Olympics, Team India: কাছে গিয়েও…দূরেই! অলিম্পিকে ভারতের আট আক্ষেপ… – Bengali News | Paris 2024 Olympics: So near yet so far India’s tryst with fourth place Olympic heartbreaks
আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। শুরু হতে চলেছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। অলিম্পিক গেমস। প্রত্যাশার সঙ্গে রয়েছে আশঙ্কাও। অনেক ক্ষেত্রেই খুব কাছে গিয়েও অধরাই থাকে পদক। ভারতের ক্ষেত্রেও বহুবার হয়েছে। প্রাপ্তি যেমন রয়েছে, তেমনই অপ্রাপ্তিও। অলিম্পিকের আসরে এখনও অবধি ভারতের সেরা পারফরম্যান্স গত সংস্করণেই। টোকিও অলিম্পিকে সাতটি পদক জিতেছিল ভারত। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ পূরণ করেছিলেন নীরজ চোপড়া। অলিম্পিকের আসরে ব্যক্তিগত ইভেন্টে ভারত একটি মাত্রই সোনা জিতেছিল। শুটিংয়ে সেই পদক জিতেছিলেন অভিনব বিন্দ্রা। কিন্তু আক্ষেপ ছিল ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে সোনার পদক। জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া সোনার পদক জিতে সেই আক্ষেপও দূর করেন। এ বার লক্ষ্য গত বারের পারফরম্যান্স ছাপিয়ে যাওয়া। অন্তত দশটি পদকের লক্ষ্যে নামবে ভারত। লক্ষ্য পূরণের অপেক্ষা এবং প্রত্যাশায় ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা। কিন্তু পদকের কাছে গিয়েও না পাওয়ার যে আক্ষেপ?
এক নজরে জেনে নেওয়া যাক সেই হতাশার ঘটনাগুলো…
- ১৯৫৬, মেলবোর্ন: অলিম্পিক ফুটবলের সেমিফাইনালে উঠেছিল ভারত। তাও আবার কোয়ার্টার ফাইনালে আয়োজক অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে। এশিয়ার প্রথম ফুটবলার হিসেবে অলিম্পিকের মঞ্চে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ভারতের নেভিল ডিসুজা। সেমিফাইনালেও তারই পুনরাবৃত্তির চেষ্টা করেছিলেন নেভিল। যদিও যুগোস্লাভিয়ার কাছে হার। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বুলগেরিয়ার কাছে ০-৩ ব্যবধানে হার ভারতের। কাছে গিয়ে পদক মিস।
- ১৯৬০, রোম: কিংবদন্তি মিলখা সিং। উড়ন্ত শিখ ৪০০ মিটারে অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ পদক মিস করেন। সময়ের মূল্য যে কতটা, এই পদক মিসের আক্ষেপই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ এটিই। তাঁর মতো কিংবদন্তির ঝুলিতে একটি অলিম্পিক পদক থাকলে…।
- ১৯৮০, মস্কো: সে বারের হকির শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন অলিম্পিক বয়কট করেছিল। ভারতীয় মহিলা হকি দলের কাছে দুর্দান্ত সুযোগ ছিল পদক জেতার। যদিও অল্পের জন্য পদক মিস।
- ১৯৮৪, লস অ্যাঞ্জেলস: এই অলিম্পিক যেন রোমের হতাশা মনে করিয়েছিল। বরং এখনও করায়। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে ভারতের দুই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ মিলখা সিং এবং পিটি উষা। ৪০০ মিটার হার্ডলসে পদক মিস হয় পায়োলি এক্সপ্রেসের। ১/১০০ সেকেন্ডের জন্য চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিলেন পিটি উষা।
- ২০০৪, এথেন্স: প্রায় কুড়ি বছর পর ফিরেছিল সেই চতুর্থ স্থানের অভিশাপ। তাও আবার জোড়া ইভেন্টে। ভারত এবং চতুর্থ স্থানের সেই অভিশাপ হতাশা ফিরিয়েছিল টেনিস ও ওয়েট লিফটিংয়ে। ভারতীয় পুরুষ টেনিসে তর্কাতীত ভাবে সেরা জুটি লিয়েন্ডার পেজ ও মহেশ ভূপতি। ক্রোয়েশিয়ার মারিও আনচিচ-ইভান জুবাচিস জুটির কাছে ম্যারাথন ম্যাচে হার। অল্পের জন্য ব্রোঞ্জ পদক মিস। ভারোত্তলনে ৪৮ কেজি ক্যাটেগরিতে নেমেছিলেন কুঞ্জরানী দেবি। তাঁকে অবশ্য় আগে পদকের দাবিদার ধরা হয়নি। তবে শেষ মুহূর্তে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ফাইনাল চেষ্টায় অল্পের জন্য হতাশা। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১১২.৫ কেজির টার্গেট নিয়েছিলেন। পূরণ হয়নি। ব্রোঞ্জ পদকজয়ীর থেকে ১০ কেজি পিছিয়ে ছিলেন কুঞ্জরানী দেবি।
- ২০১২, লন্ডন: বাংলার শুটার জয়দীপ কর্মকারও এই তালিকায় রয়েছেন। লন্ডন অলিম্পিকে ৫০ মিটার রাইফেল প্রোন ইভেন্টে যোগ্যতা অর্জন পর্বে সপ্তম স্থানে ছিলেন জয়দীপ। ফাইনালে ব্রোঞ্জ পদক জয়ীর থেকে ১.৯ পয়েন্টে পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন জয়দীপ কর্মকার।
- ২০১৬, রিও ডে জেনেইরো: কেউ হয়তো প্রত্যাশা করেনি, হঠাৎই তৈরি হয় বড় আশা। জিমন্যাস্টিক্সে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন দীপা কর্মকার। ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করেন দীপা। কিন্তু ০.১৫০ পয়েন্টেসে ব্রোঞ্জ পদক থেকে পিছিয়ে পড়েন ভারতীয় জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার। চতুর্থ স্থানে শেষ করেন তিনি। অল্পের জন্য অলিম্পিকে পদক ও ইতিহাস মিস।
- ২০২০, টোকিও: অলিম্পিকের ইতিহাসে ভারতের সেরা সাফল্য টোকিও অলিম্পিকেই। সাতটি পদক জিতেছিল ভারত। সংখ্যাটা ৯ হতে পারত। ১৯৮০ মস্কো অলিম্পিকের পর আরও একবার ভারতীয় মহিলা হকি দলের কাছে সুবর্ণ সুযোগ ছিল পদক জয়ের। তিন বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ০-১ ব্যবধানে হার। যদিও পদকের আরও একটা সম্ভাবনা ছিল। ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে ৩-২ এগিয়ে ছিল ভারত। যদিও দুটো গোল করে ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে দেয় ব্রিটেন। একইরকম হতাশা ছিল গলফে। চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিলেন ভারতের গলফার অদিতি অশোক।