BSF: হাসিনার পতনের পর কতবার বাংলাদেশিরা BSF-কে আক্রমণ করেছে? রিপোর্ট জানলে চমকে উঠবেন – Bengali News | How Many Times Bangladesh Attacked BSF After seikh Hasina’s Fall
কলকাতা: সালটা ২০২৪। অগস্ট মাসে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন। গোটা বাংলাদেশ জুড়ে টালমাটাল পরিস্থিতি। ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর। নিগ্রহ-নিপীড়নের গুচ্ছ-গুচ্ছ অভিযোগ। সে দেশে বিভিন্ন অংশে চলছে তাণ্ডবলীলা। অশান্তির আঁচ পড়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়েও। কিন্তু কতটা আঁচ পড়েছে? তা শুধুমাত্র বিএসএফের (BSF)-এর দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের রিপোর্টেই প্রমাণিত।
দেখা যাচ্ছে, গত বছরের ৫ অগস্ট থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিএসএফ জওয়ানদের উপরে অনুপ্রবেশকারী এবং পাচারকারীরা হামলা করেছে ৮৭৭ বার। হাসিনা সরকারের পতনের আগে অর্থাৎ গত বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল ১৫০ টির কাছাকাছি। ভারতীয় ভূখণ্ডে যেনতেন প্রকারে প্রবেশের আগ্রাসী মনোভাব হামলার ঘটনা বাড়িয়েছে বলে দাবি।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, শুধু জানুয়ারি মাসেই এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে হামলার ৬৫ শতাংশ ঘটনা।নভেম্বর এবং ডিসেম্বর জুড়ে সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের বেপরোয়া মনোভাব বৃদ্ধি পায়। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, জওয়ানদের উপর হামলার ৩০ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে এই দু’টি মাস জুড়ে।
দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের অন্তর্গত মালদহ এবং মুর্শিদাবাদে সব থেকে বেশি জওয়ানদের উপরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তথ্য বলছে, শুধুমাত্র এই দু’টি জেলায় হামলার প্রায় ৫৫০-র বেশি অভিযোগ এসেছে। রক্তাক্ত হয়েছেন জওয়ানরা। ভারতের কোপে বেশ কয়েকটি ঘটনায় গুরুতর যখন জওয়ানদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।
বিএসএফের রিপোর্ট বলছে, অনুপ্রবেশকারী এবং পাচারকারীরা যে ধরনের ধারাল অস্ত্র এই ব্যবহার করে, তাতে গুলি চালিয়ে তাদের পরাস্ত করতে হয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৫ অগস্ট থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাণঘাতী বন্দুক দিয়ে গুলি চালাতে হয়েছে ২৬৬ বার। প্রাণঘাতী নয়, তবে অনুপ্রবেশ এবং পাচারকারীদের হাত থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাঁচানোর জন্য নন ল্যাথাল বা পাম্প অ্যাকশন বন্দুক দিয়ে ৩৪৪ বার গুলি চালাতে হয়েছে। ভয় দেখাতে ব্ল্যাঙ্ক ফায়ার করতে হয়েছে ২৬৭ বার।
বাংলাদেশের ভূ-খণ্ড এখন মৌলবাদী সংগঠনগুলির হাতে রয়েছে। বারবার কট্টর মৌলবাদী সংগঠনগুলির সীমান্তে হামলার হুমকি এবং বিএসএফ জওয়ানদের মারধরের উস্কানি অনুপ্রবেশকারী এবং পাচারকারীদের বেপরোয়া করে তুলেছে। বিএসএফের রিপোর্ট বলছে, অনুপ্রবেশকারী এবং পাচারকারীরা, নিজেদের কার্য সফল করার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলির ধরণও পাল্টে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয় সীমান্তর রক্ষী জওয়ানদের জীবনের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে হয়েছে।
