Agra: নির্যাতিতা প্রকাশ্য রাস্তায় নগ্ন হওয়ার পর অভিযোগ নিল পুলিশ! – Bengali News | Agra student Reportedly publicly disrobe to demand arrest of alleged rapist, an IITian
লখনউ: আরজি করে তিলোত্তমা কাণ্ড নিয়ে উত্তাল গোটা দেশ। দেশ ছড়িয়ে প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বিদেশের মাটিতেও। প্রকৃত দোষীর শাস্তির দাবির পাশাপাশি সমালোচনার মুখে পড়েছে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা। সুপ্রিম কোর্টও এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। কিন্তু, মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ভরপুর চর্চার মধ্যেও কি এতটুকু বদলেছে দেশের মহিলাদের নিরাপত্তার চিত্রটা? এতটুকু বদলেছে ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে পুলিশের মনোভাব? না, বদলটা অন্তত চোখে ধরা পড়ছে না। না-হলে কি আর ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত করতে প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের সব জামা-কাপড় খুলে নগ্ন হয়ে যেতে হয় নির্যাতিতা কে? শুনলে অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু, ঠিক এমনটাই ঘটেছে যোগী-রাজ্যের আগ্রা শহরে।
নির্যাতিতা আগ্রার এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত কলেজের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রী, বয়স ২০ বছর। আদতে তিনি লখনউয়ের বাসিন্দা। তাঁর কলেজের এক ‘সিনিয়র’-এর বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন যুবতী। অভিযুক্ত সিনিয়রের বয়স ২২ বছর। বর্তমানে জম্মুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে এমটেক করছে। আগে অবশ্য নির্যাতিতা এবং সে একই কলেজ পড়ত। নির্যাতিতার অভিযোগ, ১০ অগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্ত যুবক একটি চলন্ত গাড়িতে তাঁকে ধর্ষণ করেছিল। পরে আগ্রার এক রাস্তায় তাঁকে ফেলে গিয়েছিল অভিযুক্ত। পরদিন, অর্থাৎ, ১১ অগস্টই স্থানীয় থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি এফআইআর-ও নথিভুক্ত করে। তবে, স্থানীয় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা দূর, ঘটনাটিকে বিশেষ গুরুত্বই দেয়নি বলে অভিযোগ। তারা জানিয়ে দেয়, যে সময় ধর্ষণ হয়ছে বলে দাবি করছেন মহিলা, সেই সময় অভিযুক্ত জম্মুতে ছিল।
এরপর, ন্যায়বিচার চেয়ে সতেরো দিন ধরে থানা-পুলিশ করে গিয়েছেন তিনি। প্রায় রোজ থানায় এসে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানান। এক পর্যায়ে পুলিশ তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ঘোষণা করে। সূত্রের খবর, যুবতীকে এক মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠিয়েছিল পুলিশ। তবে সেখান থেকে একদিনের মধ্যেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এতদিন ধরে থানায় ঘুরে ঘুরেও ন্যায়বিচার না পেয়ে হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপরই তিনি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়কার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এক চরম পদক্ষেপ করেন। গত রবিবার, থানার সামনের ব্যস্ত রাস্তায় সব পোশাক খুলে বিবস্ত্র হয়ে যান তিনি। এরপর, চাপে পড়ে ‘অ্যাকশনে’ নামে পুলিশ। মঙ্গলবার, অভিযুক্তকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তর নাম শিবংশ সিং। সে গাজিপুরের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, রবিবারের ওই ঘটনার পর, অভিযুক্ত শিবংশ সিং-কে আরও তদন্তের জন্য আগ্রায় ডাকা হয়। পুলিশ জানতে পারে, গত কয়েক মাস ধরেই নির্যাতিতাকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করছিল অভিযুক্ত। প্রাথমিক তদন্তে অপরাধের সঙ্গে সে জড়িত ছিল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন আদৌ সে জম্মুর ক্যাম্পাসে ছিল কিনা, সেই বিষয়ে আইআইটি-জম্মুর কাছে তথ্যও জানতে চেয়েছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
তবে, এক নির্যাতিতাকে ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত করাতে প্রকাশ্য রাস্তায় বিবস্ত্র হতে হচ্ছে, তা জানাজানি হতেই হইচই পড়ে গিয়েছে আগ্রা এলাকায়। তাঁর বিবস্ত্র প্রতিবাদের প্রত্যক্ষদর্শী এক সমাজকর্মী বলেছেন, “রবিবার বিকেলে ওই মহিলা রাস্তায় নিজের পোশাক খুলে ফেলেছিলেন। তিনি সমানে পুলিশ বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। পথচলতি অনেকে সেই ঘটনার ভিডিয়োও তোলেন। দু’জন মহিলা দ্রুত তাঁর কাছে গিয়ে, কাপড় দিয়ে তাঁকে ঢেকে দিয়েছিলেন। আমরা ধরে নিয়েছিলাম, তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পুলিশকে জানাই, তারা তাঁকে এক মানসিক হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল।” ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় যুবতীকে সেখানে ভর্তি করার পর, তিন দিন তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। কিন্তু, অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার, লখনউ থেকে তাঁর মা এসে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যান।
পুলিশের সাফাই, ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করার আগে, ২৯ জুলাই স্থানীয় থানায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন যুবতী। তবে সেই ক্ষেত্রে তদন্ত করেও কিছু পাওয়া যায়নি। যুবতীর দাবির সমর্থনে কোনও প্রমাণ পায়নি তারা। তাই, তিনি আবার অভিযোগ করায়, তাঁরা মনে করেছিলেন মহিলা মানসিকভাবে অসুস্থ।
আরও খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Tv9 বাংলা অ্যাপ (Android/ iOs)