কেউ পূণ্যের মোহে, কেউ ফ্রিতে ‘সেবা’-আনলিমিটেড তরকারি, কীসের টানে গঙ্গাসাগর?, বাংলার মুখ - 24 Ghanta Bangla News
Home

কেউ পূণ্যের মোহে, কেউ ফ্রিতে ‘সেবা’-আনলিমিটেড তরকারি, কীসের টানে গঙ্গাসাগর?, বাংলার মুখ

Spread the love

সব তীর্থ বার বার গঙ্গাসাগর একবার। তবে অনেকেই আছেন যাঁরা বার বার এই গঙ্গাসাগরের টানে ছুটে আসেন। ডানকুনি থেকে এসেছিলেন মাঝবয়সিদের একটি দল। দল বেঁধে গঙ্গাসাগর। তবে পূণ্যস্নানের আগেই ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। আগেই ফিরে যাচ্ছেন?

প্রশ্ন করতেই হেসে ফেললেন সেই টিমের এক সদস্য। তিনি বলেন, মেলার সময় খুব ভিড় হয়। সেকারণে আগেভাগে ঘুরে গেলাম। আগে থেকে ঘর বুক করেছিলাম বলে কিছুটা খরচ কমেছে। ১০০০ টাকা করে দিতে হয়েছে একটা ঘরের জন্য। লঞ্চের ভাড়াও ডবল। স্থানীয়দের জন্য ৪০ টাকা আর তীর্থযাত্রীদের জন্য ৮৫ টাকা করে লাগছে।

দিল্লির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক থেকে এমবিএ পাশ করা কলকাতার তরুণী সব রাস্তা মিলেছে গঙ্গাসাগরে। কীসের টানে আসেন?

প্রশ্নের জবাব তো পরে। দিল্লির ওই টিমের পালটা প্রশ্ন, দিদি এখানে ব্রিজ করবে শুনলাম। সেটা কবে হবে? কতদিন সময় লাগবে? তখন কি একেবারে গাড়িতে করে চলে আসা যাবে গঙ্গাসাগরে? গঙ্গাসাগরে ব্রিজ তৈরি পরিকল্পনার বিষয়টি কানে গিয়েছে ভিনরাজ্যের পূণ্যার্থীদের কাছেও। অত্যন্ত উৎসাহী তাঁরা গোটা বিষয়টি নিয়ে।

 

ভক্তদের লাইন
ভক্তদের লাইন

গঙ্গাসাগর যাওয়ার পথে অনেকেই বলেন, আগে এত কিছু ব্যবস্থা হত না। সাধুদের ছোট ছোট আখড়া বসত। অত্যন্ত কষ্ট করে মানুষ গঙ্গাসাগরে আসতেন। সেখানেই রান্না করে খাওয়া দাওয়া। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্য়েই কোনও রকমে খড়ের উপর শুয়ে থাকা। তবে এখন অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। বিরাট বিরাট তাঁবু করেছে সরকার। সেখানে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁইটা মিলছে।

রাজারহাট থেকে গিয়েছে একটি পরিবার। শ্বশুর, শাশুড়িকে নিয়ে গঙ্গাসাগরে এসেছেন বৌমা। সঙ্গে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া ছাত্র। সেই পড়ুয়ার আবার গঙ্গাসাগরের তুলনায় রাজুদার পরোটার প্রতি বেশি টান। বার বার মা কে বলছে এখানে রাজুদার পরোটা কিন্তু খাওয়াতে হবে। আসলে কেউ আসেন পূণ্যের টানে, কেউ নিছক বেড়াতে।

গঙ্গাসাগরের পথে।
গঙ্গাসাগরের পথে।

ঢোলা থেকে এসেছেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের এক স্বেচ্ছাসেবক। অন্যান্যদের খাওয়ানোর দায়িত্বে তিনি। সংঘের ঠিক করে দেওয়া ইউনিফর্ম পরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। লক্ষ্মীকান্তপুরের শ্য়ামল নস্করও ভারত সেবাশ্রম সংঘের টেন্টে রাত দিন খেটে চলেছেন। তীর্থযাত্রীদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়। আসলে এটাও পূণ্য় অর্জনের একটা অন্যরকম পথ। কেউ মহাস্নান করে পূণ্য অর্জন করেন, কেউ আবার ভক্তদের সেবা করে।

ভিনরাজ্য থেকে এসেছেন বহু সাধু। অঘোরী বাবারা আছেন, কনকনে ঠান্ডায় আছেন নাগা সাধুরাও। আপাতভাবে রাগী মনে হলেও বেশ হাসিখুশি। আশীর্বাদ দিচ্ছেন ভক্তদের। তবে অনেকেই বলছেন নকল হইতে সাবধান!

আর আছে পকেটমার, ছিনতাইবাজরা। তারাও কিন্তু মিশে আছে ভক্তদের ভিড়ে। সাদা পোশাকের পুলিশ নজর রাখছে, কোথায় রয়েছে তারা? তারা তো আর পূণ্যের টানে নয়, ভক্তের পকেট ফাঁকা করতে এসেছে তারা। খুব সাবধান!

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *