মনমোহনের প্রয়াণে চুপ বহু সেলেব, সমাজের ‘তথাকথিত আইকন’দের তুলোধনা অভিষেকের!, বাংলার মুখ
ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণে কেন মুখে কুলুপ দেশের ‘তথাকথিত আইকন’দের? সমাজমাধ্যমে এই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
একদিকে যখন মনমোহনের শেষকৃত্যের স্থান নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির আকচা-আকচি চরমে উঠেছে, ঠিক সেই সময়েই রবিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন অভিষেক। তার ছত্রে ছত্রে রয়েছে ‘তথাকথিত আইকনদের’ প্রতি তাঁর তীব্র সমালোচনা!
অভিষেক লিখেছেন, মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণের পর তাঁকে নিয়ে যেভাবে ‘ক্রীড়া ও চলচ্চিত্র জগতের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন, সেটা একইসঙ্গে শকিং এবং বেদনার। অথচ, এঁদের নাকি প্রায়শই রোল মডেল বলে অবিহিত করা হয়।…’
‘…এঁরা যেভাবে ড. মনমোহন সিংয়ের প্রয়াণ কোনও উচ্চবাচ্য পর্যন্ত করলেন না, সেটা তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চয়ন নিয়েও অত্যন্ত অস্বস্তিকর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। প্রশ্ন তুলছে তাঁদের দায়িত্ববোধ ও সততা নিয়ে।…’
তাঁদের আচরণ দেখে ‘মনে হচ্ছে, তাঁরা হয়তো সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়েই মুখে কুলুপ এঁটেছেন। যেমনটা আজকালকার দিনে বহু তথাকথিত আইকনদের ক্ষেত্রে প্রায় নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা জাতীয় পর্যায়ে কোনও ঘটনা ঘটলেও একইভাবে চুপ থাকেন।’
অভিষেকের বাক্যবাণ এখানেই শেষ হয়নি। তিনি আরও লিখেছেন, ‘নিরুত্তাপ থাকার এই ধরন নতুন কিছু নয়। এই মানুষগুলিই কৃষক আন্দোলনের সময়, সিএএ-এনআরসি (বিরোধী) আন্দোলনের সময় এবং মণিপুরের চলমান দাঙ্গার সময় চুপ থেকেছেন।…’
‘…এমন গুরুতর বিভিন্ন বিষয়ে যাঁরা চুপ থাকছেন, তাঁদের এই আচরণ থেকেই স্পষ্ট, তাঁরা আমজনতার লড়াই থেকে বহু দূরে অবস্থান করেন। অথচ, তাঁরা যে সম্পদ ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তা কিন্তু এই আমজনতার ভালোবাসাই তাঁদের দিয়েছে। তারপরও যখন দেশের সবথেকে বেশি তাঁদেরকে প্রয়োজন হয়, তখন আর তাঁদের পাশে পাওয়া যায় না।’
এই পোস্টে নতুন বছর উপলক্ষে আমজনতার কাছে একটি বিশেষ আবেদনও রেখেছেন অভিষেক। তিনি বলেছেন, ‘যাঁদের কাছে সাহস ও দায়িত্বজ্ঞানের তুলনায় তাঁদের কেরিয়ার ও ব্যক্তিগত আরাম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আসুন, আমরা তাঁদের মহিমান্বিত করা বন্ধ করি।…’
‘…বদলে আমরা তাঁদের সমর্থন করি, যাঁরা সত্যিই এই দেশ এবং এই সমাজের জন্য কাজ করেছেন। যেমন – আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামী, সৈনিক এবং সেইসব ব্যক্তিবর্গ – যাঁরা বৃহত্তর স্বার্থে আত্মনিয়োগ করেছেন।’