Bangladesh Women Security: শাওন, সাবা…মুক্তমনা মেয়েদের ডানা ছাঁটতে চাইছে ইউনূস? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Bangladesh Women Security: শাওন, সাবা…মুক্তমনা মেয়েদের ডানা ছাঁটতে চাইছে ইউনূস?

Spread the love

Bangladesh Women Security: শাওন, সাবা…মুক্তমনা মেয়েদের ডানা ছাঁটতে চাইছে ইউনূস?

‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করার অভিযোগে ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রখ্যাত বাংলাদেশী অভিনেত্রী, গায়িকা তথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিএমপি – ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেফতার করে তাঁকে।

কেবল শাওন একা নন, যে মুহূর্তে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করার চেষ্টা করেছেন কেউ, সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রের রোষের খাঁড়া নেমে এসেছে তাঁর উপরে। দু’দিন আগেই শাওনের মতো একই ভাবে ‘রাষ্ট্র দ্রোহের অভিযোগ’ এনে গ্রেফতার করা হয়েছে অভনেত্রী সোহানা সাবাকেও। তারপর থেকে আর কোনও খবর পাওয়া যায়নি দুই অভেনেত্রীর। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের রোষ কি বেছে বেছে শুধু সেই সব ব্যক্তির উপর পড়ছে যাঁরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে? আরও ভাল ভাবে বললে সেই সব মহিলাদের উপরে পড়ছে যাঁরা ইউনূস সরকারের সঙ্গে সহমত পোষণ করছে না? ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ করা দুই অভিনেত্রীর গ্রেফতারি নিয়ে কেন এত প্রশ্ন উঠছে? তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে গত কয়েক মাসের ঘটনাক্রমের মধ্যেই।

কী কী অভিযোগ রয়েছে শাওনের বিরুদ্ধে? বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার দাবি, বাংলাদেশের মধ্যে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করে, মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটানোর নানা চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সেই ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন শাওন।

গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, আওয়ামী লীগ এবং ছাত্র লীগের বেশ কয়েকটি গোপন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাওন। এমনকী সাংস্কৃতিক জগতেও আওয়ামী পন্থী কলাকুশলীদের একত্রিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁর উপরেই।

মূলত চারটি অভিযোগের কথায় বলা হয়েছে পুলিশের তরফে। প্রথমত, বাংলাদেশকে বিভিন্ন ভাবে অস্থিতিশীল করে তোলার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক জগতের আওয়ামী পন্থীদের একত্রিত করার দায়িত্ব রয়েছে শাওনের উপরে।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে বসে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন তিনি।

তৃতীয়ত, নাশকতার পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছেন শাওন।

চতুর্থত, সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের উপর হামলা করার জন্য ইন্ধন জোগাচ্ছেন তিনি।

প্রশ্ন উঠছে এত সাহস কোথা থেকে পাচ্ছেন তিনি? আসলে কে মেহের আফরোজ শাওন?

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী হওয়ার দরুণ ইউনূস সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা আস্রিফ নজরুলের শ্বাশুরি তিনি। কিন্তু তাহলে তিনি ইউনূস সরকারের বিপক্ষে ষড়যন্ত্রের কথা কী করে এল?

রাজনীতির অঙ্ক রয়েছে এখানেও। শাওন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আলী এবং প্রাক্তন সংসদ তহুরা আলির কন্যা।

ঢাকা ট্রিবিউনের আরেকটি প্রতিবেদনে অনুসারে, ৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধেবেলা সাড়ে ৬টা নাগাদ জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি রেলস্টেশন এলাকায় তাঁর বাবার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরে নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে শাওন লেখেন, “ভয় পেয়েছো বাচ্চারা?” সেই পোস্টের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

শাওনের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে বিগত কয়েক দিনের কিছু ঘটনা দেখে, একটাই প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার! তা হল, যে ইউনূস বারবার নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলেন, সেই তাঁরই রাজত্বে বাস্তবে কতটা সুরক্ষিত মহিলারা? বাংলাদেশে মহিলাদের বাক স্বাধীনতা সত্যিই কি আছে? কেন এই প্রশ্ন উঠছে?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, শাওনের গ্রেফতারিকে যাঁরা নিছক ‘রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের’ ঘটনা বলে ধরে নিচ্ছেন তাঁদের আরও কিছু বিষয় ভেবে দেখা দরকার। মেহের আফরোজ শাওন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নয়। সমাজে তাঁর কথার একটা দাম রয়েছে, তাঁর নিজস্ব অনুগামী রয়েছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। সুতরাং, এই ধরনের কন্ঠ যদি মুক্ত থাকে তা ইউনূসের জন্যই বিপদজনক।

শুধু শাওন নয়, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই পরিপ্রেক্ষিতে সমগ্র বাংলাদেশে মহিলাদের পরিস্থিতিকেই তুলে ধরছেন। একাংশের দাবি গোটা বাংলাদেশে মহিলারা যে খুব ভালো অবস্থায় রয়েছেন তা বলা যায় না। ৬ তারিখ শাওনের পরই ৭ তারিখ একই অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে গ্রেফতার করা হয় অভিনেত্রী সোহানা সাবাকেও।

কী বলছেন তসলিমা নাসরিন? 

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিন জানান, বাংলাদেশে ধর্মের নামে মহিলাদের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। তাঁর মতে বিভিন্ন কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি শরিয়ত আইন প্রণয়ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলাদের উপর জারি করা ড্রেস কোড তারই প্রমাণ বলে জানান তসলিমা।

এই প্রসঙ্গে আরও দুটি ঘটনার কথা না বললেই নয়। কিছুদিন আগে জয়পুরহাট ও রংপুর জেলার মহিলাদের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। মহিলা হয়ে কেন ফুটবল খেলবে? মহিলাদের ফুটবল খেলার বিরোধীতা করতে মিছিল করে মাঠে গিয়ে অশান্তি সৃষ্টি করে কিছু কট্টরপন্থীরা। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে সেই ম্যাচ বাতিল করতে বাধ্য হয় কতৃপক্ষ।

বাংলাদেশের জাতীয় মহিলা ফুটবলের দলের সদস্যরা বার বার ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে মানসিক হেনস্থা, দুর্ব্যবহার ও বিভাজনের অভিযোগ আনলেও, ফের তাঁকেই কোচ হিসাবে বহাল রাখা হয়েছে। যার পরে মাঠে না নামার ডাক দিয়েছে মহিলা ফুটবল দলও।

কয়েকদিন আগেই আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনা এবং শেখ মুজিবর রহমানের অবদানের ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে ৩২ ধানমন্ডির বাড়িতে চড়াও হন বেশ কিছু উন্মত্ত জনতা। প্রথমে অগ্নিসংযোগ পরে, জেসিবি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় সেই বাড়ি। বাড়ি যখন ভাঙা চলছে তখন দুই মহিলা ছুটে আসেন প্রতিবাদ জানাতে। বার বার অনুরোধ করেন ইতিহাস ধ্বংস না করার। কিন্তু প্রকাশ্য রাস্তায় ক্যামেরার সামনে সেই মহিলার উপর চলে অকথ্য অত্যাচার। কটুক্তির সঙ্গে ওই মহিলাকে চুলের মুঠি ধরে রাস্তায় ফেলে মারা হয়।

প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশে নারী স্বাধীনতা – 

লেখিকা তসলিমা নাসরিন কিছুদিন আগেও ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে জানিয়েছিল, কী ভাবে মহিলাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বাংলাদেশে। মহিলাদের বাজারে যাওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়। সেই ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল মাইক হাতে নিয়ে মহিলাদের বাজারে যাওয়া নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করছে কিছু কট্টরপন্থী নেতা।

এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে সরকার শক্ত হাতে তার প্রতিরোধ করবে। এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে ইউনূস সরকারকে বারবার ‘ঠুঁটো জগন্নাথে’র ভূমিকাতেই দেখা গিয়েছে।

দেশের মুখ উজ্জ্বল করা ফুটবল দলের সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি সরকার। প্রকাশ্য রাস্তায় যখন বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙা হচ্ছিল, বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েই অসম্মানিত করা হচ্ছিল এক মহিলাকে তখনও কোথাও চিহ্নমাত্র ছিল না ইউনূসের পুলিশ-প্রশাসনের।

যা দেখেশুনে রীতিমত স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশে মহিলাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের অবক্ষয় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

মহিলাদের বিরুদ্ধে যেন প্রতিনিয়ত বাংলাদেশে অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে। হিযবুত তাহরীর এবং জামাত-ই-ইসলামির মতো মৌলবাদী দলগুলো দাপট বাড়ছে। যার পরে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মত, এখনই যদি এই ধারাকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে বাংলাদেশে অদূর ভবিষ্যতে নারীদের বাক-স্বাধীনতা এবং সম্মান উভয় প্রশ্নের মুখে পড়বে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *