গোপনে ধর্মবদলের অভিযোগ, ধুন্ধুমার পাঁশকুড়ায়, পালটা দাবি অভিযুক্তদেরও, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

গোপনে ধর্মবদলের অভিযোগ, ধুন্ধুমার পাঁশকুড়ায়, পালটা দাবি অভিযুক্তদেরও, বাংলার মুখ

গোপনে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গ্রামেরই দুই বাসিন্দার বাড়ি। তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ – ওই বাড়ির সদস্যরা নাকি এলাকায় খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার করছেন।

অন্যদিকে, সেই বাড়ির বাসিন্দাদের বক্তব্য, গত ১২ বছর ধরে তাঁরা যীশুর আরাধনা করেন এবং সেটা একেবারেই ব্যক্তিগতভাবে নিজেদের বাড়ির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু, এখন হঠাৎ করে এলাকার কিছু মানুষ তাঁদের ধর্মাচারণ করতে বাধা দিচ্ছেন।

পূর্ব মেদিনীপুরের একটি গ্রামের এই ঘটনা ঘিরে রীতিমতো হুলুস্থূল কাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। তাদের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার যে ভিডিয়ো হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার হাতে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে – ঘটনাস্থলে জড়ো হওয়া একদল যুবক একটি বাড়ির উঠোনে প্লাস্টিকে মুড়ে রাখা একটি তুলসী মঞ্চ খুলে ফের সেটির মধ্যে মাটি দিয়ে তাতে তুলসীর চারা রোপণ করে দেন।

মারমুখী এই যুবকদের এবং একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, এই দু’টি বাড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরেই খ্রিস্ট ধর্মের প্রচার করা হচ্ছে। সোমবার এই বাড়িতে বাইরে থেকে কয়েকজন মহিলা আসেন। তাঁরাও নিজেদের যীশুর উপাসক বলেই দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র খ্রিস্ট ধর্ম মতে উপাসনা করার জন্যই এই গ্রামের কয়েকশো লোক তাঁদের উপর চড়াও হন।

অন্যদিকে, সমরেশ ঘড়া নামে এলাকার বাসিন্দার দাবি, তাঁরা সনাতন ধর্মের পক্ষে কথা বলায় তাঁদের মারধর করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আক্রান্ত দু’টি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবারের সদস্য দীপালি ঘড়া। তাঁর অভিযোগ, হঠাৎ করেই তাঁদের উপর এই আক্রমণ শুরু হয়েছে। অথচ, তাঁরা গত ১২ বছর ধরে যীশুর উপাসনা করছেন। তার জন্য এত দিন কোথাও কোনও সমস্যা হয়নি।

দীপালির প্রশ্ন, যেখানে তাঁরা মাত্র কয়েকজন মহিলা বাড়িতে রয়েছেন, সেখানে তাঁরা কীভাবে মারমুখী কয়েকশো লোককে মারধর করতে পারেন? উলটে তাঁর দাবি, এদিন বাইরে থেকে কয়েকজন মহিলা তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, যাঁরা খ্রিস্টের উপাসক বলে নিজেদের দাবি করেছেন, তাঁদেরই বরং মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু, পুলিশ সময় মতো এসে যাওয়ায় তেমন কোনও অঘটন ঘটেনি। এবং পুলিশই বাইরে থেকে আসা ওই মহিলাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এদিন যে গ্রামের কয়েকশো লোক এই দু’টি বাড়িতে চড়াও হয়েছিল সেকথা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন সান্ত্বনা ঘোষ নামে গ্রামেরই এক প্রৌঢ়া। তাঁর সাফ কথা, তাঁরা এই এলাকায় সনাতন ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মাচারণ করতে দেবেন না! সমরেশ ঘড়া নামে অপর এক ব্যক্তিও জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের এই এলাকায় সনাতন ধর্ম মতেই চলতে চান। অন্য কিছু চান না।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *