Hooghly: ‘সবুজ দ্বীপে’র মধ্যে আস্ত স্কুল, মাঠে ফলানো ফুলকপি-টমেটোতেই পেট ভরছে পড়ুয়াদের – Bengali News | This primary school is a model school in hooghly districts
স্কুলেই চলে সবজি চাষImage Credit source: TV9 Bangla
তারকেশ্বর: নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক। মিড মিলের অনুদানও কম। বলতে গেলে অবস্থাটা বাংলার আর পাঁচটা স্কুলের মতোই। সরকারি অনুদানও ঠিকভাবে এসে পৌঁছয় না। তা সত্ত্বেও এই স্কুল যেন এক আদর্শের গল্প বলছে, তৈরি করছে এক উদাহরণ। হুগলি জেলার ‘মডেল স্কুল’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে তারকেশ্বরের প্রত্যন্ত গ্রামের স্কুল ‘তালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়’।
এই স্কুলে প্রি প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১৫৭ জন পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক শিক্ষিকা চার জন এবং অতিথি শিক্ষক এক জন। ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা অনুপাতে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা কম হলেও পঠন পাঠনে কোনও খামতি নেই বলেই জানাচ্ছেন অভিভাবকরা। স্কুলের হাতে অনেক টাকা না থাকলেও, সাজানো স্কুল দেখলে মন ভাল হয়ে যায়। দেওয়ালে আঁকা ছবি, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের উক্তি।
মিড ডে মিলের বরাদ্দ খুব কম হলেও, সরকারের উপর ভরসা না করেই এই স্কুলের পড়ুয়াদের যথেষ্ট খাবার দেওয়া হয় নিয়মিত। কারণ এই স্কুলের জমিতেই চাষ হয় মিড মিলের শাক সবজি। এমনকী শাক সবজি চাষ করার জৈব সারটাও কিনতে হয় না, সেটাও বানিয়ে নেওয়া হয় স্কুলেই। চাষ করেন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং শিক্ষা কর্মীরাই।
জেলার শিক্ষা কর্তারা অন্যান্য স্কুলগুলির কাছে এই স্কুলকে মডেল স্কুল হিসেবে তুলে ধরেন। শিক্ষক শিক্ষিকারা মনে করেন, এটাই বড় পাওনা। জেলার শিক্ষা দফতর থেকে নির্মল বিদ্যালয় সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে তালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে।
পঠন পাঠন শুধুমাত্র ক্লাসরুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পাঠ্য বইয়ের বিষয় বস্তু আঁকা হয়েছে স্কুলের চার দেওয়ালে। ক্লাস রুমের নাম করণ করা হয়েছে এক একজন মনীষীদের নামে। যেমন কোনও ক্লাসরুমের নাম মাতঙ্গিনী ক্লাস রুম তো কোনও ক্লাস রুমের নাম রবীন্দ্রনাথ ক্লাস রুম। শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের দাবি এতে সহজেই মনীষীদের জীবনী মনে রাখতে পারবে ছাত্র ছাত্রীরা।
এক কথায় বলা যেতেই পারে তালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দানের আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে। রাজ্যের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বেহাল ছবি যখন সামনে আসে, তখন এই স্কুল এক অন্য নজির তৈরি করছে।