Maldah: একটা লোকসভা কেন্দ্রেই ৪২ হাজার ভূতুড়ে ভোট, প্রত্যেকেই নাকি বাংলাদেশি! চমকে ওঠার মতো সার্ভে রিপোর্ট – Bengali News | Maldah 42,000 ghost votes in one Lok Sabha constituency! Shocking survey report
মালদহে ভূতুড়ে ভোটারImage Credit source: TV9 Bangla
মালদহ: একটা লোকসভা কেন্দ্র। সেখানেই ৪২ হাজার ভূতুড়ে ভোটার! বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির। উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের ঘটনা। বিজেপির একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই ভূতুড়ে ভোটার খুঁজতে ময়দানে নেমেছে। তাঁরা সার্ভে করে নিয়েছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, কেবলমাত্র উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রেই ৪২ হাজার ভূতুড়ে ভোটার রয়েছে।
আব্দুল জব্বার, আব্দুল খালেক, আব্দুল বারেক, আলাদাব হুসেন, আব্বাস আলি, আনো বেগম,আব্দুল হান্নান- সকলেই চাঁচলের বাসিন্দা। অন্তত কাগজে কলমে সেটাই দেখা যাচ্ছে। যদিও তাঁদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন আরও অনেক নাম রয়েছে। সকলেই সংখ্যা লঘু। ব্যক্তি এক, কাগজে কলমে তাঁদের বাবার নামও এক, কিন্তু এপিক নম্বর আলদা আলাদা। ঠিক এইভাবেই একটা লোকসভা কেন্দ্রে প্রায় ৪২ হাজার ভুয়ো ভোটারের হদিশ মিলল।
বিজেপি দাবি, তাঁদের সকলেই সংখ্যালঘু, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। দলীয় স্তরে তদন্ত করে তালিকা তৈরি। নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে। উত্তর মালদা লোকসভা কেন্দ্রেই হরিশ্চন্দ্রপুরের রসিদাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন লাভলি খাতুন। যিনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে অভিযোগ। আর সেই লোকসভা কেন্দ্রেই ৪২ হাজার ভুয়ো ভোটারের সন্ধান মিলল। চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া মালতিপুর, ওল্ড মালদহ, গাজোল, হবিবপুর। এই সাতটি বিধানসভা নিয়ে উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্র। আর প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ছয় হাজার করে ভূতুড়ে ভোটার।
বিজেপির অভিযোগ, তাঁরা সকলেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। গত লোকসভা ভোটের সময় থেকেই বিজেপির বিশেষ প্রতিনিধি দল সার্ভে করে। যে সার্ভে এখনো চলছে। শুধু বিজেপি দলগতভাবেই নয়, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা স্বংস্থাও এই নিয়ে তদন্ত করছে। সব মিলিয়ে যার রিপোর্ট চমকে দেওয়ার মতো। বিশেষ করে চাঁচল, হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া এই তিন বিধানসভা কেন্দ্র উগ্র মৌলবাদীদের সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নজরে ছিলই।
গোয়েন্দা সূত্রে রিপোর্ট ছিল, এই সব বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু গ্রামে উগ্র মৌলবাদীদের বৈঠক হচ্ছে। যাঁরা করছে তাঁরা একসময়ের সিমির সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রত্যক্ষভাবে। তাঁদের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এই সব এলাকায় নিয়মিত আসে।
বিজেপির বিশেষ প্রতিনিধি দল সার্ভে করে যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র উত্তর মালদাতেই ৪২ হাজার ভূতুড়ে ভোটার। যাঁরা বাংলাদেশি বলে দাবি বিজেপির। এক ব্যক্তির বহুবার নাম। বাবার নামও এক। অথচ এপিক নম্বর আলদা।
প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি ভুল করে এমন হয়েছে? এই ব্যাখ্যার খোঁজে আবার সার্ভে হয় সেই সব ব্যক্তিদের ঠিকানা খুঁজে। দেখা যায়, সেই ঠিকানায় সেই ব্যক্তিদের কোনও অস্তিত্বই নেই। বিজেপির দাবি, পরিকল্পনা করেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা এদেশে এসে কখনও বাবার এক রেখে বা পরিবর্তন করে এক একজন ব্যক্তি একাধিক এপিক কার্ড বানিয়েছে। একই ব্যক্তি বিভিন্ন বিধানসভায় গিয়ে একাধিকবার ভোট দিয়েছে, আগামীতেও সেভাবে দেওয়ারই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল পরিকল্পনা করেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে ভোট দেওয়াচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই ভূতুড়ে ভোটারের বিষয়টি অস্বীকার করতে পারে নি। তবে বিজেপির অভিযোগ মানতে নারাজ।
এ প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেন, “ওখানে যাঁরা মাইগ্রেন্ট পিপল, তাঁরা পূর্ব পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন, ‘৭১ সালের আগে ও পরে। ওখানে আদি লোক রয়েছে। কয়েকজন রাজবংশীও রয়েছে। কিছু নমঃশূদ্র রয়েছে। যেটুকু দেখেছি, ওরা বিজেপিকেই ভোট দেয়। তাহলে আগে কেন নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানায়নি?”
বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “রাজ্য নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশনারের আন্ডারে কাজ করে। জেলায় জেলায় বিডিও, এসডিও-রাই নাম তোলা, নাম বাদ দেওয়ার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বাংলায় দেখা যাচ্ছে হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সেটা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল।”
