Alipurduar: আলিপুরদুয়ারের শেল্টার হোমে ৮ বছর, মহিলার স্মৃতি ফিরতেই সামনে এল… – Bengali News | Bangladeshi woman who entered in India illegally 8 years ago, now wants to go back to home
বাংলাদেশে ফিরতে চান আয়েষা আক্তার
আলিপুরদুয়ার: আট বছর কেটে গিয়েছে। হারিয়ে ফেলেছিলেন স্মৃতিশক্তি। মনে পড়ছিল না বাড়ির ঠিকানা। কথাও বলতে পারছিলেন না। অবশেষে বাড়ির ঠিকানা মনে পড়েছে। আর তাতেই সামনে এল, বাংলাদেশি মহিলার ভারতের অনুপ্রবেশের কথা। পরিবারের কথা। এখন আলিপুরদুয়ারের একটি শেল্টার হোম থেকে বাড়ি ফিরতে উদগ্রীব বছর সাঁইত্রিশের আয়েষা আক্তার। কিন্তু, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসন তাঁকে বাংলাদেশে ফেরাতে পারছেন না।
জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের কোনও সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলেন বাংলাদেশের কুমিল্লার আয়েষা আক্তার। সেই সময় জটিল রোগে ভুগছিলেন। অপারেশন করতে হবে। কিন্তু মাঝপথে ঢুকে পড়েন ভারতের মাটিতে। উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরছিলেন। বছর আটেক আগে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটে তাঁকে ইতস্তত ঘুরতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা হেভেন শেল্টার হোমে নিয়ে যান। সেই থেকে আয়েষার ঠিকানা হেভেন শেল্টার হোম।
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলায় হেভেন শেল্টার হোমে অন্য আবাসিকদের মতো তাঁর শুশ্রূষা শুরু করেন শেল্টার হোমের কর্ণধার সাজু তালুকদার। শুরু হয় মানসিক চিকিৎসা। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন আয়েষা। পুরনো দিনের কথা তাঁর মনে পড়ে। তখনই জানা যায়, আয়েষা বাংলাদেশের নাগরিক। যেহেতু আয়েষা বাংলাদেশি, তাই সাজু আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশীর দ্বারস্থ হন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ। যদিও বীরপাড়ার থানার পুলিশ আয়েষার বাড়ির ঠিকানা উদ্ধার করেন। পুলিশ তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তাঁর বাবা অসুস্থ। একবার দেখতে চান হারানো মেয়ে আয়েষাকে।
এই খবরটিও পড়ুন
আয়েষা এদিন হেভেন শেল্টার হোমে গানের সঙ্গে নেচে মাত করিয়ে দেন আবাসিকদের। তিনি টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “আমি বাড়ি ফিরতে চাই। সবাইকে দেখতে ইচ্ছে করে। বাবা মাকে দেখতে চাই। আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠালে ভাল হয়।”
গানের তালে নেচে শেল্টার হোমের বাকি আবাসিকদের মন জয় করে নিলেন আয়েষা আক্তার
হেভেন শেল্টার হোমের কর্ণধার সাজু তালুকদার বলেন, “এই হেভেন শেল্টার হোমে আয়েষা প্রায় আট বছর ধরে আছে। ও মানসিক রোগী ছিল। চিকিৎসার পর ওর স্মৃতিশক্তি ফিরে এসেছে। যখন ও বাংলাদেশের কথা বলেছে তখন আমি ভয় পেয়ে যাই। যোগাযোগ করি আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপারের সঙ্গে। থানাকেও বিষয়টি জানাই। পুলিশ বাংলাদেশে তাঁর পরিবারে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, আয়েষারা ছয় ভাই ও তিন বোন। আয়েষা না ফেরায় ওরা ভেবেছিলেন আয়েষা আর বেঁচে নেই। ওর মা ও দাদা মারা গিয়েছেন। তবে সেকথা আয়েষাকে জানানো হয়নি।”
তিনি আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ১১ বছর ধরে নিখোঁজ আয়েষা। তবে এই শেল্টার হোমে ৮ বছর আগে তাঁকে আনা হয়। বাড়ির লোকের আবেদনের ভিত্তিতে আয়েষাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সংকটজনক হওয়ায় সবকিছু আটকে গিয়েছে। ফলে আয়েষা কবে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না সাজু তালুকদার।
