Burned in Holika Fire
পটনা: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কালাজাদুতে বিশ্বাস। সেই কুসংস্কার, অন্ধ বিশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে প্রাণও। কালাজাদু করতেই ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের মাথা থেকে ধড় আলাদা করে দিল তান্ত্রিক। তারপর কাটা ধড় পুড়িয়ে দিল আগুনে। এই সবকিছুই করা হল শুধুমাত্র সন্তান প্রাপ্তির জন্য। ভয়ানক এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের ঔরঙ্গাবাদে। সেখানে বছর পঁয়ষট্টির এক বৃদ্ধকে নৃংশসভাবে হত্যা করা হয়। মাথা থেকে ধড় কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়। এরপরে কাটা ধড় হোলিকা দহনের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ব্য়ক্তির নাম যুগল যাদব। গত ১৩ মার্চ, হোলির আগের দিন তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। পরিবারের তরফে পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
তদন্ত করতে করতেই পাশের গ্রামে পৌঁছয় পুলিশ। বাঙ্গার গ্রামে হোলিকা দহনের আগুন থেকে মানুষের হাড়গোড় পাওয়া যায়। পাশেই পড়েছিল একটা চটি। নিখোঁজের পরিবার ওই জুতো দেখেই শনাক্ত করে। এরপর স্নিফার ডগ নামানো হয়। পুলিশ কুকুর গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে এক তান্ত্রিকের বাড়িতে হাজির হয়। রামাশীষ রিকাসান নামত ওই তান্ত্রিক বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর আত্মীয়ের বয়ানে অসঙ্গতি পাওয়ায়, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ধর্মেন্দ্র নামক ওই ব্যক্তি পরে পুলিশি জেরায় বলেন যে তিনি দুইজনের সাহায্য নিয়ে প্রতিবেশী গ্রামের ওই বৃদ্ধকে অপহরণ করে। তাঁকে তান্ত্রিকের কাছে আনা হয়। কালাজাদুর রীতি পালন করার জন্য ওই ব্য়ক্তির মাথা ও ধড় আলাদা করে দেওয়া হয়। ধড় হোলিকা দহনের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই ব্যক্তির কাটা মাথা পাশেরই একটি ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে।
জানা গিয়েছে, সুধীর পাসওয়ান নামক এক ব্যক্তির অনুরোধেই কালাজাদু করেছিল অভিযুক্ত তান্ত্রিক। দীর্ঘ সময় ধরে চেষ্টা করেও সুধীরের কোনও সন্তান ছিল না। তান্ত্রিকের কথাতেই এর আগে এক নাবালককেও বলি দেওয়া হয়। তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল কুয়োয়, কেউ টেরও পায়নি।
ঘটনায় পুলিশ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে। হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এক নাবালককেও। তবে পলাতক ওই তান্ত্রিক। এখনও তাঁর খোঁজ চালানো হচ্ছে।
