লড়াই করে বেতন আদায় করেছিলেন যে দুই শিক্ষিকা, তাঁরাই নাকি ‘ছাত্রদের যৌনাঙ্গ দেখতেন’?, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

লড়াই করে বেতন আদায় করেছিলেন যে দুই শিক্ষিকা, তাঁরাই নাকি ‘ছাত্রদের যৌনাঙ্গ দেখতেন’?, বাংলার মুখ

Spread the love

মুর্শিদাবাদের দু’টি প্রাথমিক স্কুলের দুই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিকৃত যৌন হেনস্থার অভিযোগে দায়ের হয়েছে মামলা। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ হল, তাঁরা নাকি খুদে ছাত্রদের পোশাক খুলতে এবং তাদের যৌনাঙ্গ দেখাতে বাধ্য করতেন!

এই ঘটনা সামনে আসার পর শিক্ষামহলে যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই দানা বেঁধেছে রহস্য। কারণ, সম্প্রতি বহরমপুর পুরসভার বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি লড়াই জিতেছিলেন এই দুই শিক্ষিকা। আদালতের রায়ের জেরে পুর কর্তৃপক্ষ এই দু’জনের আটকে রাখা বেতন মেটাতে বাধ্য হয়েছিল।

দুই শিক্ষিকার দাবি, তাঁরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসম লড়াইয়ে বারবার জমিতেছেন বলেই নোংরা ও ভুয়ো ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে তাঁদের। পুরোটাই আসলে চক্রান্ত। দুই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের সহকর্মীরাও।

ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, ওই দুই শিক্ষিকা যে দু’টি প্রাথমিক স্কুলে চাকরি করেন, সেই দু’টি স্কুলই বহরমপুর পুরসভা দ্বারা পরিচালিত। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল, গত লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ওই দুই শিক্ষিকার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাঁরা কর্তব্যে গাফিলতি করেছেন।

বিষয়টি নিয়ে সাহায্যের আশায় এলাকার প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর দ্বারস্থ হন দুই শিক্ষিকা। অধীর সমস্যা মেটানোর দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লেখেন। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হয়নি।

এরপর একপ্রকার বাধ্য হয়েই দুই শিক্ষিকা কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রুজু করেন। সিঙ্গল বেঞ্চ শিক্ষিকাদের পক্ষে রায় দেয় এবং বহরমপুর পুরসভাকে দুই শিক্ষিকার বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে বলে। এই রায় চ্যালেঞ্জ করে পুর কর্তৃপক্ষ ডিভিশন বেঞ্চে আপীল করে এবং সেখানেও হারে। ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখে। ফলে দু-দু’বার আইনি লড়াইয়ে হেরে পুর কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষিকাকেই তাঁদের প্রাপ্য বেতন মিটিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

এই প্রেক্ষাপটে দু’টি স্কুলেরই কয়েকজন ছাত্রের অভিভাবক হঠাৎ দাবি করেন, ওই দুই শিক্ষিকার তাঁদের সন্তানদের যৌন হেনস্থা করেছেন। যার জেরে দু’জনের বিরুদ্ধে পকসো আইন অনুসারে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পুলিশ তার তদন্তও শুরু করেছে।

কিন্তু, শিক্ষিকাদের মধ্যে একজনের স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আদালতে এ নিয়ে মামলা রুজু হলে তিনি কোনও মন্তব্য করবেন না। তবে, আজ পর্যন্ত তাঁর কাছে অন্তত কোনও অভিভাবক এমন কোনও অভিযোগ জানাননি।

অন্য শিক্ষিকার এক সহকর্মী বলেন, ওই শিক্ষিকা এমন করতে পারেন, এটা তাঁর বিশ্বাস হচ্ছে না। বরং, তাঁর মনে হচ্ছে কোথাও একটা গন্ডগোল হচ্ছে। আর, অভিযুক্ত দুই শিক্ষিকাই জানিয়েছেন, তাঁরা এর বিরুদ্ধেও আইনি পথে লড়াই করবেন।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *