Jagaddhatri Puja 2024: শোলার ব্যবহার কীভাবে শুরু হয়েছিল জানেন? – Bengali News | Know the mythological history of shola and daker saj before jagaddhatri puja 2024
পুজো নিয়েই যতই থিমের রমরমা হোক না কেন, জগদ্ধাত্রী পুজোয় আজও অমলীন মায়ের সাবেক মূর্তি। বিশেষ করে চন্দনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর মূল আকর্ষণ হল সুবিশাল উঁচু উঁচু সাবেকি মূর্তি। আর এই মূর্তির পিছনে সাদা অসাধারণ সব ডাকের সাজ। আরও ভাল ভাবে বললে শোলা দিয়ে তৈরি অসাধারণ সব ভাস্কর্য।
কীভাবে শুরু হল শোলার ব্যবহার? কোথা থেকে এল এই শোলা? শোলার বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘এস্কাইনোমিনি অ্যাস্পেরা’। এটি এক ধরনের গাছ। হিন্দু মতে এই গাছকে খুবই পবিত্র বলে মনে করা হয়।
কিন্তু কোথা থেকে এল শোলার ব্যবহার? কী বলছে পুরাণ? কথিত, পর্বতরাজ হিমালয় কন্যা পার্বতী মহাদেবকে বিয়ে করার জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন। শেষে পার্বতীর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বিয়ে করার বর দেন মহাদেব। এদিকে বিয়ের দিন ‘বরে’র বাসনা হল তিনি শ্বেত টোপর পরবেন, তবেই বিয়ে করবেন। মহাদেবের ইচ্ছা বলে কথা। অবশেষে টোপর তৈরির জন্য এগিয়ে এলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা। তিনিই জন্ম দিলেন শ্বেত শুভ্র শোলার। একই সঙ্গে জলাশয়ে জন্ম হল একজন সুকুমার যুবকের। বিশ্বকর্মা সৃষ্ট শোলা দিয়ে হরগৌরীর বিয়ের টোপর এবং মুকুট তৈরি করলেন সেই যুবক। তাঁর হাতের কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান সকল দেব দেবীও। তাঁর নাম হল মালাকার। মনে করা হয় সেই থেকেই মালাকার সম্প্রদায় নাকি এই শোলা শিল্পের ধারক এবং বাহক।
এই খবরটিও পড়ুন
আজও সেই শোলা ব্যবহার করেই জীবিকা নির্বাহ করেন বহু মানুষ। বিয়ে, পুজো থেকে নানা শুভ কাজে ব্যবহৃত হয় শোলার তৈরি জিনিস। এমনকি এই বঙ্গেই পূর্ব বর্ধমানে রয়েছে ‘শোলাগ্রাম’ বনকাপাসি। যেখানে কেবল জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় প্রায় ৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এহাড়াও মুর্শিদাবাদ বা আরও অনেক অংশে এখনও টুকরো টুকরো করে বেঁচে আছে শোলা শিল্প।