বাবা-মা HIV সংক্রমিত, হুগলিতে শিশুকে স্কুলে না আসার ফতোয়া জারি কর্তৃপক্ষের
গুরুতর অভিযোগ উঠল স্কুলের বিরুদ্ধে। বাবা-মা এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ায় শিশুকে স্কুলে আসা বন্ধের নির্দেশ দিল কর্তৃপক্ষ। গ্রামীণ হুগলি এলাকার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে স্কুল এরজন্য অন্যান্য অভিভাবকদেরকেই দায়ী করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, অভিভাবকদের চাপের কারণেই তাঁদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বাবা মা এইচআইভি সংক্রমণের কারণে দ্বিতীয় শ্রেণির ওই পড়ুয়াকে কেন স্কুল থেকে বঞ্চিত হতে হবে, তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এলাকাবাসীদের সচেতন করার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। (আরও পড়ুন: দশম, দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাস প্রকাশ করল সিবিএসই, বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন এখানে)
আরও পড়ুন:আরও পণ চাই, না দিতে পারায় বধূকে এইচআইভি সংক্রমিত সূচ ফোটাল শ্বশুরবাড়ির লোক!
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা জানিয়েছেন, ৮ থেকে ১০ দিন আগে ওই শিশুকে স্কুলে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ অন্যান্য অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিচ্ছেন। তাঁরা রীতিমতো গণস্বাক্ষর করে এ নিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তাঁদের প্রতিবাদের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিভাবকদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু, কোনও লাভ হয়নি। প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ, ওই শিশুকে স্কুলে আসার অনুমতি দিলে নাকি স্কুলে তালা মেরে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই তিনি এ নিয়ে প্রতিদিনই হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুর বাবার এইচআইভি সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০১৯ সালে। পরে তার মায়েরও এইচআইভি ধরা পড়ে। সম্প্রতি শিশুর বাবাকে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করে জানা যায় তিনি এইচআইভি সংক্রমিত। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে। তাঁদের বক্তব্য, বড়রা এইচআইভি নিয়ে সচেতন থাকলেও শিশুরা নয়। খেলাধুলা করতে গিয়ে বা মারপিটে সময় কোনওভাবে শিশুর রক্ত অন্যদের সংস্পর্শে আসলে বিপদ ঘটতে পারে। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ওই শিশু স্কুলে গেলে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাবেন না।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির স্থানীয়দের এমন মনোভাবের সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, সরকার এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচারে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছে। অথচ এইচআইভি সংক্রমিতদের উপর বিশেষ নজর রাখছে না। তাঁদের সামাজিক বয়কটের স্বীকার হতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সচেতনতা প্রচারে খামতি রয়েছে বলেই অভিযোগ।
এই ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক মৃগাঙ্কমৌলি কর। তিনি জানান, ওই শিশুর থেকে অন্য কারও এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা নেই। তিনি জানান, স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বৈঠক করেছেন। প্রচারও করেছেন। কিন্তু, স্থানীয়রা তা মানতে চাইছেন না। এটা কুসংস্কার। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান জানান, গ্রামবাসীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।