Purba Bardhaman: মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে ধর্ষণ, ভ্রূণের DNA টেস্টেই সব পড়ল ধরা – Bengali News | A man gets 14 year imprisonment for physically harassing a young girl
বর্ধমান: মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতীকে ধর্ষণের দায়ে এক প্রৌঢ়কে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। এছাড়াও সাজাপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে তাকে আরও একবছর কারাদণ্ড। তবে, সাজাপ্রাপ্ত যতদিন জেলে ছিল তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে। পাশাপাশি নির্যাতিতাকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বর্ধমানের দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র।
ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বিচারক রায়ে জানিয়েছেন, ঘটনার পর যুবতীকে চরম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। চরম অবস্থায় তাঁকে দিন কাটাতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দিয়ে তাঁর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন লাঘব করা সম্ভব নয়। তাও তাঁর অবস্থার কথা চিন্তা করে এই ক্ষতিপূরণ। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্যাতিতার কাছে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার বিচারক অরবিন্দ মিশ্র এই রায় ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্তের বাড়ি আউশগ্রাম থানা এলাকায়। যদিও সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন সাজাপ্রাপ্তের আইনজীবী।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম থানা এলাকায় ওই যুবতীর বাড়ি। ২০২০ সালের ৮ জুন সকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক তাঁর আলট্রাসোনোগ্রাফির পরামর্শ দেন। তা করিয়ে জানা যায়, যুবতী ২ মাসের গর্ভবতী। পরিবারের লোকজনকে যুবতী জানান, দোষীসাব্যস্ত ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে সহবাস করে। তার ফলেই তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। এরপরই পরিবারের তরফে ওই বছরের ১৩ জুন ঘটনার কথা জানিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। যুবতীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। সেখানেই পরিবারের সম্মতি নিয়ে তাঁর গর্ভপাত করানো হয়। ডিএনএ টেস্টের জন্য ভ্রূণ পাঠানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ সেই বছরেরই ১৭ জুন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। তার মেডিক্যাল পরীক্ষাও করানো হয়। ভ্রূণের ডিএনএ-র সঙ্গে প্রৌঢ়ের ডিএনএ টেস্ট মিলে যায়। তদন্ত সম্পূর্ণ করে কেসের দ্বিতীয় তদন্তকারী অফিসার রতন দাস ২৭ অগস্ট আদালতে চার্জশিট পেশ করেন। সেই বছরেরই ২৭ নভেম্বর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়।
